spot_img
21 C
Dhaka

৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৬ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

২০ লাখ বছর আগের প্রাণের অস্তিত্ব প্রকাশ করল প্রাচীনতম ডিএনএ

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: উত্তর গ্রিনল্যান্ড থেকে বরফ যুগের পলির একটি ডিএনএ নমুনা পাওয়া গেছে, যা বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতার ইতিহাস প্রকাশ করছে।

বুধবার, প্রকৃতি জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণা অনুযায়ী জানানো হয় যে, ২০ লাখ বছরের পুরনো ডিএনএ নমুনাগুলো প্রকাশ করেছে যে এখনকার প্রাণহীন এই বিশাল মেরু অঞ্চলটি একসময় উদ্ভিদে সমৃদ্ধ অঞ্চল ছিল এবং প্রচুর প্রাণী এখানে বাস করত।

নাতিশীতোষ্ণ ও আর্কটিক গাছে সমৃদ্ধ এই স্থানে প্রাণীর বসবাস এক নতুন বাস্তুতন্ত্রকে নির্দেশ করছে। এ আবিষ্কার করেন ডেনমার্কের বিজ্ঞানীরা। তারা পরিবেশগত ডিএনএ শনাক্ত করতে এবং পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।

২০০৬ সালে এক অভিযান থেকে তারা সেখানকার পলির নমুনা সংগ্রহ করেন। তারপর তা বিলুপ্ত ও জীবিত প্রাণী, উদ্ভিদ ও অণুজীবের সংগৃহীত ডিএনএ এর সাথে তুলনা করা হয়। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম ডিএনএ-এর পূর্ববর্তী রেকর্ডকে ভেঙ্গে দিয়েছে।

তাছাড়া পরিবেশগত বিজ্ঞানীরা এটা নিশ্চিত করেছেন যে সেই সময় গ্রিনল্যান্ডের তাপমাত্রা আজকের গ্রিনল্যান্ডের তুলনায় ১০ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিলো।

এ গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া উইলারস্লেভ জানান, এই অঞ্চলে মাত্র কয়েকটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। তবে এখানে এক নতুন ধরনের বাস্তুতন্ত্র পাওয়া যায়। ম্যাক্রোফসিল থেকে জানা যায়, কোনও অঞ্চলে গাছ ছিল কি না, যেখানে ডিএনএ থেকে অনেক ট্যাক্সা (জীবন্ত প্রাণীর প্রকার) শনাক্ত করা যায়।

গবেষকরা অবাক হয়েছেন যে, আজকের ব্রিটেন কলম্বিয়াতে পাওয়া সিডারের মতোই আর্কটিকেতে লার্চ প্রজাতির উদ্ভিদ ছিল। তারা মাংসাশী কোনও ডিএনএ খুঁজে না পেলেও ধারণা করছেন শিকারী প্রাণী যেমনঃ ভাল্লুক, নেকড়ে কিংবা বাঘের মতো প্রাণীরা এই বাস্তুতন্ত্রে উপস্থিত ছিল।

স্টকহোম ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর প্যালিওজেনেটিক্সের অধ্যাপক লাভ ডালেন, যিনি ম্যামথ দাঁতের ডিএনএ গবেষণার উপর কাজ করেছিলেন কিন্তু এই গবেষণায় জড়িত ছিলেন না, তিনি এ আবিষ্কারকে যুগান্তকারী আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, “এটি সত্যিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আমরা প্রাচীন বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে জানতে পারব। তাছাড়া জলবায়ু প্রভাবিত প্রজাতি স্তরের জীববৈচিত্র্যের অতীতের পরিবর্তনগুলো বুঝার জন্যেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।”

১৬ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণাটি উইলারস্লেভের গবেষণার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘতম ছিল।

পলল থেকে জেনেটিক কোড নির্ণয়ের এই বৈজ্ঞানিক কাজটি বেশ শ্রমসাধ্য ছিল। পলির কাদামাটি ও কোয়ার্টজ থেকে ডিএনএ খুঁজে বের করে দলটি।

এ গবেষণায় তারা প্রথমবারেই সফলতা পাননি। বরং বারবার ব্যর্থ হয়েছিলেন।

তবে এ গবেষণা পরিবেশগত ডিএনএ অধ্যয়নে বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত করবে। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবী ঠিক কেমন পরিবেশের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে তার ধারণাও পাওয়া যায় গবেষণাটি থেকে। আমরা ধারণা পাই প্রকৃতি কিভাবে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাবে।

আই.কে.জে/

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ