Wednesday, December 1, 2021
Wednesday, December 1, 2021
Homeস্বাস্থ্য‘৬৪ জনের উপর’ বঙ্গভ্যাক্সের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

‘৬৪ জনের উপর’ বঙ্গভ্যাক্সের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

danish

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: নৈতিক অনুমোদন মিলেছে, এখন চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই শুরু হবে বাংলাদেশে তৈরি একমাত্র কোভিড টিকা বঙ্গভ্যাক্সের মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ।

আর প্রথম দফায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ৬৪ জন সুস্থ ব্যক্তির উপর প্রয়োগ করে দেখা হবে, তেমন পরিকল্পনাই নেওয়া হয়েছে।

বঙ্গভ্যাক্স মঙ্গলবারই বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা কাউন্সিল (বিএমআরসি) থেকে মানবদেহে প্রয়োগের নৈতিক অনুমোদন পেয়েছে। এরপর এটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর পর গত বছর বিশ্বজুড়ে টিকা তৈরির দৌড় শুরুর পর তাতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকও শামিল হয়।

বেশ কয়েকটি টিকা ইতোমধ্যে সব ধাপ পেরিয়ে প্রয়োগ চললেও প্রাণীদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ‘সাফল্যের’ পর এখন মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর্যায়ে এল।

মঙ্গলবার নীতিগত অনুমোদন হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে গ্লোব বায়োটেকের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, এখন তারা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমতি চাইবেন।

“আমরা ডিজিডিএতে আবেদন করব যে আমরা টিকাটি মানবদেহে প্রয়োগ করতে চাই। উনাদের (ডিজিডিএ) রিভিউ কমিটির অনুমোদন পেলে আমরা এই টিকা মানবদেহে ট্রায়াল করতে পারব।”

কবে নাগাদ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হতে পারে- জানতে চাইলে ড. মহিউদ্দিন বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গত বছরই গ্লোবের কারখানা পরিদর্শন করে টিকা উৎপাদনের লাইসেন্স দিয়েছিল। ফলে প্রয়োগের অনুমতি পেতেও বেশি সময় লাগবে না বলে তারা মনে করছেন।

বঙ্গভ্যাক্স টিকার সিআরও (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ক্লিনিক্যাল রিসার্স অর্গানাইজেশন লিমিটেড।

গ্লোব বায়োটেকের হয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনাকারী দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল মঙ্গলবার বলেন, তাদের নতুন টিকাটির প্রথম ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ৬৪ জনের উপর পরীক্ষা করার অনুমোদন পাওয়া গেছে। আর তা প্রয়োগ করা হবে প্রাপ্তবয়স্কদের উপর, যাদের কোনো রোগ নেই।

“এই স্যাম্পল সাইজ ফাইজার এবং মডার্নার টিকার স্যাম্পল সাইজের সমান। আর ট্রায়ালটা হবে সবর্জনস্বীকৃত হাসপাতালেই।”

চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করতে পারবেন দাবি করে বিএসএমএমইউর এই অধ্যাপক বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের যে পরিকল্পনা, তাতে বিএসএমএমইউতে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে।”

যে কোনো টিকা তৈরির পর ধাপে ধাপে নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগও কয়েক ধাপে করতে হয়। সর্বশেষ মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে তা নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টিবডি তৈরিতে সফলতার মুখ দেখলে তা টিকা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এর আগে বাংলাদেশে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন এবং চীনের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল বায়োলজি অব দ্য চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্স উদ্ভাবিত কোভিড টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছিল বিএমআরসি। তবে কোনোটিরই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরুর খবর মেলেনি।

ফলে বঙ্গভ্যাক্সই হতে যাচ্ছে প্রথম কোভিড-১৯ টিকা, যার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে দেশে।

ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক দেশে করোনাভাইরাসের মহামারী শুরুর পর গত বছরের ২ জুলাই কোভিড টিকা তৈরির কাজ শুরুর কথা জানায়।

এরপর খরগোশের উপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ‘সফল’ হয়েছেন দাবি করে মানবদেহেও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করতে গত জানুয়ারিতে বিএমআরসিতে আবেদন করেছিল গ্লোব বায়োটেক।

তখন বিএমআরসি বানর কিংবা শিম্পাঞ্জির উপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে সংশোধিত আবেদন জমা দিতে বলে। তা মেনে ৫৬টি বানরের উপর পরীক্ষা চালিয়ে এই মাসেই প্রতিবেদন দেয় তারা। এরপরই মিলল নৈতিক অনুমোদন।

ডা. মহিউদ্দিন এর আগে বলেছিলেন, বানরের দেহে বঙ্গভ্যাক্স টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ‘ভালো’পেয়েছেন, মানবদেহেও অনুরূপ ফল পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদী।

তিনি জানান, এই টিকা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১ মাস এবং মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।

গ্লোব বায়োটেক প্রথমে তাদের টিকার নাম দিয়েছিল ‘ব্যানকোভিড’। পরে তা পরিবর্তন করে ‘বঙ্গভ্যাক্স’ রাখা হয়।

কোভিড মহামারী ঠেকানোর লড়াইয়ে সারাবিশ্বেই টিকার চাহিদা বাড়ছে। ভারতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে টিকা তৈরি করেছে, যার প্রয়োগও হচ্ছে।

বাংলাদেশে টিকা কিনে নাগরিকদের দিচ্ছে, এছাড়া কোভ্যাক্স থেকেও বিনামূল্যে টিকা পাচ্ছে।

স্বীকৃত টিকার মধ্যে বাংলাদেশে এই পর্যন্ত প্রয়োগ হয়েছে পাঁচটি টিকা। সেগুলো হচ্ছে যুক্তরাজ্যের অ্যাস্ট্রাজেনেকা, চীনের সিনোফার্ম, সিনোভ্যাক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও মডার্নার টিকা।

আরো পড়ুন:

করোনা চিকিৎসায় ৮০% অ্যান্টিবায়োটিক অপ্রয়োজনে ব্যবহার হয়েছে: আইইডিসিআর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments