spot_img
18 C
Dhaka

৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২৩শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

যে কারণে ২০২৩ সালের অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রেহাই পাবে না ভারতও

- Advertisement -

ডেস্ক  রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার ছোঁয়া ভারতেও এসে লেগেছে। কারখানা, রাস্তা ও অন্যান্য স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগের পরিমাণ অপর্যাপ্ত। ব্যাংক ঋণের চাহিদা এত দ্রুত বাড়ছে যে আমানত থেকে মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

ভ্রমণ ও আতিথেয়তার মতো যোগাযোগ ভিত্তিক পরিষেবাগুলো বছরের প্রথমার্ধে চালু করা হয়, যা দেশটিকে মহামারী-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতিতে ব্যাপক সাফল্য দেয়।

এদিকে, প্রতিবেশী দেশ চীনে অ্যাপল ইনকর্পোরেটেডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইফোন অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে লকডাউনের কারণে কর্মীদের প্রতিবাদ বিশ্ব নির্মাতারা খেয়াল করেছেন। তারা ঝুঁকি প্রশমনের জন্য কোনো দ্বিতীয় জনবহুল দেশের (বিশেষত ভারত) সন্ধান করছেন, যে দেশ সেমিকন্ডাক্টর ও সোলার প্যানেল থেকে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি এবং টেক্সটাইল সবকিছু তৈরির জন্য ভর্তুকি দিচ্ছে।

এই অর্থবছরে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারগুলোর পাশাপাশি বৃহৎ পাবলিকলি ট্রেড কোম্পানিগুলির সম্মিলিত মূলধন ব্যয় ২১ ট্রিলিয়ন রুপি (২,৫৮০ কোটি মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ২০১৬ এবং ২০১৮-এর মধ্যে বার্ষিক বিনিয়োগের দ্বিগুণ।

নোমোরা কনজাম্পশন ট্র‍্যাকার সূচক জুন থেকে অক্টোবরে ১১ শতাংশ পয়েন্ট নিচে নেমে গেছে। ২০২৩ সাল ভারতীয় মধ্যবিত্তদের জন্য কঠিন সময় হতে চলেছে।

মহামারীর বছরগুলি বাদ দিলে, এটি হবে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির দ্বিতীয়-নিম্ন অবস্থান। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যয়বহুল শিল্পনীতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কোভিড-১৯-এর কারণে শিক্ষার্থীদের শেখার মারাত্মক ঘাটতি কমাতে, জনস্বাস্থ্য পরিচর্যায় বড় শূন্যতা পূরণ করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করতে দেশের আরও সরকারি সাহায্য প্রয়োজন।

উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা কর্মসূচির অধীনে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার এর বেসরকারি বিনিয়োগের মাত্র ১৫% এখন পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। প্রায় ৬০ লাখের প্রত্যাশার তুলনায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ লাখের এরও কম চাকরি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি যদি চীনের সাথে পশ্চিমাদের বিচ্ছিন্নতা আরও গভীর হয়, বা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের কোভিড-১৯ নীতির বহুল প্রত্যাশিত সমাপ্তি স্থগিতও হয়ে যায়, তবুও বেসরকারী বিনিয়োগ পরের বছর ভারতের জন্য অনেক বেশি কিছু করবে এমন আশা করারও কিছু নেই।

এই কারণে বেশিরভাগ এশীয় সরবরাহকারীদের জন্য রপ্তানি কমতে শুরু করেছে। অক্টোবরে ভারতের বাইরে চালান ২০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক জিডিপি তথ্য দেশের শিল্প খাতের গতি হারানোর স্পষ্ট লক্ষণ দেখাচ্ছে। বেকারত্বের হার ৮% বেড়েছে।

সুদের হার ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে শীর্ষে উঠবে। আর্থিক অবস্থা এখনও কঠোর হতে পারে। যদি ইউক্রেনের যুদ্ধের সময়সীমা বাড়তে থাকে – অথবা যদি চীন হঠাৎ করে তার কঠোর ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ বাদ দেয় – তবে চাহিদার তুলনায় পণ্যের ঘাটতি আবারও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য নগদ প্রবাহকে সঙ্কুচিত করবে।

সামনের বছর বিশ্বের অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে, তার উপর নির্ভর করছে ভারতের অর্থনীতির অবস্থা ঠিক কী হবে। তবে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে পরিবর্তন ত্বরান্বিত করার জন্য পাঁচ বছরে ২৪০ কোটি ডলারের পাবলিক তহবিল জমা করার বুদ্ধি প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য, যেখানে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ