spot_img
22 C
Dhaka

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

‘সিত্রাং’ মোকাবিলায় প্রস্তুত নৌবাহিনী ও শেল্টার সেন্টার

- Advertisement -

ডেস্ক নিউজ, সুখবর বাংলা: পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিক অগ্রসর হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ মধ্যরাত অথবা মঙ্গলবার ভোরে খেপুপাড়ার নিকট দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

এ অবস্থায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ, অমাবস্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৮ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ পরবর্তী সময়ে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৭ টি জাহাজ, এমপিএ ও হেলিকপ্টার।

প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরও সাত হাজার ৩০ টি সেল্টার সেন্টার, প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শতভাগ মানুষকে সরিয়ে আনা হবে। ১৫টি জেলার ২৫ লাখ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রের আওতায় আনা হবে। প্রতি জেলায় ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনা খাবার ও রান্না করে খাবারের জন্যও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।

‘সিত্রাং’ ভারতের দিক থেকে সরে পুরোটাই বাংলাদেশে আঘাত হানবে। এটি এখন সাইক্লোনে রুপ নিয়েছে। সবেচেয়ে বেশি বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায় আঘাত হানবে এবং মহাবিপদ সংকেত পর্যন্ত দেয়া হতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এইসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এম এইচ/

আরো পড়ুন:

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় যা করণীয়

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ