spot_img
27 C
Dhaka

৩০শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***যৌনপল্লীর গল্প নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘রঙবাজার’***কেন ক্ষমা চাইলেন কিংবদন্তি গায়ক বব ডিলান***বিলুপ্তপ্রায় কুমিরের সন্ধান, পুনর্ভবা নদীর তীরে মানুষের ভিড়***সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, নয়াপল্টনেই হবে সমাবেশ : বিএনপি***পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী দল টিটিপি ইসলামাবাদের গলার কাঁটা?***পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সম্পর্ক কি শেষের পথে?***শীত মৌসুম, তুষার এবং বরফকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া : ন্যাটো***নানা সুবিধাসহ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সে চাকরির সুযোগ***বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার সূচি ও আসনবিন্যাস প্রকাশ***পৃথিবীর কিছু অবিশ্বাস্য সৃষ্টি, যা আপনার কাছে খুবই আশ্চর্যজনক লাগবে

২৮ লাখ তালগাছের হদিস নেই কেন? 

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বজ্রাঘাতে মৃত্যু ঠেকাতে দেশব্যাপী তালগাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ২০১৭ সালে। উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তার দুই ধারে লাগানো হয়েছিল তালের আঁটি। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লাগানো তালের আঁটিগুলো গত পাঁচ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। আদৌ তালের আঁটি লাগানো হয়েছিল কিনা তা নিয়ে সন্দেহের কথা জানিয়েছেন অনেকে।

কোথায় কতগুলো বীজ লাগানো হয়েছিল এবং সেগুলো এখন কী অবস্থায় আছে সে বিষয়ে খোঁজ নেবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রধান শর্তই দেওয়া হয়েছিল এর আওতায় নির্মিত রাস্তার দুই পাশে তালের আঁটি লাগাতে হবে।

বন বিভাগের পরামর্শে এ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করার কথা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও প্রতিটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা এই কার্যক্রম নজরদারি করবেন বলেও নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে বজ্রপাত অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের গড়েরগাঁও গ্রামের রুবেল মিয়া জানিয়েছেন বজ্রাঘাত ঠেকাতে তালের চারা রোপণ করা হয়েছে। এগুলো বড় হতে ২৫-৩০ বছর লাগবে। তবে বজ্রপাত ঠেকাতে তাল চারা নয়, বজ্র নিরোধ দণ্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, গ্রামে প্রচুর তাল ও নারিকেল গাছ থাকলে সেগুলো বজ্র নিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে বজ্রপাতে নিহত হওয়ার ঘটনা এড়ানো যাবে বলে আশা করছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, দেশে বজ্রপাতের ঘটনা আগের চেয়ে বেড়েছে। এবছর ঈদের দিনই বজ্রাঘাতে মারা গেছেন ১০ জন। বাবার কবর জিয়ারতের সময় বজ্রাঘাতে ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ব্যথিত করেছে অনেককে।

চলতি বছরের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত বজ্রাঘাতে মারা গেছেন ২৪ জন। এর মধ্যে ২ জন ফেব্রুয়ারিতে ও ২০ জন মারা গেছেন এপ্রিলে। মৃতদের মধ্যে ৪ শিশু, ৫ নারী ও ১৫ জন পুরুষ।

নিহতদের মধ্যে কৃষকের সংখ্যাই বেশি। এরপর আছে জেলে ও ছাদে-মাঠে খেলারত শিশু।

গত কয়েক বছরে মৃতের সংখ্যা নথিভুক্ত করেছে ডিজাস্টার ফোরাম। তাদের হিসাব বলছে, ২০২১ সালে বজ্রাঘাতে মারা গেছেন ৩৬২ জন। এর আগের বছর বজ্রাঘাতে মারা গিয়েছিলেন ৩৮০ জন।

এরও আগে ২০১৭ সালে দেশে বজ্রাঘাতে মারা গিয়েছিলেন প্রায় সাড়ে চারশ’ মানুষ। এমনকি এক দিনে ৮২ জন মারা যাওয়ার রেকর্ডও হয় ওই বছর।

২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাত বছরে বজ্রাঘাতে নিহত দুই হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৯ ও ৩০ এপ্রিল এই দুই দিনে দেশে বজ্রাঘাতে নিহতের সংখ্যা ৩২ জন রেকর্ড করেছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ‘আমি তো তখন এখানে ছিলাম না। তখন কতগুলো আঁটি লাগানো হয়েছে সেটি জানা নেই।’

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মোহম্মদ আয়েন উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘অনেকদিন আগের কথা। সেই সময় কতগুলো বীজ লাগানো হয়েছিল তা মনে নেই।’

পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার ২নং সোগাগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ মিয়া জানিয়েছেন, ‘আমাদের এলাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর ঘটনা কম। এটি হাওর এলাকায় বেশি ঘটে। তাই আমাদের এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে তালগাছ এমন এক গাছ যা এক প্রজন্ম রোপণ করলে পরবর্তী প্রজন্ম ফল ভোগ করে। এ গাছ বড় হতে অনেক সময় লাগে।’

এ প্রসঙ্গে সেই সময়কার সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানিয়েছিলেন, ‘তালগাছ বজ্রাঘাতে মৃত্যু ঠেকাতে পারে বলে সরকার দেশব্যাপী তালগাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যেই ২৮ লাখ তালের বীজ লাগানো হয়েছে। এ কর্মসূচি চলবে।’

এ প্রসঙ্গে সেই সময়কার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেছিলেন, ‘কাবিখা কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী নির্মিত রাস্তার দুই পাশে তালের বীজ লাগানো হয়েছে। এ শর্ত দিয়েই কাবিখা চলেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এর দেখভাল করছে। ডিসি, ইউএনও এবং জেলার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সামগ্রিকভাবে এর মনিটর করছে।’

এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, ‘তালের বীজগুলো বড় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর বাইরে কী করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।’

আরো পড়ুন:

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬ হাজার গাছের সমারোহ

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ