spot_img
30 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ইং, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

প্রতিমা গড়তে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাস্কররা

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: বল দূর্গা মা কি ? জয়, আসছে বছর? আবার হবে । সিঁদুর খেলা আর কাদামাটির আনন্দ নৃত্যের সাথে মন্দির প্রাঙ্গন যেমন ‍মুখরিত হয়ে ওঠে তেমনি তার সাথে সাথে মায়ের আগমনী বার্তা দিয়ে মা কে বিসর্জনের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার সমাপ্তি হয় ।

প্রতি বছরের ন্যায় বছর এ বছরও উৎসবকে ঘিরে সারাদেশে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। কারণ,পূজার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, অর্থাৎ অক্টোবর মাসের ১ তারিখ থেকে মহাষষ্টী শুরু হয়ে ৫ তারিখ জিয়া দশমীর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শেষ হবে।

যশোর জেলার মণিরামপুর থানার নেহালপুর ইউনিয়ন ঘুরে সরেজমিন দেখা যায়, এই অঞ্চলে মন্দিরে মন্দিরে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। দেবী দুর্গার প্রতিমা ছাড়াও কার্তিক, গনেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন শিল্পীরা। বেশিরভাগ মন্দিরেই কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই ইউনিয়নে মোট ৫টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে ।

তার মধ্যে পাঁচকড়ি গ্রামে দুটি মন্দির এর ভাস্কর অসীম চ্যাটার্জী সুখবরকে বলেন, ‘আমি প্রতিবছর এই অঞ্চলে প্রতিমা তৈরির কাজ করে থাকি। এবার করোনা পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় সবাই ভালোভাবে পূজার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যে কারণে কাজও বেড়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমি এই এলাকায় তিনটি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি।’

কমিটির লোকজনের চাহিদা অনুযায়ী এবার প্রতিমার আকার ও ডিজাইনে ভিন্নতা এসেছে। বর্তমানে আমরা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি করছি। আর দুই-একদিন কাজ করলেই মাটির কাজ শেষ হবে। এরপর প্রতিমা শুকানোর জন্য রেখে দেবো। পূজা শুরুর কয়েকদিন আগে রঙের কাজ শেষ করে কমিটির লোকজনের কাছে প্রতিমা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

অসীম চ্যাটার্জী আরো বলেন, ‘আমার দাদুও আগে এই কাজ করতেন। পরবর্তী সময়ে আমার বাবা এ পেশায় আসেন। এরপর আমি এসেছি। বাবার সময়টা ভালো ছিল। কিন্তু গত দুই বছর করোনা থাকার কারণে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের চলা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আর এক কারিগর বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুই বছর কাজ তেমন না হলেও এবার ভালো কাজ পেয়েছি। কিন্তু দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে উপকরণের দাম। যে উপকরণ গত বছর ১৪ হাজার টাকায় কিনেছি, সেই উপকরণ এবার ২০ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। যে রঙ ১০৫ টাকায় কিনেছি সেটি এখন ১৪০ টাকা হয়ে গেছে। সব উপকরণের দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে প্রতিমার দাম যদি বাড়তো, তাতে আমাদের একটু সুবিধা হতো।’

পাঁচাকড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের কমিটির প্রদীপ কর্মকার ও উদয় শঙ্কর বিশ্বাস বলেন, ‘দুই বছর করোনার কারণে আমরা সীমিত আকারে দুর্গাপূজা উদযাপন করেছি। এবার যেহেতু করোনার তেমন প্রকোপ নেই, তাই ভালোভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করছি আগামী ১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে ৫ অক্টোবর বিজয়াদশমীর মধ্য দিয়ে ভাল ভাবে শেষ হবে।

আমাদের এখানে বরাবরই ভালোভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন করা হয়। কোন প্রকার সমস্যা হয় না।’ তারা আরো বলেন আমাদের বর্তমান চেয়ারম্যান ফারুক হোসন ও স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ঠ আন্তরিক যে কারনে যুগের পর যুগ আমাদের এখানে পূজা উদযাপনে কোন প্রকার সমস্যা হয়না ।

তাছাড়া  নিয়মিতভাবে তারা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারে, এ জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন। পূজা চলাকালীন সময়ে টহল পুলিশ, পোশাকধারী পুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশ সহ গ্রাম পুলিশ, আনসার বাহিনী ও মোতায়েন থাকবে। নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে, সামনের দিনে এটি আরও বাড়বে।’

এসি/

আরো পড়ুন:

এবারের দুর্গাপূজা কবে শুরু? দেবীর গমনাগমন শুভ না অশুভ

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ