spot_img
21 C
Dhaka

৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২৬শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

এসো খেলি গ্রামীণ খেলা-১ : কাবাডি/ হা-ডু-ডু

- Advertisement -

ইব্রাহীম খলিল জুয়েল:

ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার প্রাচীন খেলাগুলো। এই প্রজন্মের শিশু-কিশোররা এসব খেলাধূলা করা দূরের কথা, নামও হয়তো-বা শুনেনি কেউ কেউ।

আধুনিকতার ছোঁয়া, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা আর খেলার মাঠের অভাবে নব্বইয়ের দশকের পর থেকে এই খেলাগুলো আস্তে আস্তে বিলীন হয়েছে। এর জায়গায় স্থান করে নিয়েছে অনেক শহুরে ইনডোর গেম। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো ক্ষতিকর। ভিডিও গেমসহ অনেক রকমের অনলাইন গেম শিশু-কিশোরদের সহিংসতা শেখায়। অনলাইন জুয়ার মতো সর্বনাশা নেশার পথে পা বাড়াতে শেখায়। বিপথগামী করে।

আর সব গ্রামীণ খেলাতেই কিছু না কিছু কায়িক পরিশ্রম আছে। এসব খেলা যে শুধু গ্রামাঞ্চলেই খেলা হতো তা নয়। একই সময়ে শহরের ছেলে-মেয়েরাও খেলতো।

অর্থাৎ এই খেলাটাও ছিল আমাদের সংস্কৃতিরই একটা অংশ। যে সংস্কৃতি কালে কালে লালন করেছেন আমাদের পূর্ব পুরুষরা।

সুখবর ডটকম ডটবিডি (sukhabor.com.bd) তার পাঠকদের সেই খেলাগুলোর সঙ্গে আবারো পরিচয় করিয়ে দিতে চায়। শেকড়ের টানে, ঐতিহ্যের দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের এই উদ্যোগ।

আশি, নব্বইয়ের দশকে কিংবা তারও আগে যাদের জন্ম তারা এসব খেলার নাম শুনলেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন, স্মৃতিতাড়িত হয়ে পড়েন।

আমাদের হারিয়ে যাওয়া উল্লেখযোগ্য খেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- কাবাডি/হা-ডু-ডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, কুৎ কুৎ, হাড়িভাঙা, বৌচি, কাঠিছোঁয়া, দড়িলাফ, সাতচাড়া, বরফ পানি, দড়ি টানাটানি, পুতুল খেলা, চেয়ার সিটিং, লুকোচুরি/পলাপঞ্জি, রুমাল চুরি, চোখবুঝাবুঝি, কানামাছি, ওপেন্টি বাইস্কোপ, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি ওড়ানো, ঘোড়দৌড়, এলাটিং বেলাটিং, আগডুম বাগডুম, ইচিংবিচিং, ইকড়ি-মিকড়ি, ঝুমঝুমাঝুম, কপাল টোকা, বউরানী, লুডু, ব্যাঙ্গের বিয়ে, লাঠিখেলা, বলীখেলা, আইচ্চা ভাঙ্গা, এক্কাদোক্কা, রাম-সাম-যদু-মধু, চোর-ডাকাত, মার্বেল, সাতচাড়া, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই প্রভৃতি।

সুখবর ডটকম ডটবিডি (sukhabor.com.bd) ধারাবাহিকভাবে এই খেলাগুলো তুলে ধরবে। তাই প্রতিদিনই চোখ রাখুন- সুখবর ডটকম ডটবিডি (sukhabor.com.bd)-তে।

আজ আমরা বলব আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডি বা হা-ডু-ডু খেলা সম্পর্কে।

কাবাডি খেলা

বাংলাদেশে কাবাডি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা। কোনো কোনো স্থানে কাবাডিকে হাডুডু খেলাও বলে। ১৯৭২ সালে হাডুডু খেলাকে ‘কাবাডি’ নামকরণ করা হয় এবং এ খেলাকে বাংলাদেশের জাতীয় খেলার মর্যাদা দেওয়া হয়।

খেলার সংক্ষিপ্ত নিয়ম:

  • মাঠঃ কাবাডি খেলার বালকদের মাঠ লম্বায় ১২.৫০ মিটার, চওড়ায় ১০ মিটার হয়। এবং বালিকাদের কাবাডি খেলার মাঠ লম্বায় ১১ মিটার এবং চওড়ায় ৮ মিটার হয়। খেলার মাঠের ঠিক মাঝখানে একটি লাইন টানা থাকে যাকে মধ্যরেখা বা চড়াই লাইন বলে। এই মধ্য রেখার দুই দিকে দুই অর্ধে দুটি লাইন টানা হয় যাকে কোল লাইন বলে। আউট হয়ে যাওয়া খেলোয়াড়দের জন্য মাঠের দুই পাশে ১ মিটার দূরে দুটি লাইন থাকে যাকে লবি বলা হয়।
  • সদস্যঃ প্রতি দলে ১২ জন খেলোয়াড় অংশ নেয়। কিন্তু প্রতি দলের ৭ জন খেলোয়াড় একসাথে মাঠে নামে। বাকি ৫ জন অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে থাকে। খেলা চলাকালীন সর্বাধিক তিন জন খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যাবে।
  • সময়ঃ ৫ মিনিট বিরতিসহ দুই অর্ধে পুরুষদের ২৫ মিনিট করে এবং মেয়েদের ২০ মিনিট করে খেলা হবে। খেলা শেষে যেই দল বেশি পয়েন্ট পাবে সেই দলই জয়ী হবে। দুদলের পয়েন্ট সমান হলে দুঅর্ধে আরও ৫ মিনিট করে খেলা হবে। এরপরেও যদি পয়েন্ট সমান থাকে তবে যে দল প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছিল সে দলই জয়ী হবে।
  • পয়েন্টঃ যদি কোনও খেলোয়াড় মাঠের বাইরে চলে যায় তাহলে সে আউট হবে। এভাবে একটি দলের সবাই আউট হলে বিপক্ষ দল অতিরিক্ত ২ পয়েন্ট পাবে। মধ্যরেখা থেকে দম নিয়ে বিপক্ষ দলের কোনো খেলোয়াড়কে (একাধিক হতে পারে) স্পর্শ করে এক নিঃশ্বাসে নিরাপদে নিজেদের কোর্টে ফিরে আসতে পারলে, যাদেরকে স্পর্শ করবে সে বা তারা কয়জনই আউট হবে। এভাবে যতজন আউট হবে তাদের প্রত্যেকের জন্য এক পয়েন্ট পাওয়া যাবে।

সতর্কতাঃ এক নিঃশাসে স্পষ্টভাবে পুনঃ পুনঃ ‘কাবাডি-কাবাডি-কাবাডি’ বলে ডাক দেওয়াকে “দম নেওয়া” বলে। এই দম মধ্যরেখা থেকে শুরু করতে হবে। বিপক্ষ কোর্টে একসাথে একাধিক আক্রমণকারী যেতে পারবে না। কোনও আক্রমণকারী বিপক্ষ দলের কোর্টে দম হারালে এবং বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় তাকে স্পর্শ করতে পারলে সে আক্রমণকারী আউট বলে গণ্য হবে।

১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ এ্যামোচার কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়। এই ফেডারেশন কাবাডি খেলার উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। কাবাডি ফেডারেশন এই খেলার বিভিন্ন নিয়ম-কানুন তৈরি করে। ১৯৭৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রথম কাবাডি টেস্ট খেলে। আন্তজার্তিক পর্যায়ে এটিই প্রথম ম্যাচ। ১৯৭৮ সালে ভারতের মধ্য প্রদেশের লৌহ নগরী ভিলাইতে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের প্রতিনিধিগণের এক বৈঠকে এশিয়ান এ্যামেচার কাবাডি ফেডারেশন গঠন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এ্যামেচার কাবাডি ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি মরহুম আবুল হাসনাত।

১৯৭৯ সালে ভারতে বাংলাদেশ বনাম ভারত ফিরতি কাবাডি টেস্ট খেলে এবং ১৯৮০ সালে সফলভাবে প্রথম এশীয় কাবাডি প্রতিযোগিতা এই খেলাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। পরবর্তীতে সাফ গেমসে কাবাডি অন্তভুর্ক্ত করা হলে এ খেলার চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

তথ্য সূত্র ও ছবি: উইকিপিডিয়া, উইকিবাংলা ডটইনফো।

আই. কে. জে/

 

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ