spot_img
23 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

৫৬ বছরের অপেক্ষা ঘোচাতে চায় ইংল্যান্ড

- Advertisement -

ক্রীড়া ডেস্ক, সুখবর ডটকম: ৫৬ বছর আগে নিজেদের মাটিতে জেতা বিশ্বকাপ শিরোপাটাই ফুটবলে ইংল্যান্ডের এখন পর্যন্ত একমাত্র অর্জন হয়ে আছে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ববি মুরের দল। আরেকটি বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে ফের শোরগোল–ঘরে ফিরছে ফুটবল।

ব্রিটিশ রক ব্যান্ড দ্য লাইটিনিং সিডস, ডেভিড ব্যাডিয়েল ও ফ্রাঙ্ক স্কিনার মিলে গেয়েছিলেন ‘ইটজ কামিং হোম’ শিরোনামে একটি গান। ১৯৬৬ সালে প্রথমবারের মতো কোনো বৈশ্বিক আসর আয়োজন উপলক্ষে গানটি প্রকাশ করেন তারা। তখন থেকে ইংল্যান্ড ফুটবল দলের কোনো বৈশ্বিক আসরে অংশগ্রহণের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে গেছে এ গান। ইংলিশরা ইউরো বা বিশ্বকাপে খেলতে গেলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম পারলে তাদের হাতে খেলার আগে শিরোপা তুলে দেয়। কিন্তু আসর শেষে ট্রফি আর ফেরে না ইংল্যান্ডে।

সবশেষ দুটি বড় আসরে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও খালিহাতে ফিরেছে ইংল্যান্ড ফুটবল দল। ২০১৮ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হারের পর ২০২০ ইউরোতে ফাইনালে উঠেছিল হ্যারি কেইন-বুকায়ো সাকার দল। কিন্তু ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় থ্রি লায়নদের। কাতার বিশ্বকাপেও শিরোপার স্বপ্ন দেখছে দলটা।

কাতারে অবশ্য ফেবারিটদের তালিকায় আছে ইংল্যান্ড। দুর্দান্ত এক স্কোয়াড নিয়ে কাতারে যাচ্ছে তারা। দলে তারকার ছড়াছড়ি। প্রতি পজিশনেই আছে বিশ্বসেরা তারকাদের ছড়াছড়ি। আছে সাম্প্রতিক সময়ে বড় দুই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা। ইংল্যান্ডের যদি কমতি কিছু থাকে, তবে তা বড় আসরে তাদের ভেঙে পড়ার ইতিহাস। বড় আসরে সেরা দল নিয়ে বারবার চোক করার অভ্যাস যে থ্রি লায়নদের।

ইতিহাস:

বিশ্বকাপের ২২ আসরের মধ্যে ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত ১৬ আসরে অংশগ্রহণ করেছে। ১৯৩০-৩৮ পর্যন্ত প্রথম তিন বিশ্বকাপে ইংলিশরা অংশগ্রহণ করেনি। সে সময় তারা ফিফার সদস্যও ছিল না। ১৯৫০ বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়ে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা। ১৯৬২ আসরে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনলে ওঠা ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জেতে পরের আসরেই। ১৯৬৬ সালে নিজ দেশে আয়োজিত সে আসরের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো খেলায় জিওফ হার্স্টের বিতর্কিত হ্যাটট্রিকে ৪-২ ব্যবধানে জিতে প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র শিরোপা জেতে তারা।

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচের একটি হিসেবে বিবেচিত হয় এই ম্যাচটি। ফকল্যান্ড যুদ্ধের আবহে ঘেরা ম্যাচটিতে দিয়েগো ম্যারাডোনা জন্ম দেন অবিস্মরণীয় দুটি মুহূর্তের। এই ম্যাচে রেফারি ও লাইন্সম্যানদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাত দিয়ে গোল করেন তিনি। গোলরক্ষক ডেভিড সিম্যান টের পেলেও রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়ায় গোলটি বৈধ বলেই ঘোষণা দেন তিনি। পরবর্তীকালে সেই গোলটিকে ম্যারাডোনা আখ্যা দেন ‘হ্যান্ড অব গড নামে’। একই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরবর্তী গোলটি ফুটবলের ইতিহাসেই সবচেয়ে বিখ্যাত। প্রায় মধ্যমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের ছয়জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তিনি গোলটি করেন।

১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ড সর্বোচ্চ সাফল্য পায় ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে। দুবারই চতুর্থ হয় তারা।

বাছাই পর্ব:

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে গ্রুপ ‘আই’-এ ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ছিল পোল্যান্ড, আলবেনিয়া, হাঙ্গেরি, অ্যান্ডরা ও সান ম্যারিনো। ১০ ম্যাচের ৮টিতে জয় ও বাকি দুটিতে ড্র করে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি কাতারের টিকিট পায় ইংল্যান্ড। বাছাই পর্বে ৩৯ গোলের বিপরীতে মাত্র ৩ গোল খায় তারা।

সাম্প্রতিক ফর্ম: বাছাই পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেও বিশ্বকাপের আগে ইংলিশদের দুশ্চিন্তার কারণ তাদের সাম্প্রতিক ফর্ম। উয়েফা নেশন্স লিগের ২০২২-২৩ আসরে লিগ ‘এ’-এর ৩ নম্বর গ্রুপে ৬ ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড ছাড়াও ইতালি, হাঙ্গেরি ও জার্মানিকে নিয়ে গড়া গ্রুপে সমান ৩টি করে ড্র ও হার নিয়ে শীর্ষ লিগ থেকে রেলিগেটেড হয়ে গেছে তারা। এই ছয় ম্যাচে মাত্র ৪ গোল করা ‘থ্রি লায়নস’ গোল হজম করেছে ১০টি!

কোচের পরিকল্পনা ও কৌশল:

২০১৬ ইউরোতে ইংল্যান্ডের ভরাডুবির পর রয় হজসনের জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারেথ সাউথগেট। ক্রিস্টাল প্যালেস, অ্যাস্টন ভিলা ও মিডলসব্রোতে খেলোয়াড়ি জীবন কাটানো সাউথগেট এর আগে সামলেছেন ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচের পদ। খুব বেশি অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজের প্রথম বড় অ্যাসাইনমেন্টে ইংলিশদের নিয়ে বেশ বড় সাফল্য দেখান। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলে ইংলিশরা। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আগে গোল করেও অতিরিক্ত সময়ের গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় তারা। সে বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয় ইংলিশরা।

বিশ্বকাপের পর সফলতা দেখান ইউরোতেও। ২০২০ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলে ইংল্যান্ড। অবশ্য টাইব্রেকারে ইতালির কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সাউথগেটের দলকে।

কোচ হিসেবে সাউথগেট পেয়েছেন দারুণ এক স্কোয়াড। অ্যাটাক থেকে ডিফেন্স সর্বত্রই সময়ের সেরা খেলোয়াড়দের ছড়াছড়ি ইংল্যান্ড দলে। রক্ষণে আছেন জন স্টোনস, হ্যারি ম্যাগুয়ের, বেন চিউয়েল, কাইল ওয়াকার অ্যালেক্সান্ডার আর্নল্ডের মতো তারকারা। মধ্যমাঠেও তারকার ছড়াছড়ি। জ্যুড বেলিংহ্যাম, ডেক্লান রাইস, ম্যাসন মাউন্টরা নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এর মধ্যেই। আক্রমণভাগে তো হ্যারি কেইন সময়ের সেরা স্ট্রাইকারদেরই একজন। এ ছাড়া আছেন ফিল ফোডেন, বুকায়ো সাকা, জ্যাক গ্রিলিশদের মতো তারকাও। সব মিলিয়ে সাউথগেটের হাতে রসদের নেই কোনো কমতি।

তবে কোচ হিসেবে সাউথগেট সমালোচিত তার কৌশলের জন্য। অনেকের মতে, তার ইংল্যান্ডের মতো দলের কোচ হওয়ার যোগ্যতাই নেই। তারকায় পরিপূর্ণ দল নিয়ে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলে থাকেন এই ৫০ বছর বয়সী।

সাউথগেটের দলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দুজন সলিড সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার থাকা। রক্ষণে সতর্ক থেকে বল নিজের দখলে নেয়ার জন্য সবসময় প্রতিপক্ষকে হাই প্রেসিং করে যাওয়াটাই তার কৌশল। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল পাওয়ামাত্র দ্রুত কাউন্টার আক্রমণ শানিয়ে গোল আদায় করে নেয়াটাই লক্ষ্য থাকে তার দলের। মধ্যমাঠের সঙ্গে রক্ষণের একটা দূরত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই সিস্টেমে দুই ফুলব্যাককে পালন করতে হয় অতিরিক্ত দায়িত্ব।

সাউথগেটের দলটা যেমন তারকায় ঠাসা, তেমনই তার দুর্বলতাও অনেক। সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গা রক্ষণভাগ। এই কোচের সবচেয়ে আস্থার ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ের অত্যন্ত ভুলপ্রবণ। প্রায়ই তিনি করেন বড়সড়ো ভুল। যার ফলে গোল খাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। দলে ফোডেন, সাকার মতো প্রতিভাবান ও সৃজনশীল খেলোয়াড় থাকলেও সাউথগেট গৎবাঁধা ফুটবল খেলাতেই পছন্দ করেন। তাই তার কৌশল সহজেই ব্যর্থ করে দিতে পারে গুণগতমান সম্পন্ন দলগুলো। যার প্রমাণ মেলে গত উয়েফা নেশন্স লিগে।

চাবিকাঠি:

ইংল্যান্ড দলের সেরা তারকা টটেনহ্যামের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে সমান উজ্জ্বল কেইন গত বিশ্বকাপে জিতেছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট।

প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এই স্ট্রাইকার বরাবরই ভালো খেলে থাকেন। ইংল্যান্ডের ইতিহাসে যেকোনো তারকার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তার গোল বেশি। টটেনহ্যামের এই গোলমেশিনকে কাতারেও গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই বিশ্বকাপেই তার সামনে সুযোগ থাকছে ওয়েইন রুনিকে ছাড়িয়ে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার।

শুধু গোল করা নয়, হ্যারি কেইন ভূমিকা রাখেন প্লে মেকিংয়েও। প্রথাগত ফক্স ইন দ্য বক্স ঘরানার স্ট্রাইকার না হওয়ায় আক্রমণভাগে যেকোনো পজিশনে খেলতে পারেন তিনি। তার গোল করার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাতারে ইংল্যান্ড দলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা।

নজর কাড়তে পারেন যারা:

ফিল ফোডেন: ইংল্যান্ড দলের তরুণ তারকাদের মধ্যে সাফল্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ফিল ফোডেন। তার বিষয়ে পেপ গার্দিওলার উক্তি আমলে নেয়ার মতো, ‘সে (ফোডেনের) আমার দেখা সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়।’ ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড পাঁচ বছর আগে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়ে প্রথম নজর কাড়েন। ম্যানচেস্টার সিটিতে এরই মধ্যে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়েও সমান উজ্জ্বল তিনি।

বুকায়ো সাকা: আর্সেনালের এই ২০ বছর বয়সী তারকা ক্লাব ও জাতীয় দল, দুই জায়গাতেই সমান উজ্জ্বল। তার স্কিল, গতি ও বুদ্ধিমত্তা তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ তারকায় পরিণত করেছে। কাতারেও দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন তিনি, এমনটাই আশা ইংলিশ সমর্থকদের। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান দখলে আর্সেনালের এই তারকা রেখেছেন দারুণ অবদান।

একনজরে ইংল্যান্ড ফুটবল দল:

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ১৬বার (১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৭০, ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮)

শিরোপা: একবার (১৯৬৬)

বর্তমান র‍্যাঙ্কিং: ০৫

কোচ: গ্যারেথ সাউথগেট

বিশ্বকাপের গ্রুপ: গ্রুপ বি (প্রতিপক্ষ: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ওয়েলস)

এম/

আরো পড়ুন:

বিশ্বকাপে নামলেই জ্বলে ওঠেন এনের ভালেন্সিয়া

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ