spot_img
29 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৩রা অক্টোবর, ২০২২ইং, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

সব সরকারি সেবা এক ঠিকানায়

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সেবাপ্রাপ্তির আবেদন, বিভিন্ন সনদ ও প্রত্যয়ন, এমনকি বিভিন্ন লাইসেন্সের আবেদনও করা যাবে এক প্ল্যাটফরম থেকেই। জমিজমা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট, বিটিআরসি, সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর, এমনকি বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের সরকারি সকল সেবার আবেদনও এক জায়গায়ই করা যাবে।

চলুন বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি-

এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৫৪৭টি সরকারি অফিসকে মাইগভ প্ল্যাটফরমে যুক্ত করা হয়েছে। এক হাজার ৯০১টি সেবা র‌্যাপিড ডিজিটালাইজেশনের আওতায় এতে যুক্ত করা হয়েছে।

সব সরকারি সেবাকে একটি প্ল্যাটফরম থেকে প্রদানের জন্য ‘মাইগভ’ যাত্রা শুরু করে ২০২০ সালে। স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারি সেবাগুলোকে ই-সেবায় রূপান্তর করতে এটুআই প্রোগ্রামের উদ্যোগে ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ‘মাইগভ’ একটি সমন্বিত সেবা এই প্ল্যাটফরম। ১৭২টি সেবা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্ল্যাটফরমটিতে এখন দুই হাজার সরকারি সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মাইগভে নাগরিকরা একটি মাত্র ওয়েব ঠিকানায় একবার নিবন্ধন করেই অনলাইনে সব সরকারি সেবার অনলাইনে আবেদন ও সেবা গ্রহণ করতে পারছে। এর ফলে নাগরিক যেমনভাবে কম সময়, কম খরচে ভ্রমণ করে সর্বোচ্চ মানের সেবা পাচ্ছে, তেমনি নাগরিকরা প্রাপ্ত সেবার কোয়ালিটি সম্পর্কে মতামত প্রদান করতে পারছে।

যেভাবে ব্যবহার করা যাবে-

সরকারি সব সেবা এক প্ল্যাটফরমে আনার অঙ্গীকার নিয়ে ‘আমার সরকার বা মাইগভ’ প্ল্যাটফরমটি ওয়েব ব্রাউজার কিংবা মোবাইল অ্যাপ উভয় প্ল্যাটফরম থেকেই ব্যবহার করা যায়। ব্রাউজারে www.mygov.bd ঠিকানায় গিয়ে কিংবা গুগল প্লে স্টোরে  ‘আমার সরকার’ লিখে সার্চ করে অ্যাপ ইনস্টল করে সেবা ব্যবহার করা যাবে। মাইগভ প্ল্যাটফরমের যেকোনো সেবা ব্যবহারের আগে নাগরিক নিবন্ধন অপশন ব্যবহার করে একটি অ্যাকাউন্ট চালু করে নিতে হবে।

ওয়েব ও অ্যাপের বাইরেও সরকারি সেবার হেল্পলাইন ৩৩৩ থেকেও মাইগভ প্ল্যাটফরমের সেবা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠী বা যারা নিজেরা ইন্টারনেট সেবার বাইরে কিংবা নিজে ব্যবহারে অপরাগ, তারা চাইলে নিকটস্থ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে কিংবা যেকোনো এক সেবা উদ্যোক্তা পয়েন্ট থেকেও মাইগভ প্ল্যাটফরমের সেবা নিতে পারবে।

তথ্য দেব একবার, সেবা নেব বারবার-

নিজস্ব মোবাইল নম্বর কিংবা ই-মেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের প্রথম ধাপে প্রদানকৃত মোবাইল নম্বর কিংবা ই-মেইলে একটি ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) আসবে, সেটি ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড সেট করে নিলেই অ্যাকাউন্টটি সচল হয়ে যাবে। এরপরের ধাপে লগইন করার পর প্রফাইল আপডেট করে নিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রদান করলে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যাবলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রফাইলে যুক্ত হয়ে যাবে। এর বাইরেও কিছু ব্যক্তিগত তথ্য নিজে থেকে প্রদান করে প্রফাইলটি সম্পূর্ণ করে নিতে হবে। একবার প্রফাইল আপডেট সম্পন্ন হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে যেকোনো সরকারি সেবার আবেদনের ক্ষেত্রে বারবার তথ্য প্রদানের প্রয়োজন পড়বে না। এক ক্লিকেই সরকারি সেবার আবেদন করা যাবে।

আরও উল্লেখ্য যে, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে এর পরিবর্তে জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করেও অ্যাকাউন্ট করা যাবে।

যে ধরনের সেবা মিলবে-

মাইগভ প্ল্যাটফরমে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর থেকে শুরু করে আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সরকারি অফিসগুলোর নানা সেবা পাওয়া যাবে। এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৫৪৭টি সরকারি অফিসকে মাইগভ প্ল্যাটফরমে যুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে এক হাজার ৩৮৯টি সরকারি সেবা এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে, বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন—এমনটিই জানান এটুআই-এসপায়ার টু ইনোভেটের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড আউটরিচ কনসালট্যান্ট আদনান ফয়সাল। তিনি জানান, এরই মধ্যে মাইগভ সিস্টেমটি ৩৪.১৩ লাখেরও অধিক নাগরিক রেজিস্ট্রেশন করেছে এবং মাইগভের মাধ্যমে সরকারি সেবা গ্রহণের জন্য ২৩.৭০ লাখেরও আবেদন এসেছে, যার মধ্যে ২২ লাখ ১৮ হাজারেরও অধিক নাগরিকের আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ সংশোধন, ডিজিটাল বিজনেস আইডি (ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য), বিদেশগামীদের শিক্ষা সনদ যাচাই, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনেক সেবা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার সার্ভিস ইত্যাদি; ভূমিসেবার সব আবেদন, বিটিআরসির সব আবেদন, বিভিন্ন সনদ, লাইসেন্স, ভাতাপ্রাপ্তির আবেদন থেকে শুরু করে দপ্তরভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের আবেদন করা যাবে প্ল্যাটফরমটিতে।

সেবার আবেদন প্রক্রিয়া-

যেকোনো সেবার আবেদন করতে প্রথমে ওয়েব কিংবা অ্যাপে গিয়ে লগইন করতে হবে। এর পর থেকে থাকা সার্চ অপশন ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে কাঙ্ক্ষিত সেবাটি খুঁজে বের করতে হবে। এ ছাড়া সেখানে দপ্তর, খাত ও সেবাগ্রহীতার ধরন অনুসারেও সেবাগুলোকে সাজানো রয়েছে। সেখান থেকেও প্রয়োজনীয় ক্যাটাগরি কিংবা দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সেবাটি খুঁজে পাওয়া যাবে।

ধরুন, আপনি কেনাকাটা করতে গিয়ে কোনো বিক্রেতা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক হয়রানির স্বীকার হয়েছেন, এ ক্ষেত্রে মাইগভ প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে আপনি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন।

আবার ধরুন, আপনি মোবাইল অপারেটর থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না, তাহলে সেটির জন্য বিটিআরসিতে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এ ছাড়া ব্যাবসায়িক নিবন্ধন থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ব্যক্তিগত নানা সনদের আবেদন করা যাবে।

এ জন্য নির্দিষ্ট আবেদনের ঘরে গেলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সেবা প্রদানের সর্বোচ্চ সময়সীমা প্রদর্শিত হবে। সেখান থেকে আবেদন করুন, বাটনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় বিষয় উল্লেখ করে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে।

জানা যাবে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থাও-

মাইগভ প্ল্যাটফরমে সফলভাবে একটি আবেদন জমা দেওয়ার পর সেটি নির্দিষ্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হবে এবং ট্র্যাকিং নম্বর সংবলিত একটি এমএমএস আসবে নিবন্ধনকৃত মোবাইলে। সেখানে থাকা ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে কিংবা অ্যাকাউন্টে লগইন করে সেবা ব্যবস্থাপনা মেন্যু থেকে আবেদনের সর্বশেষ হালনাগাদ অবস্থা জানা যাবে।

আবেদন করার পর সেই আবেদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস বা কর্মকর্তা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদনটি যাচাই-বাছাই ও নিষ্পন্ন করা হলে সেটির হালনাগাদ অবস্থাও মাইগভ থেকেই জানা যাবে।

কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেলে করা যাবে অভিযোগ-

সেবার আবেদন করার পর সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতিতে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সেবা না পেলে বা সেবার গুণগত মান বা প্রদান পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ থাকলে মাইগভে থাকা ‘অভিযোগ দাখিল করুন’ লিংকে ক্লিক করে অভিযোগ জানানো যাবে।

এ ছাড়া প্রাপ্ত সেবার মান সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ও রেটিং জানানো যাবে। এ ছাড়া সেবার মানোন্নয়নে যেকোনো নাগরিক মূল্যবান প্রতিক্রিয়াও জানাতে পারবে।

ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা কেমন-

মাইগভ প্ল্যাটফরম সেবা নিয়েছেন কিংবা সেবা গ্রহণের চেষ্টা করেছেন এমন ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা ঠিকঠাক পাচ্ছেন জানালেও বেশ কিছু ব্যবহারকারী সেবা না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন। এ ছাড়া সব সরকারি অফিস এখনো এই প্ল্যাটফরমে যুক্ত নয় বলেও অভিযোগ করেন অনেক ব্যবহারকারী।

এই বিষয়ে যা বলছে কর্তৃপক্ষ-

মাইগভ প্ল্যাটফরম নিয়ে নাগরিক অভিযোগ এবং প্ল্যাটফরমটির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমরা কথা বলেছি এটুআই-এসপায়ার টু ইনোভেটের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে।

তিনি জানান, ২০২৩ সালের মধ্যে ৭৫ শতাংশ সরকারি সেবার ডিজিটাইলেজশনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা। এ ছাড়া পাসপোর্ট, ভূমিসেবা ইত্যাদি সরকারি সেবা, যেগুলোর নিজস্ব অনলাইন প্ল্যাটফরম রয়েছে, সেগুলোকেও মাইগভে ইন্টিগ্রেট করার কাজ করছেন তাঁরা, যেন নাগরিক একটি প্ল্যাটফরম থেকেই যেকোনো সরকারি সেবা খুব সহজেই পেতে পারে।

সেবা না পাওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি জানান, এরই মধ্যে দেড় হাজারেরও বেশি সার্ভিসকে তাঁরা মাইগভে যুক্ত করেছেন। নাগরিকরা এখানে সেবার আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সেবা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এটির মানোন্নয়নে ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে তাঁরা ও নিজ নিজ দপ্তরগুলো প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, সেবা না পাওয়ার অল্পস্বল্প যে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে আসবে। নাগরিক পর্যায়েও দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যাপারে জোর দিয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নাগরিকদের দিক থেকেও তথ্যে ঘাটতি কিংবা অসম্পূর্ণ আবেদনের কাজে সেবা প্রদানে সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্ল্যাটফরমটি ব্যবহারের ব্যবহারকারীর দক্ষতা বৃদ্ধিও সমানভাবে জরুরি। এ জন্য প্রয়োজন প্ল্যাটফরমটির সঠিক প্রচার।

এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য-

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে সরকারি সেবাগুলোর ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নেই। মাইগভ প্ল্যাটফরমে সরকারি সেবাগুলোর একত্রীকরণের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক নূর বলেন, ‘এটির সর্বোচ্চ সুফল প্রাপ্তিতে প্রকল্পটির সঙ্গে সব দপ্তর ও সংযুক্ত সবার সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিকসেবা প্রাপ্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলে সরকারি সেবা ব্যবস্থাপনায় এক অনন্য মাইলফলক স্থাপন করতে পারবে প্ল্যাটফরমটি। ’

নাগরিক সেবার প্ল্যাটফরম-

সরকারি সেবা প্রদানে নানা অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। আবার অনেক সময় কোন সেবা পেতে কোন দপ্তরে যেতে হবে—এসব না জানার কারণেও নাগরিকরা হয়রানির স্বীকার হয়। মাইগভ প্ল্যাটফরমটিকে পরিপূর্ণরূপে কার্যকর করা গেলে এটি সরকারের সঙ্গে জনসাধারণের মেলবন্ধনের অনবদ্য এক প্ল্যাটফরমে পরিণত হতে পারে। এতে একদিকে যেমন নাগরিক ভোগান্তি কমবে, ঠিক তেমনি রোধ হবে সময়ের অপচয়।

এম এইচ/

আরও পড়ুন:

খালেদার জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ছে আরও ৬ মাস

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ