spot_img
18 C
Dhaka

৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২৩শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

২০২২ সালে ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে চীনের জনসংখ্যা

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: বিগত কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের জনসংখ্যা কমতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় যা অবশ্যই চীনের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

জনসংখ্যাবিদ হে ইয়াফু বলেন, ২০২২ সালে মোট জন্মসংখ্যা সম্পর্কিত সরকারি তথ্য আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তা পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় ১ কোটির মতো কম হতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এবারে শিশু জন্মের সংখ্যা ২০২১ সালে জন্ম নেওয়া শিশুদের থেকে ১ কোটি ৬ লাখ কম হবে। তিনি আরো বলেন, গত বছর অধিক সংখ্যক মানুষ মারা গিয়েছিল। কোভিড সংক্রমণের বিস্তারের কারণে ২০২১ সালে ১ কোটি ১ লাখ মানুষ মারা যায়।

প্রত্যাশিত জনসংখ্যার তুলনায় এবার জনসংখ্যার হার কমে গিয়েছে যা দেশটির অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এমনিতেই দেশটিতে শ্রমশক্তি কমে গিয়েছে, এছাড়াও এবার বাড়ির জন্য দীর্ঘমেয়াদি চাহিদাও আরো কমে যাবে।

চীনের অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে যাবে এবং জনসংখ্যার দিক দিয়েও ভারতের কাছে হেরে যাবে দেশটি।

করোনার কারণে অবশ্য অনেক দেশেই জন্মহারের পরিমাণ কমে যায়।

চীনের কিছু অঞ্চল সন্তানের লালন পালনের জন্য বাবা-মাকে প্রণোদনা প্রদান করে। হংকংয়ের প্রতিবেশি, শেনজেন, সন্তানদের বয়স তিন বছর না হওয়া পর্যন্ত বাবা-মাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এ আর্থিক সাহায্য প্রতি বছর ৩০০০ থেকে ১০০০০ ইউয়ান হতে পারে।

শেনজেনের স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ জানান, শহরের জনসংখ্যা পরিস্থিতি মোটেই আশানুরূপ নয়। টানা চার বছর ধরে জন্মহার কমতির দিকে। সেইসাথে ২০১৫ সাল থেকে মা হতে চাওয়া মহিলাদের সংখ্যাও ৮.৭% কমেছে।

এ জন্মহার বৃদ্ধির জন্যেও চোখে পড়ার মতো কোন ধরনের পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি সরকার। সেই সাথে কোভিড পরিস্থিতি দেশের অবস্থা আরো খারাপ করে দিয়েছে।

২০১৯ সালে, জাতিসংঘের বক্তব্য ছিল ২০৩১ সাল নাগাদ চীনের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ হবে এবং তারপরে হ্রাস পেতে শুরু করবে। যদিও গত বছর, জাতিসংঘ ২০২২ সালের শুরুতেই এই অনুমানটি সংশোধন করে নেয়। এখন জাতিসংঘ আশা করছে যে চীন ২০৫০ সালের মধ্যে ১১ কোটি লোক হারাবে এবং শতাব্দীর শেষ নাগাদ তার বর্তমান জনসংখ্যার আকার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে।

চীনের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাও দিনদিন কমতির দিকে। সরকার যদি এখন থেকেই সন্তান জন্মদানের জন্য প্রণোদনা চালু না করে তাহলে চীনকে কঠোর ভবিষ্যতের সম্মুখীন হতে হবে।

তিয়ানজিনের নানকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিষয়ক অধ্যাপক ইউয়ান জিনের মতে, জনসংখ্যা একটি স্থির সংকোচনে আসতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তিনি জন্ম সীমা শিথিল করার এবং সন্তান জন্মদানকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নীতি প্রবর্তনের জন্য সরকারের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন।

জনসংখ্যা হ্রাস অর্থনীতিকে তাৎক্ষণিকভাবে আঘাত করতে পারবে না। ইউবিএস এজি-র এশিয়া অর্থনীতির প্রধান এবং চীনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ওয়াং তাও-এর মতে, শ্রমশক্তি এখনও কম-উৎপাদনশীল বা গ্রামীণ খাত, যেমন কৃষিকাজ থেকে অন্য খাতে স্থানান্তরিত করা যেতে পারে।

তাছাড়া তিনি জানান, অবসর সময়ের বয়সের পরিবর্তনও কিছু সমস্যার সমাধান করতে পারে। জাপানের মতো দেশও এ পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনসংখ্যার আকারকে ঠিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।

যদিও চীনকে এখনো কিছু মোকাবেলার সম্মুখীন হতে হবে। বিষয়টি বছরের পর বছর ধরে আলোচনাধীন কিন্তু এ নিয়ে কোন ধরনেরই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয় নি।

আইকেজে /

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ