spot_img
23 C
Dhaka

২৮শে জানুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৪ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে অনুমতি লাগবে

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর ডটকম: আলোচিত সরকারি কর্মচারী আইন সংশোধনে বিল উঠেছে জাতীয় সংসদে। ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৩’ নামে গতকাল মঙ্গলবার সংসদে বিলটি তোলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। উত্থাপিত বিলের ৪১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সহিত সম্পর্কিত অভিযোগে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হইবার পূর্বে তাহাকে গ্রেফতার করিতে হইলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।’ তবে এ বিষয়ে সরকারের করা লিভ টু আপিল এখনো দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন। বিষয়টি নিষ্পত্তির আগেই সংসদে বিল আনলেন প্রতিমন্ত্রী।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘যে বিষয়টি এখনো সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, সেটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের বিল সংসদে উত্থাপন করা ঠিক নয়। সংসদ সার্বভৌম, তবে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগে বিষয়টি নিষ্পত্তির আগেই আইন সংশোধনের উদ্যোগ সাংবিধানিকভাবে বৈধ হবে না।’

ফৌজদারি মামলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতারে সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান গত বছরের ২৫ আগস্ট বাতিল করে হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেছিল, সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে পূর্বানুমতির বিধান বেআইনি, সংবিধান ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতে ঐ রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রিপন বাড়ৈ ও সঞ্জয় মণ্ডল। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪১ (১) ধারায় বলা ছিল, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সহিত সম্পর্কিত অভিযোগে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হইবার পূর্বে তাহাকে গ্রেফতার করিতে হইলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।’ আইনের ঐ ধারা চ্যালেঞ্জ করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সরোয়ার আহাদ চৌধুরী, একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া ও মাহবুবুল ইসলাম রিটটি দায়ের করেছিলেন। সেই রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৪১ (১) ধারা কেন বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না এবং ধারাটি কেন সংবিধানের ২৬ (১) (২), ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন হাইকোর্ট।

তবে হাইকোর্টের এই রায়ের বিষয়ে করা লিভ টু আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নেওয়া সংক্রান্ত সরকারি চাকরি আইনের ৪১(১) ধারা বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছিল আপিল বিভাগ।

গতকাল সংসদে উত্থাপিত ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৩’-এ বলা হয়েছে, স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা নির্ধারণের ক্ষমতা থাকবে অর্থ বিভাগের হাতে। বিলটি পরীক্ষানিরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ৩০ দিনের সময় দিয়ে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

উত্থাপিত বিলে বলা হয়েছে, ‘২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ১৫, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ও ৪৫ ধারার বিধান স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।’ ১৫ ধারায় বলা আছে, ‘সরকার, সরকারি গেজেটে আদেশ দ্বারা, কোনো সরকারি কর্মচারীর বা সব সরকারি কর্মচারীর বা সরকারি কর্মচারীগণের কোনো অংশের জন্য বেতন, ভাতা, বেতনের গ্রেড বা স্কেল, অন্যান্য সুবিধা ও প্রাপ্যতা বা অবসর সুবিধা সম্পর্কিত শর্তাদি নির্ধারণ করিতে পারিবে।’

বিলের ৪২ ধারায় বলা আছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর ফৌজদারি মামলায় এক বছরের বেশি সাজা হলে আদালতের রায়ের দিন থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত হবেন।

এর আগে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটির সংশোধিত খসড়া অনুমোদন পায়। ঐ  বৈঠক শেষে তত্কালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ) নিজেদের মতো বেতনকাঠামো নির্ধারণ ও আর্থিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়ার বিধান রেখে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়েছে।’ তিনি সেদিন আরো বলেছিলেন, ‘আগে কেবল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের  বেতন-ভাতা নির্ধারণের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের হাতে ছিল। কিন্তু এবার স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টিও একই বিভাগের অধীন নিয়ে আসা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ  থেকে অনুমতি নিতে হবে।’

গতকাল সংসদে উত্থাপিত বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি চাকরি আইনে স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের করণীয় সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তাই অর্থ বিভাগ সরকারি চাকরি আইনের বেতন-ভাতা নির্ধারণসংক্রান্ত বিধান সংশোধন প্রয়োজন।’

এম/

আরো পড়ুন:

দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদ অনুসন্ধানে নামছে দুদক

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ