spot_img
32 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৫ই অক্টোবর, ২০২২ইং, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

শুভ জন্মদিন চিত্রনায়ক জসিম: বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা- (ভিডিও)

- Advertisement -

মাহবুব মারুফ, সুখবর বাংলা: ঢাকাই সিনেমার আশি দশকের দাপুটে চিত্রনায়ক জসিম। ভিলেন হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে অ্যাকশন হিরো হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন চিত্রনায়ক জসিম।

১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জের বক্সনগর গ্রামে জন্ম। পুরো নাম আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন। একই সঙ্গে অভিনেতা, অ্যাকশন ডিরেক্টর, প্রযোজক, পরিবেশক। প্রথম ছবি ‘দেবর’ এবং অ্যাকশন ডিরেক্টর ‘রংবাজ ছবিতে। নায়ক হিসেবে প্রথমছবি ‘মোকাবেলা।’

জসিম অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে — দেবর, রংবাজ, দোস্ত দুশমন, বারুদ, বদলা, কসাই, বাহাদুর, এক মুঠো ভাত, প্রতিহিংসা, মান-সম্মান, লাইলী মজনু, অভিযান, নিশানা, নিষ্পাপ, নিঃস্বার্থ, নিষ্ঠুর, দুই রংবাজ, হিরো, শত্রুতা, ভাই আমার ভাই, ভরসা, মাস্তান রাজা, পরাধীন, লাট সাহেব, বিজয়, ছোট বউ, জিদ্দি, রক্তের বদলা, চিরশত্রু, লক্ষ্মীর সংসার, লালু মাস্তান, টাইগার, কাজের বেটি রহিমা, বাংলার নায়ক প্রভৃতি।

ভিলেন জসিম ভয়ংকর এক জসিম। একই সাথে ভয় দেখায় আবার বিনোদন দেয় কথার মারপ্যাঁচে। ‘দোস্ত দুশমন’ এর খোঁচা খোঁচা দাড়ির জসিম যেমন ভয়ংকর কথা বলে আবার সুরে সুরে ছন্দ মিলিয়ে নিজের বাহাদুরি প্রকাশ করতে বিনোদনও দেয়। ‘লাইলী মজনু’ ছবির জসিম আরো ভয়ংকর। রাজ্জাক-ববিতার প্রেমের পথে কাঁটা। সেই জসিম পরে হল নায়ক জসিম। নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়াই ছিল জসিমের কাজ।

জসিমের অ্যাকশন পারফেকশন আমাদের চলচ্চিত্রের ইতিহাস সৃষ্টি করা। তাঁর ‘দোস্তদুশমন, মোহাম্মদ আলি, সারেন্ডার, লালুমাস্তান, কালিয়া, আখেরী মোকাবেলা, হিংসা, স্বামী কেন আসামী এ ছবি গুলোতে অ্যাকশন ছিল দুর্দান্ত। তার সাথে কপালের সামনের দিকে ঝুলে থাকে চুল। এটা ছিল তার স্টাইল। জমকালো অ্যাকশন কস্টিউম ব্যবহার করত। গাছের গুঁড়ি দিয়ে ঢাল বানিয়ে ফাইটিং করত। বিদেশি অজানা অস্ত্র বা বন্দুক ব্যবহার করত যেগুলো তখনকার ছবিতে ছিল না।

আমাদের বড়রা বলত-‘ জসিমের এক একটা ঘুষি নাকি পাঁচ সেরি ওজনের।’ একবার যার গায়ে পড়বে তার উঠে দাঁড়ানোটা মুশকিল। জসিমের ঘুষির সাথে মুখের আওয়াজও আসে আর ঐ সাউন্ডটাতো আসে তার মুখের ‘ভিসুএইক।’এটা ছিল নিজস্বতা। কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান একবার স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন জসিম তাঁকে দেখিয়ে দেয়ার পরেও ভুল করাতে ঘুষি খেতে হয়েছিল তারপর স্যুটিং প্যাকআপ করতে হয়েছে।

জসিমের পর্দা নাম সবচেয়ে বেশি ছিল ‘রাজু’ । রাজু বললেই সবাই বলত, ওটাতো জসিমের নাম।

জসিম দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালেরমুক্তিযুদ্ধে ২ নং সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে সশস্ত্র মু্ক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। এ বিষয়টি তাঁকে আলাদাভাবে সম্মানের জায়গায় রেখেছে মানুষের মনে।

জানা যায় একজন পরিচালকের শেষ বয়সের খরচ যোগাত জসিম। জসিম চাইতনা এসব প্রকাশ করতে। নিয়মিত তাঁর বাসায় খোঁজ খবর রাখত এবং আর্থিক সাহায্য করত। মনের দিক থেকেও জসিম ছিল উদার।

চলচ্চিত্রে অনেক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ জসিমের নামে এফডিসি-তে একটি ফ্লোর আছে। নাম মুক্তিযোদ্ধা চিত্রনায়ক জসিম ফ্লোর।

১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মাত্র ৪৭ বছর বয়সে কিংবদন্তি জসিমের মৃত্যু হয়।

একজন জসিম তাঁর কর্মে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে একাই একশো। তাঁর অবদান অনেকের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে জসিম হয়ে থাকবে গর্বিত অধ্যায়।

ইউটিউব লিংকঃ

আরো পড়ুন:

বুধবার মহিলা সমিতিতে বাতিঘরের ‘মাংকি ট্রায়াল’-এর ­প্রদর্শনী

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ