spot_img
20 C
Dhaka

২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে উপযোগী স্মার্ট পাঠদান পদ্ধতি অপরিহার্য : মোস্তাফা জব্বার

- Advertisement -

ডেস্ক নিউজ, সুখবর ডটকম: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ইন্ডাস্ট্রির উপযোগী স্মার্ট পাঠদান পদ্ধতি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্মার্ট জনশক্তি তৈরি করে আমাদের পপুলেশন ডিভিডেন্টের বিরাট সুযোগ কাজে লাগাতেই হবে। শিক্ষার  ডিজিটাল রূপান্তরের পাশাপাশি ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

তিনি একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন জাতি গড়ে তুলতে ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহকে সমন্বিত উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের সহযোগিতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনক্লুসিভ হাইয়ার এডুকেশন : বাংলাদেশ কনটেক্স ‘ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী শিক্ষায় প্রথাগত পদ্ধতির সাথে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,  আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। আমরা কেবল প্রথাগত শিক্ষার সার্টফিকেট দিব কিন্তু তাদেরকে ডিজিটাল দক্ষতা দিব না, এটা হতে পারে না।

ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের এই অগ্রদূত বলেন, পৃথিবীর বড় লাইব্রেরির নাম হচ্ছে ইন্টারনেট। সেই লাইব্রেরি থেকে তথ্য নেওয়ার দক্ষতা দিতে হবে, প্রচলিত শিক্ষায় এটি দেওয়া হয় না।

তিনি বলেন, অতীতের তিনটি শিল্প বিপ্লবে শরীক হতে না পেরে এই দেশের মানুষ প্রযুক্তিতে শতশত বছর পিছিয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তার পাঁচ বছরের শাসনামলে দেশে ভিস্যাটের মাধ্যমে  ইন্টারনেট চালুসহ যুগান্তকারী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশকে শরীক করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায়  ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গত ১৪ বছরে বাংলাদেশকে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্বের যোগ্যতায় উপণীত করেছেন।

শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে ১৯৯৯ সাল থেকে মোস্তাফা জব্বার তার কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তরের এই পথপ্রদর্শক বলেন, ২৫ বছর আগে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করেছি।

তিনি শিক্ষাকে আনন্দদায়ক শিক্ষায় রূপান্তরের পদ্ধতি তুলে ধরে বলেন, আমি প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেছি। কাগজের বই ছাড়া এই সব কনটেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়তে পারছে এবং এক বছরের সিলেবাস তারা তিন মাসে শেষ করতে সক্ষম হচ্ছে। তিনি দেশের ৬৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কনটেন্টে পাঠ প্রদানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, পাশ্ববর্তী স্কুলের শিক্ষার্থীরাও ডিজিটাল কনটেন্টে পাঠ গ্রহণের জন্য ছুটে আসছে এসব স্কুলে।

তিনি করোনাকালে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারের চিত্র তুলে ধরেন। মন্ত্রী ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশে গৃহীত কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, ইন্টারনেট ছাড়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারা  এখন অকল্পনীয়। ২০০৮ সালে দেশে সাড়ে সাত জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে তা ৩৮৪০ জিবিপিএসে উপনীত হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: নুরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার, যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটিং এন্ড ইনফরমেশন রিসার্স সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ডেভিড জে ব্রাউন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর বিশ্বজিৎ চন্দ্র এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর রাশেদা আক্তার বক্তৃতা করেন।

বক্তারা শিক্ষার মাধ্যমে ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন জাতি বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ডিজিটাল শিক্ষা বিষয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অপরিহার্য।

এম/ আইকেজে/

আরো পড়ুন:

 ‘যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি’ বিষয়ে যা বললেন ওয়াসা এমডি

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ