spot_img
20 C
Dhaka

৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***অসাধু ব্যবসায়ীদের জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী***ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ***চীনের লকডাউন নীতি প্রভাব ফেলছে রপ্তানি-জ্বালানি শিল্পের ওপর***বিশ্বকাপে দল না থাকলেও মাঠে দর্শকের তালিকায় দ্বিতীয় ভারত***চীনা ভ্যাকসিনের অকার্যকারিতার পরও বিদেশি ভ্যাকসিন নিতে অস্বীকৃতি চীন সরকারের***পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় তিন পুলিশ সদস্য নিহত***চীনের শূন্য কোভিড নীতি প্রভাব ফেলেছে অর্থনীতিতে***মিরাজ-মুস্তাফিজ জুটিতে টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়***শিক্ষক নিয়োগ দেবে রোকেয়া বেগম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ***শিক্ষক নিয়োগ দেবে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ

সুরের মানুষ জি এম জাকির হোসেন

- Advertisement -

অরুন চৌধুরী, সুখবর বাংলা: একজন নিরহংকার ও নিবেদিত প্রাণ সংগীতের মানুষ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উপসচিব জাকির হোসেন। উন্নত ব্যক্তিত্ব আর প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরা সদাহাস্য জাকির হোসেন এর ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল প্রবল আকর্ষণ। তাই শত প্রতিকূলতায়ও আজ সফল হয়েছেন তার কর্ম জীবনে । প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর একজন গর্বিত পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে। নিজেকে তৈরি করেছেন একজন পরিপক্ক সংগীত শিল্পী, সুরকার, গীতিকার, সংগীত পরিচালক হিসেবে। একদিকে যেমন গান রচনা আর নতুন সুর তৈরি করে সংগীতাঙ্গন সমৃদ্ধ করছেন তেমনি সারাদেশ থেকে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ মেধাবী শিল্পী তৈরি করে দেশের সংগীতাঙ্গনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলেছেন।

জাকির হোসেনের বলিষ্ঠ লেখনি, কণ্ঠস্বর আর সুরের গাঁথুনি এতটাই হৃদয়গ্রাহী যে তাকে একজন সত্যিকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকার করতে হয়।  তিনি সুরের আরাধ্যসাধকে পরিণত করেছেন আপন মহিমায় । তার সৃষ্টির মধ্যে যেমন পরিশুদ্ধতা খুঁজে পাওয়া যায় তেমনি তিনি নিজে একজন শিল্পী তৈরির কারিগর।

জাকির হোসেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উপ সচিব পদে নিষ্ঠার সাথে কর্তব্যরত আছেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একশত বছর পূর্তিতে থিম সং রচনা ও সুর করে সকলের কাছে অত্যন্ত প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছেন এবং আমাদের দেশের সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন। জাকির হোসেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন এর তালিকাভুক্ত জনপ্রিয় ও গুণী সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার।                                                                                                                                জাকির হোসেনের সফলতার গল্প

এম জাকির হোসেন ১৯৭৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চুপড়িয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- মরহুম মোঃ নিয়ামুদ্দীন গাজী ছিলেন পেশায় একজন অতি সাধারণ কৃষক । মাতা- রুপিয়া বেগম গৃহিণী । পিতা মাতার প্রতিষ্ঠিত নয় সন্তান এর মধ্যে জাকির হোসেন পঞ্চম । ছোট বেলা থেকেই জাকির হোসেনের সুরের প্রতি ছিল প্রবল আকর্ষণ । গ্রামের মক্তবে আরবী পড়াকালে হামদ-নাত এবং কেরাত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার সুর চর্চা । বাড়িতে মেঝ চাচার রেডিও ছিল তার সুরের জগতে পথ চলার একমাত্র উৎসাহের বস্তু । ভোর বেলা ঘুম ভাঙতো বাবা ও বড় ভায়ের মধুর কন্ঠে পবিত্র কোরান তেলাওয়াত শুনতে শুনতে। সেই শিশু বয়সেই ধর্মীয় আবহে হৃদয় বীণায় যে সুরের জাল বুনেছিল আজও তা বহমান রয়েছে।

জাকির হোসেন ১৯৯৪ সালে সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ‘সাতক্ষীরা জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদ’ এর সংগীত শিক্ষক মরহুম আমজাদ হোসেন এর নিকট সংগীত শিক্ষা গ্রহণ করেন। একই সময়ে তিনি ওস্তাদ অপূর্ব রায়ের নিকট সংগীত এবং বিশ্বজিৎ সাহার কাছে তাল বিষয়ে তালিম নিতে থাকেন। ১৯৯৬ সালে সাতক্ষীরা সরকারী কলেজ থেকে এইচ এস সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সরকারী সংগীত কলেজ, ঢাকাতে স্নাতক শ্রেণীতে সমন্বিত শাস্ত্রীয় সংগীত ও নজরুল সংগীত বিষয়ে ভর্তি হন। পরবর্তী বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সফল ভাবে শেষ করেন ।

পড়ালেখা চলা কালীন দীর্ঘ এই সংগীতের পথ চলায় যে সকল গুণীজন ও ওস্তাদ তথা গুরুদের সরাসরি সান্নিধ্য পেয়েছেন, তাদের অপার স্নেহ পেয়েছেন, তার মধ্যে শ্রদ্ধেয় নজরুল সংগীত শিল্পী খালিদ হোসেন, নিলুফার ইয়াসমিন, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ওস্তাদ আখতার সাদমানী, সৈয়দ জাকির হোসেন, ড. মৃদুল কান্তি চক্রবর্তী, দীপক পাল, কুহেলী ইসলাম, শাহনাজ নাসরিন ইলা ও তপন সরকারসহ বহু সংগীত ব্যক্তিত্ব উল্লেখযোগ্য ।

শিক্ষা জীবনে তিনি বহুবিধ সংগীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান সহ হ্যাটট্টিক চ্যাম্পিয়ন হয়ে অসংখ্য পুরস্কার আর সম্মান বয়ে এনেছেন নিজের এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। স্কুল জীবনে তিনি রোভার স্কাউটের দলনেতা ছিলেন। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নৌ শাখার ক্যাডেট সার্জেন্ট হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী তিন বছর বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর এর বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবির এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় একাধিক প্রথম পুরষ্কার অর্জন করে ঢাকা ফ্লোটিলাকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য বিশেষ অবদান রাখেন। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের নৌ শাখা তার কৃতিত্ব ও সাফল্যের জন্য তাকে ‘বেস্ট অফ কালচার’ উপাধিতে ভূষিত করে।

২০০২ সালে একাডেমিক শিক্ষা জীবন শেষ করে পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্য বিভাগে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে লোকসঙ্গীত শিল্পী, আধুনিক গানের শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনসহ বহু প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থেকে তিনি অসংখ্য সংগীত রচনা করেছেন। সমসাময়িক জনপ্রিয় শিল্পীরা তার গান চর্চা ও সাধনা করে চলেছেন। এ পর্যন্ত তরুণ প্রজন্মের যারা তার রচিত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শহীদ কবির পলাশ, আরিফুজ্জামান, বাঁধন, ইয়াসমিন লাবণ্য, আরিফ চৌধুরী পলাশ, কামরুল হাসান লিংকন, নাজিয়া বৃষ্টি, তাসমিম জামান স্বর্ণা, আলী হুসাইন, শ্যামা সরকার, সূবর্ণা ও আলী আশরাফী মুকুলসহ আরো অনেকে।

জাকির হোসেন নিজের গানের পাশাপাশি দেশের প্রতিথযশা গীতিকারদের কথায় সুরারোপ করে জনপ্রিয় হয়েছেন। তার মধ্যে মরমী গীতিকবি সাবির আহমেদ চৌধুরীর ১০টি দেশাত্মবোধক গানে তিনি সুরারোপ করেন যা কলকাতা থেকে এই ১০টি গানের একটি অডিও এ্যলবাম প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত গীতিকবি আমিনা ফাহিমের লেখা ‘তোমার রূপকথার গল্প শুনে’ শিরোনামে অত্যন্ত জনপ্রিয় গানটিতে তিনি সুরারোপ করেছেন। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ক্ষুদে গানরাজ খ্যাত শিল্পী তাসমিম জামান স্বর্ণা।

জাকির হোসেন জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ প্রতিযোগিতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের  সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সহ অসংখ্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় তিনি সম্মানীত বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিয়াম ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের সম্মানীত সদস্য এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বুলবুল ললিতকলা একাডেমিসহ বহু প্রতিষ্ঠানের সম্মানীত পরীক্ষক হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। তাছাড়া তিনি শিল্পকলার পদস্থ কর্মকর্তা হয়ে প্রায় ২০টি জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের সরকারি প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। কখনো সঙ্গীতশিল্পী, কখনো টিম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে সরকারি ও বেসরকারিভাবে তিনি চীন, জাপান, লেবানন ও ভারত সফর করেছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী’র ভাবনা ও পরিকল্পনায় ২০১৩ সালে জি.এম.জাকির হোসেনের তত্ত্বাবধানে দেশের ৬৪ জেলার ২০০জন প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীর কণ্ঠে ২০টি অডিও এ্যালবাম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ২০০জন শিশু শিল্পীর ২০টি অডিও এ্যালবাম প্রকাশিত হয়। দীর্ঘদিন দেশের তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার সুবাদে তাদের ভালোবাসার মানুষ হিসেবে পরিণত হয়েছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবিয়াল পত্রিকা ও ফয়জুল আলম পাপ্পু এবং শ্বাশত মনিরসহ অনেকেরই সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থে তার অসংখ্য কবিতা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ‍পূর্তিতে ‘শতবর্ষের আলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে অনুষ্ঠানের জুড়ি বোর্ডের বিচারে জাকির হোসেন এর রচিত ও সুরারোপিত গান থিম সং হিসেবে মনোনীত হয়।

গানটির কথা-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে স্বপ্ন নিয়ে স্বপ্ন বুনতে আসে

এখানেই জীবনের নতুন সূর্য হাসে

এখানে নতুন করে নতুন জীবন কথা কয়।।

গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পীবৃন্দ। যাদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ আব্দুল হাদী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, শুভ্রদেব, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, সামিনা চৌধুরীসহ আরো অনেকে। তিনি তার এ সাফল্য নিয়ে গর্ববোধ করেন।

জাকির হোসেন তার সহপাঠী, বন্ধু ও সঙ্গীত সারথি মেহেদী হাসান রানার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অন্তহীন পথ’ এর সঙ্গীত রচনা করেন। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করা হয়নি কখনো তবে ভালো প্রস্তাব পেলে অবশ্যই কাজ করবেন এমনটাই ভাবনা আছেন তার । সম্প্রতি তিনি বিশিষ্ট গীতিকবি ও সুখবর ডট কম এর কর্ণধার খোকন কুমার রায়ের লেখা বেশ কিছু গানে অসাধারণ সুর করেছেন যেগুলো আদৃতা মুভিজ ইউটিউব চ্যানেল থেকে খুব শীঘ্রই রিলিজ করা হবে এবং আশা করছেন গানগুলি ভীষণ শ্রোতা প্রিয়তা পাবে। গানগুলিতে দেশের উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা কণ্ঠ দিয়েছেন এবং কম্পোজিশন করেছেন নাসির হোসেন।

জি এম জাকির হোসেন পেশায় সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উপসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী থেকে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’ এর সম্মাননা অর্জন করেছেন এবং সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা পেয়েছেন । তাছাড়া বর্তমানে সারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, সাংস্কৃতিক মনিষী এবং সংস্কৃতিজনদের উপর ‘জীবন ও কর্মকথা’ গ্রন্থের সংকলনটিতে খুলনা বিভাগ থেকে সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে জাকির হোসেন এর নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ একটি বড় সম্মানজনক অর্জন।

সংগীতের অসীম নেশায় হাজার ব্যস্ততার মাঝেও সংগীত ছেড়ে থাকতে পারেননা তিনি। চাকরির পাশাপাশি ছুটির দিনে অবসরে ছাত্র-ছাত্রীদের সংগীত শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই আগামী দিনে ভালো করবে বলে তিনি মনে করেন। গীতিকবি জি. এম. জাকির হোসেন আমাদের গৌরব । আমরা তার সমৃদ্ধ জীবন এবং উত্তোরোত্তর সাফল্য কামনা করি।

আরো পড়ুন:

শরণ বড়ুয়ার সংগীত নিয়ে পথচলা

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ