spot_img
23 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

শূন্য কোভিড নীতির ফাঁদে চীন

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: চীনের নেতা শি জিনপিং তার কঠোর কোভিড শূন্য নীতির সাথে তৃতীয় মেয়াদে শাসনে আসার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় হয়ে গেছে।

কিন্তু এ নীতি ইতিমধ্যে সারাদেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনিং-এর অধিবাসীরা কঠোর লকডাউনের কারণে গত সপ্তাহে খাদ্যাভাবে ভুগেছেন। অন্যদিকে তিব্বতের লাসাতে ৭০ দিনেরও বেশি বাড়িতে থাকার আদেশের ফলে বিক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করছে।

হেনানের কেন্দ্রীয় প্রদেশে, ফক্সকন কোম্পানিতে লকডাউন ঘোষণা করা হলে, সেখানকার শ্রমিকেরা করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে কোম্পানি ত্যাগ করে মাইলের পর মেইল হেঁটে নিজেদের বাসস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাংহাইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় আর্থিক কেন্দ্র, ডিজনিল্যান্ডেও অবস্থা ভয়াবহ। কোভিড প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে গত সোমবার হঠাৎ করেই পার্কের গেইট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং করোনা পরীক্ষার জন্য দর্শকদের ভেতরে আটকে রাখা হয়।

যখন পুরো বিশ্ব করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এ দেশের অন্যান্য অংশে কঠোর লকডাউন, কোয়ারান্টাইন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এ দেশের অর্থনীতি এবং জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে।

কোভিড নীতিগুলোকে শিথিল করার পরিবর্তে নীতিপালনকে আরো জোরদার করা হয়েছে। শি’য়ের সমস্ত নীতি অনুসরণ করে কংগ্রেস শি কে একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

যদিও এ কোভিড নীতির ফলে সাংহাই এবং বেইজিং এর মতো বড় শহরগুলো তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, তবে ছোট শহরগুলো এখনো লকডাউন, কোয়ারান্টাইন এর ঝামেলা কাটিয়ে উঠতে পারছে না।

লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন এবং গণপরীক্ষার এ চক্র চলতেই আছে, যা দেশের অর্থনীতিতে বিরাট প্রভাব ফেলছে। সেইসাথে জনগণের জীবনও দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে এবং তারা হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।

গত সোমবার, হেবেই প্রদেশের বাওডিং শহরে একজন বাবা তার শিশুসন্তানের জন্য দুধ কিনতে বের হলে তাকে বাধা প্রদান করা হয়। এতে তিনি ছুড়ি দেখিয়ে কর্মকর্তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে জনগণ তার গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশ জানায়, উক্ত ব্যক্তিকে শুধুমাত্র ১০০ ইউয়ান (১৩.৭৫ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে এবং তার শিশুপুত্রের দুধের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার, গানসু প্রদেশের লানঝোতে ৩ বছর বয়সী একজনের মৃত্যু আরেক গণপ্রতিরোধের জন্ম দেয়। শিশুটির পরিবারের দাবি লকডাউন ব্যবস্থার কারণে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়েছে। পুলিশ জানায় অফিসারেরা যখন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় ততক্ষণে শিশুটি মারা গিয়েছে। কিন্তু লকডাউনের কারণে এম্বুলেন্সের বিলম্ব হওয়া নিয়ে পুলিশ কোন মন্তব্য করেনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে চীনা সরকার শূন্য কোভিড নীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ গুজবকে ভিত্তিহীন বলেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন যে এ ব্যাপারে তারা চীন সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন না। তারা সরকারকে এ নীতি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেয়।

চীনা স্বাস্থ্য অফিসারেরা অবশ্য বলেন এই মূহুর্তে এ নীতির পরিবর্তন দেশে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হারকে বাড়িয়ে তুলবে।

চীনে তৈরি শক্তিশালী এমআরএনএ ভ্যাকসিনগুলো পশ্চিমা দেশগুলিতে তৈরির অনুমোদন এখনো দেয়নি চীন। বিশেষজ্ঞরা জানান, চীনের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ মোকাবেলায় জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনারও অভাব রয়েছে।

তবে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভাইরোলজিস্ট জিন ডংইয়ান বলেছেন, সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে এই ধরনের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি এড়ানো যেতে পারে।

জিন বলেছেন, পরীক্ষা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, কোয়ারান্টাইন এবং লকডাউন আরোপ করার জন্য প্রচুর সময় এবং অর্থ ব্যয় করার পরিবর্তে, কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর ভ্যাকসিন এবং অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি চালু করা উচিত এবং বয়স্কদের মধ্যে টিকা দেওয়ার হার বাড়ানো উচিত।

তিনি বলেন, এমন কম মৃত্যুর হার এবং উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতার একটি সংক্রামক রোগের সাথে মোকাবিলা করার জন্য লকডাউন এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা আর উপযুক্ত নয়। পুরো বিশ্ব এই পদ্ধতিটি পরিত্যাগ করেছে।

শূন্য কোভিড নীতি বাস্তবায়ন সফল করতে সরকার জনগণকে কোভিড সম্পর্কে এতো ভয়ভীতি দেখিয়েছে যে তারা অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েছে, এমনকি কোভিড জয় করা ব্যক্তিরাও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

এই আতংকের ফলে ঝেংঝোর ফক্সকন কারখানা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক রাতের অন্ধকারে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

১২ মিলিয়ন বাসিন্দার একটি শহর ঝেংঝোতে কয়েক ডজন কোভিড ১৯ সংক্রমণের ঘটনার পর এ অঞ্চলে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। আতংকিত ফক্সকন কোম্পানির শ্রমিকেরা পায়ে হেঁটেই তাদের বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

গত অক্টোবর থেকে ফক্সকন কোম্পানিতে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে, যদিও তারা সংক্রমিত ব্যক্তিসংখ্যা প্রকাশ করেনি। পরিস্থিতি বিবেচনায়, গত বুধবার তারা একটি নতুন লকডাউন ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

শহরের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনগণের ভীতি কমানোর চেষ্টা করছে। গত সোমবার, ঝেংঝো প্রদেশের মিউনিসিপ্যাল হেলথ কমিশন জানায়, কোভিড তেমন ভয়ংকর কিছু নয়। এ রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসাযোগ্য।

শীতের আগমনে চীনে সংক্রমণের মাত্রা বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার চীনে ২৭৫৫ জন ব্যক্তির সংক্রমণের ঘটনা ঘটে, যা আগস্টের পর থেকে সর্বোচ্চ।

চীন যথাসম্ভব চেষ্টা করছে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার। তবে শেষ পর্যন্ত দেশটি সফল হবে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ