spot_img
29 C
Dhaka

২৭শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

শ্রীলঙ্কার পথেই হাঁটছে পাকিস্তানের অর্থনীতি

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের কারণগুলো পাকিস্তানের উপরেও প্রভাব ফেলছে। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান উভয়ের অর্থনীতি একই রকম চ্যালেঞ্জেরই সম্মুখীন।

মুহাম্মদ হামজা কামার, ডেইলি পার্লামেন্ট টাইমসকে জানান, পাকিস্তানে প্রচুর পরিমাণে ঋণ, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্বের বৃদ্ধি এবং অন্যান্য অনেক সামষ্টিক অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে যার জন্য দেশটি একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান উভয়েরই অর্থনৈতিক সমস্যার মূলে রয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নির্ভরতা, সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার উৎস, মুক্ত বাণিজ্যে সীমাবদ্ধতা এবং পুঞ্জীভূত বৈদেশিক ঋণ।

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বর্তমানে ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণের উপর নির্মিত। এটি নির্মাণ করতে প্রয়োজনীয় টাকা পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে নিয়েছে এবং তার বিপরীতে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব গ্যারান্টি হিসেবে দিয়েছে।

সরকারী নথি অনুসারে, এই বিনিয়োগগুলি তাদের ইক্যুইটির উপর ডলারের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭-২০ শতাংশ হারে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল (শুধুমাত্র ইক্যুইটি অংশ, পুরো প্রকল্পের খরচ নয়)।

চীন তার বিনিয়োগের খরচ ২৬ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পুনরুদ্ধার করবে এবং চুক্তির মেয়াদের পরবর্তী ২৫ বছরের জন্য পাকিস্তানের উপর রাজত্ব করবে। ডেইলি পার্লামেন্ট টাইমস রিপোর্ট করেছে যে, দেশের অর্থনীতি এত উচ্চ খরচের কারণে স্থবির হয়ে পড়তে পারে।

এই ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত প্রদান করেছে। ঋণ বা ইক্যুইটি অদলবদলের ক্ষেত্রে, শ্রীলঙ্কা হাম্বানটোটা বন্দর এবং পাওয়ার প্ল্যান্ট চীনের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং বিমানবন্দরটিও চীনা নিয়ন্ত্রণে স্থানান্তর করতে পারে কারণ শ্রীলঙ্কা নিজেদের অবস্থার কথা জানে যে চীনের কাছে দেশটি তার ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম। এই ঋণ সেবা শ্রীলঙ্কার রাজস্বের ৯০ শতাংশ খরচ করছে।

ভেনিজুয়েলা চীন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চীন এখানে ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ভেনিজুয়েলা এ ঋণ পরিশোধ করতে তার উৎপাদিত দ্রব্যগুলোকে কাজে লাগায় এবং ফলস্বরূপ ভেনিজুয়েলা থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল তেল চীনকে প্রদান করা হয়। এই তেল চীনের অর্থনীতিকে আরও বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করেছে।

পাকিস্তানের মোট ঋণ ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা জিডিপির ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। এর মধ্যে সিপিইসি থেকে প্রাপ্ত ঋণ অন্তর্ভুক্ত নয়।

সিপিইসির ঋণের ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এ ঋণের অন্ততপক্ষে ৭ শতাংশ সুদ পরিশোধ করতে হবে। যার ফলে বলা যায় ২০১৮ সাল থেকে শুরু করে আরো ৪৩ বছর পাকিস্তানকে ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার ইএমআই প্রদান করতে হবে।

দেশটির পক্ষে ঋণের মূল টাকা এবং তার সাথে সংযুক্ত উচ্চ মূল্যের সুদের হার উভয়ই পরিশোধ করা অসম্ভব।

অন্যদিকে সিপিইসি-তে বিনিয়োগের চুক্তির শর্তাবলী একতরফা। এতে চীনা কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে নো-বিড চুক্তির শর্ত প্রযোজ্য। চীনা যানবাহনের জন্য টোল ট্যাক্স থেকে অব্যাহতি এবং চীনা কর্মীদের অগ্রাধিকার এবং সুবিধাভোগের অধিকারও দেওয়া হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার প্রকল্পে চীনের আচরণ একই ধরনের ছিল। ঐ একই আচরণ পাকিস্তানের সাথেও করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, ইতিমধ্যে নেওয়া বৈদেশিক ঋণ এবং সিপিইসি প্রকল্পের দ্বারা পাকিস্তানের উপর যে ঋণের বোঝা চেপেছে তা শোধ করতে গেলেও পাকিস্তানকে আরো ঋণ নিতে হবে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ