spot_img
29 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ইং, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

হ্যাটট্রিক শিরোপার উৎসব বসুন্ধরা কিংসের

- Advertisement -

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: বিপিএল ফুটবল লীগে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে অভিষেক দল বসুন্ধরা কিংস। মুন্সীগঞ্জ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সোমবার (১৮ জুলাই) বিকেলে সাইফ স্পোর্টিংকে ২-০ গোলে হারিয়ে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হতে সক্ষম হয় বসুন্ধরা কিংস। দলটি পেশাদার লিগে দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা তিন শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হল।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের গা ঘেষে বেড়ে ওঠা কড়ই গাছগুলোর ছায়ায় বসে খেলা দেখেছে বসুন্ধরা কিংসের দর্শকেরা। গায়ে টকটকে লাল জার্সি। গ্যালারিতে ছিল বসুন্ধরা কিংসের বিশাল আকারের পতাকা বিছানো।

পাশাপাশি দর্শকদের অনেকের হাতে ছিল ছোট ছোট লাল পতাকা। ঢাকা থেকে আসা দর্শকদের সঙ্গে স্থানীয়রাও তুমুল উৎসাহে গলা ফাটিয়েছে বসুন্ধরা কিংসের জন্য। বাদ্যি বাজানো দলের সঙ্গে ভুভুজেলার শব্দে উৎসবের বিকেলে যেন ফুটবল আনন্দে মেতে ওঠে জেলা শহরের এই স্টেডিয়াম।

বসুন্ধরা কিংসের এতসব আয়োজন আর উৎসবে প্রথম দফায় রং ছড়িয়েছেন  মতিন মিয়া। প্রিমিয়ার লিগে আজ মতিন মিয়া ও বিপলু আহমেদের গোলে সাইফ স্পোর্টিংকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। আর এই জয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই টানা তৃতীয় বারের মতো প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন হলো বসুন্ধরা কিংস।

২০ ম্যাচে কিংসের পয়েন্ট ৫১। ১৯ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আবাহনী। ২০ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে সাইফ।

এর আগে পেশাদার লিগে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল শুধুই আবাহনীর। এবার বসুন্ধরা কিংসও হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হলো।

সাইফ স্পোর্টিংয়ের মাঠে তাদের বিপক্ষে দশ জন নিয়েও হেসে খেলেই জিতল বসুন্ধরা কিংস। অথচ ম্যাচের ৩৪ মিনিটে যখন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ছিলেন বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার ইয়াসিন আরাফাত, কোচ অস্কার ব্রুজোনের চেহারায় ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। বাকি ৫৬ মিনিটে অবশ্য দশ জনের দল হয়ে পড়া বসুন্ধরাকে আক্রমণের চেয়ে রক্ষণ সামলাতেই সতর্ক থাকতে হয়েছে বেশি।

পায়ের পেশিতে চোট লাগায় দলের বড় ভরসা ফরোয়ার্ড রবসন রবিনহোকে আজ মাঠেই নামাননি কোচ অস্কার ব্রুজোন। সেন্টার ব্যাক খালেদ শাফিকেও একাদশে রাখেননি শুরুতে।

করোনা পজিটিভ হওয়া ইরানি ফুটবলার যদিও নেগেটিভ হয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দশজনের দল হয়ে পড়া বসুন্ধরার রক্ষণ আরও জমাট করতে ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলমকে তুলে মাঠে নামান খালিদ শাফিকে।

গত ৩ জুলাই আবাহনীকে এই মাঠেই ৪-২ গোলে হারিয়েছিল সাইফ। কিন্তু বসুন্ধরা কিংসের জন্য আজ কোনো হুমকিই হতে পারেনি জামাল ভূঁইয়ারা। বরং নুহা মারং, মিগেল ফেরেইরা, মতিন মিয়া, বিপলু আহমেদদের আক্রমণ সামলাতে দিশেহারায় দেখা গেল সাইফ স্পোর্টিংকে।

পুরো ম্যাচে সাইফের বলার মতো আক্রমণ ছিল একটাই, ৭৫ মিনিটে মারাজ হোসেনের জোরালো শট ফিস্ট করে ফেরান বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান।

ম্যাচের ২২ মিনিটে এগিয়ে যেতে পার বসুন্ধরা কিংস। বিশ্বনাথের বাড়িয়ে দেওয়া লং বল তৌহিদুল আলম পেছনে থাকা মিগুয়েল ফেরেইরারকে বাড়িয়ে দেন। ফেরেইরার আগুনে গোলা শট অবশ্য ক্রসবারে লেগে ফেরে!

এরপর ২৮ মিনিটে মতিন মিয়ার গোল। এবার বলের যোগানদাতা ফেরেইরা। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট জামাল ভূঁইয়ার গায়ে লেগে ফেরে। সাঁমনে দাড়িয়ে থাকা মতিন মিয়া ডান পায়ের প্লেসিংয়ে করেন গোল। অবশ্য মতিনের সামনে থাকা সাইফের ডিফেন্ডার সাদ্দাম হোসেন অবশ্য ক্লিয়ার করতে পারেননি বলটা।

ম্যাচের ৩৪ মিনিটে ইয়াসিন অহেতুক ট্যাকল করে রহিম উদ্দিনকে ফেলে দেয়। ৯ মিনিটে হলুদ কার্ড পাওয়া ইয়াসিন এবার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।

দ্বিতীয়ার্ধে বসুন্ধরা কিংস আরও বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠেছে। ৮১ মিনিটে বিপলুর গোলটি সেই আক্রমণের ফল। নুহা মারংয়ের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢুকে বাম পায়ের শটে করেছেন ২-০।

ম্যাচ শেষে বরাবরের মতোই চ্যাম্পিয়ন লেখা জার্সি পরে মাঠের মধ্যে উৎসবে মেতে ওঠে বসুন্ধরার খেলোয়াড় , কোচ ও কর্মকর্তারা। আর একই জার্সি পরে সেই মিছিলে মিশে গেলেন সমর্থকেরাও।

আরো পড়ুন:

চার বছরে সর্বোচ্চ ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ

 

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ