spot_img
27 C
Dhaka

২৯শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***যৌনপল্লীর গল্প নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘রঙবাজার’***কেন ক্ষমা চাইলেন কিংবদন্তি গায়ক বব ডিলান***বিলুপ্তপ্রায় কুমিরের সন্ধান, পুনর্ভবা নদীর তীরে মানুষের ভিড়***সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, নয়াপল্টনেই হবে সমাবেশ : বিএনপি***পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী দল টিটিপি ইসলামাবাদের গলার কাঁটা?***পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সম্পর্ক কি শেষের পথে?***শীত মৌসুম, তুষার এবং বরফকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া : ন্যাটো***নানা সুবিধাসহ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সে চাকরির সুযোগ***বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার সূচি ও আসনবিন্যাস প্রকাশ***পৃথিবীর কিছু অবিশ্বাস্য সৃষ্টি, যা আপনার কাছে খুবই আশ্চর্যজনক লাগবে

২০১৪ সালে পাকিস্তানে স্কুল গণহত্যা নিয়ে ‘এফসাস’কে সাক্ষাৎকার দিলেন ফজল খান

- Advertisement -

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সুখবর বাংলা: মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী এবং পশতুন তাহাফুজ আন্দোলন (পিটিএম)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফজল খান আমস্টারডাম যান আমস্টারডাম ভিত্তিক থিংকট্যাংক ‘ইউরোপিয়ান ফাউন্ডেশন ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ’ (এফসাস)-এর পরিচালক জুনায়েদ কুরেশির সঙ্গে দেখা করতে। সেখানে তিনি তাকে এক সাক্ষাৎকার দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের পেশোয়ারে স্কুলে গণহত্যার ঘটনায় জনাব খানের ছেলেসহ আরো ১৪০ জনেরও বেশি নিহত হয়। জনাব খানের জন্ম এবং বেড়ে উঠা পেশোয়ারেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকেই তিনি এ অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

সাম্প্রতিককালে তিনি পেশোয়ারে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ২০১৪ সালের গণহত্যার বিচারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মূলত তার ছেলেসহ আরো অনেক বাচ্চার এমন নির্মম হত্যাই তাকে এক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করেছে। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “একজন বাবা তার নিজের ছেলের মৃত্যুতে যে কতটা মানসিক আঘাত পান তা বলে বুঝানো যাবে না। ছেলের হত্যার খবর এবং মৃতদেহ শনাক্তকরণের জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটে চলার কষ্ট বর্ণনাতীত।”

সাক্ষাৎকার চলাকালীন জুনায়েদ কুরেশি জনাব খানকে তার জীবনে চড়াই-উতরাই সম্পর্কে কিছু কথা বলতে বললে জনাব খান জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই সাধারণ মানুষদের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করতেন। সেজন্যেই মূলত তার আইন পেশায় আসা। তিনি সাধারণ জনসাধারণের ওপর হওয়া সকল অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। কিন্তু ২০১৪ সাল, তার সমস্ত জীবনটাকেই পালটে দিয়েছে। নবম শ্রেণিতে পড়া তার বড় ছেলের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু তিনি মানতে পারেননি। যদিও পাকিস্তানে এমন সন্ত্রাসী হামলা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত বৈরী পরিবেশে থেকেও পাকিস্তানে বসবাসরত অনেকেই স্বপ্ন দেখে ভালো করে পড়াশুনা করে জীবনে বড় কিছু করার।

তিনি বলেন, নিহত ছেলের বাবা হিসেবে তিনি সহজেই অনুভব করতে পারেন প্রতিনিয়ত হওয়া সন্ত্রাসী হামলার ফলে পাকিস্তানের অন্যান্য জনগণ কতোটা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছে। তার এ সংগ্রাম শুধুমাত্র তার ছেলের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদই নয় বরং তা সম্পূর্ণ পাকিস্তানিদের ওপর হওয়া অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ।

তিনি দোষীদের আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি দেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ দোষীগুলোর শাস্তি হলে পাকিস্তানি জনগণ একটু হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে।

তাকে গণহত্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, সেই দিনটি যদিও অন্যসব দিনের মতোই সুন্দরভাবে শুরু হয়েছিল কিন্তু এই সন্ত্রাসী হামলা সেই দিনটিকে তার জীবনের সবচেয়ে দুর্বিষহ দিন বানিয়ে দিয়েছে। ভাইয়ের কাছ থেকে তিনি যখন হামলার ব্যাপারটি জানতে পারেন, তখন কিছুসময়ের জন্য তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। তারপর শুরু হয় তার ছুটে চলা হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে। প্রতিদিন যেসব বাচ্চাদের তিনি বাবা মায়ের সাথে হাসিমুখে স্কুলে যেতে দেখতেন, তাদের মৃতদেহ দেখার পর তিনি তার ছেলেকে ফিরে পাওয়ার শেষ আশাটুকুও ছেড়ে দেন। তিনি বুঝতে পারেন, তার ছেলেও আর বেঁচে নেই। অবশেষে যখন তিনি তার ছেলেকে খুঁজে পান, তখন সে মৃত, তার বুকে পাঁচটি গুলি বিদ্ধ হয়েছিল। সেসময় উনার অনুভূতি, উনার কষ্ট বলে বুঝানোর মতো কোনও ভাষা উনার জানা নেই।

যদিও একের পর এক সন্ত্রাসী হামলায় পুরো দেশের জনগণই ভীত, অসহায় হয়ে পড়েছে, তার ছেলের মৃত্যু তাকে সাহস যুগিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর। তাই গণহত্যার পরদিনই তিনি মিডিয়ার কাছে প্রশ্ন তুলেন, সেনাবাহিনী দ্বারা ঘেরাও করা এত নিরাপত্তার মধ্যে থাকা স্কুলে কি করে এত সহজে সন্ত্রাসী হামলা হয়? কি করে সন্ত্রাসীরা এত সহজে স্কুলে ঢুকে পড়ে?

সেনাবাহিনী এদিকে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। তারা জানায় যে তাদের প্রায় ধোঁকা দিয়ে লুকিয়ে ৪-৫ জনের মতো সন্ত্রাসী স্কুলে ঢুকে পড়ে। যদিও প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রদের কাছ থেকে জানা যায় সন্ত্রাসীদের সংখ্যা ছিল ২০ জনেরও বেশি।

যখন তিনি বুঝতে পারেন রাষ্ট্রও এ সন্ত্রাসী হামলাগুলো আটকাতে অক্ষম, বরং তারা মিথ্যাচার করে তাদের নিজেদের দায়মুক্তির পথ বেছে নিচ্ছে, তখন তিনি এটাও বুঝতে পারেন যে তার ছেলের খুনীদের শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া এত সহজ হবে না। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হামলাকারীদের ধরার এবং তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করার।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ