spot_img
33 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ইং, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***প্রকাশ্যে শাকিব-বুবলীর সন্তান, ঘোষণা আসতে পারে আজ***সৌদি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানকে শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ***ত্রিদেশীয় সিরিজ ক্রিকেট: রাতে নিউজিল্যান্ড যাচ্ছে বাংলাদেশ  দল***পুতিনের ঘোষণায় ইউক্রেনের ৪ অঞ্চল রাশিয়ার হচ্ছে আজ***টিভিতে দেখুন আজকের খেলা***সৌদি শিক্ষার্থীদের আহ্বান, যোগব্যায়ামের সাথে সাফল্যের রাস্তা প্রসারিত হোক***অবসরে যাওয়া বেনজীর পাবেন সার্বক্ষণিক পুলিশের নিরাপত্তা***‘দুর্গাপূজা উদযাপনে সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে’***কেমন আছেন চীনের গ্রামীণ বয়স্ক বাসিন্দারা, মানবাধিকার কোথায়?***সীমান্ত দিয়ে কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা শ্রদ্ধেয় ‘আব্দুল জব্বার’

- Advertisement -

সংস্কৃতি প্রতিবেদকসুখবর বাংলাঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে প্রচারিত সালাম সালাম হাজার সালাম, জয় বাংলা বাংলার জয়-সহ অনেক উদ্বুদ্ধকরণ এবং তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই ফেব্রুয়ারি  কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৯ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীর ত্যাগ করেন । আজ তাঁর মৃত্যদিবস। এ দিবসে সুখবর বাংলা তাঁকে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে।

১৯৫৬ সালে তিনি মেট্রিক পাশ করেন। আব্দুল জব্বারের প্রথম স্ত্রী গীতিকার শাহীন জব্বার। তাঁদের সন্তান মিথুন জব্বারও একজন সংগীতশিল্পী। আবদুল জব্বারের দ্বিতীয় স্ত্রী রোকেয়া জব্বার মিতা। তিনি ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে ডিসেম্বর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর তৃতীয় স্ত্রীর নাম হালিমা জব্বার।

১৯৫৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান গেয়েছিলেন ১৯৬২ সালে। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হোন।

১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত “সংগম” ছবির গানে কণ্ঠ দেন তিনি। ১৯৬৮ সালে “এতটুকু আশা” ছবিতে সত্য সাহার সুরে তাঁর গাওয়া “তুমি কি দেখেছ কভু” গানটি ভীষণ  জনপ্রিয়তা লাভ করে। সেই বছর “পীচ ঢালা পথ” ছবিতে রবীন ঘোষের সুরে “পীচ ঢালা এই পথটারে ভালবেসেছি” ও “ঢেউয়ের পর ঢেউ” ছবিতে রাজা হোসেন খানের সুরে “সুচরিতা যেওনাকো, আর কিছুক্ষণ থাকো” এ দুটি গান তাঁকে এনে দেয় আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা।

১৯৭৮ সালে “সারেং বৌ” ছবিতে আলম খানের সুরে তাঁর গাওয়া “ও রে নীল দরিয়া” গানটিও ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পায়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত “সালাম সালাম হাজার সালাম”, “জয় বাংলা বাংলার জয়”-সহ অনেক দেশাত্মবোধক গানের গায়ক হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তাঁর গাওয়া “তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়”, “সালাম সালাম হাজার সালাম” এবং “জয় বাংলা বাংলার জয়” গান তিনটি ২০০৬ সালের মার্চ মাস জুড়ে বিবিসি বাংলার আয়োজনে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংলা ২০ গানের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।

২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে আবদুল জব্বারের  প্রথম মৌলিক গানের অ্যালবাম ‘কোথায় আমার নীল দরিয়া’ মুক্তি পায়। অ্যালবামটির গীতিকার মোঃ আমিরুল ইসলাম, সুরকার গোলাম সারোয়ার। একই বছর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা গানের অ্যালবামের কাজ শুরু করেন। গীতিকার আমিরুল ইসলাম রচিত ‘বঙ্গবন্ধু দেখেছি তোমায় দেখেছি মুক্তিযুদ্ধ’ শিরোনামের গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পূর্বে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে অ্যালবামের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।নিচে আবদুল জব্বারের কয়েকটি জনপ্রিয় গান দেওয়া হলো।

১. সালাম সালাম হাজার সালাম,

২. জয় বাংলা বাংলার জয়

৩.  তুমি কি দেখেছ কভু

৪. “ও..রে নীল দরিয়া“

৫. “সুচরিতা যেও নাকো আর কিছুক্ষণ থাক“

৬. পিচ ঢালা এই পথটারে ভালবেসেছি“

৭. এক বুক জ্বালা নিয়ে

৮.বন্ধু তুমি শত্রু তুমি

৯.বিদায় দাও গো বন্ধু তোমরা

১০. তুমি আছো সবই আছে

১১. তারা ভরা রাতে

১২. আমি তো বন্ধু মাতাল নই

১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা যোগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে অনেক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তাঁর গানে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের সময় ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়য়ের সঙ্গে মুম্বাইয়ের বিভিন্নস্থানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করেন আব্দুল জব্বার। তিনি সে সময় স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে  বিভিন্ন  গণসংগীতে গান গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ রুপি দান করেছিলেন।

বরেণ্য এ শিল্পী অনেক ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো: সংগম (১৯৬৪), নবাব সিরাজউদ্দৌলা (১৯৬৭), উলঝন (১৯৬৭), পীচ ঢালা পথ (১৯৬৮), এতটুকু আশা (১৯৬৮), ঢেউয়ের পর ঢেউ (১৯৬৮), ভানুমতি (১৯৬৯), ক খ গ ঘ ঙ (১৯৭০), দীপ নেভে নাই (১৯৭০), বিনিময়, (১৯৭০), জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০), নাচের পুতুল (১৯৭১), মানুষের মন (১৯৭২), স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা (১৯৭৩), ঝড়ের পাখি (১৯৭৩), আলোর মিছিল (১৯৭৪), সূর্যগ্রহণ (১৯৭৬), তুফান (১৯৭৮), অঙ্গার (১৯৭৮), সারেং বৌ (১৯৭৮), সখী তুমি কার (১৯৮০) ও কলমিলতা (১৯৮১)।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা এবং কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক (১৯৭৩), একুশে পদক (১৯৮০), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৬), বাচসাস পুরস্কার (২০০৩), সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-আজীবন সম্মাননা (২০১১) ও জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার।

আরো পড়ুনঃ

এবার খোকন কুমার রায়ের লেখনিতে দেহতত্বের গান

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ