spot_img
24 C
Dhaka

৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ

শীতে কাপ্তাই লেক ভ্রমণ

- Advertisement -

পর্যটন ডেস্ক, সুখবর ডটকম: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদের নাম হলো বৈকাল হ্রদ। আর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ হলো কাপ্তাই লেক। এখানে লেক, পাহাড় ও সবুজের সমারোহে এক নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

রাঙামাটি ভ্রমণের কথা আসলেই প্রথমে চলে আসে কাপ্তাই লেকের কথা। রাঙ্গামাটি জেলার ৫৪ হাজার একরের কৃষি জমি ব্যবহার করে ও কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ করে দৃষ্টিনন্দন এই হ্রদ তৈরি করা হয়েছে।

এখানকার সবুজে ঘেরা পাহাড়ি ঝরনা, আঁকাবাঁকা রাস্তা এবং ছোট ছোট পাহাড়ের অপার সৌন্দর্য আপনার ব্যস্তময় জীবনে আনবে স্বস্তি। প্রায় ১১ হাজার বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত কৃত্রিম এই হ্রদটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড়।

এই লেকের একদিকের পাহাড়গুলোতে যেমন আছে সবুজে ঘেরা গাছের সমারোহ, অপরদিকে লেকের পানিতে রয়েছে বহু প্রজাতির মাছ। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সরকার পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মাণ করে কাপ্তাই হ্রদ।

কাপ্তাই ভ্রমণের আগে যথেষ্ট রোমাঞ্চ জাগে সব ভ্রমণ পিপাসুদের মনে। ধারণার চেয়েও অনেক বেশি বিশালতা এই হ্রদের। যেন বিশাল সাগর। রোমাঞ্চকর কাপ্তাই ভ্রমণ তাই স্মরণীয় হয়ে থাকবে অনেক দিন।

** কাপ্তাই লেকে উপভোগের কিছু স্থান হলো-

>> নৌকা ভ্রমণ- প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে নৌকা বা বোটে করে লেকের পানিতে ভেসে ভেসে চারপাশটা দেখে নিতে পারেন। নৌ বিহার কিংবা প্যাডেল বোটে করে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা আছে এই লেকে। চাইলে দলবেঁধে নৌ বিহার করতে পারেন। এছাড়াও স্পিডবোট কিংবা রিজার্ভ নৌকার ব্যবস্থাও আছে এই লেকে।

>> কাপ্তাই লেক ঝুলন্ত ব্রিজ- কাপ্তাই লেকে রয়েছে ঝুলন্ত ব্রিজ। ব্রিজে উঠে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে পারেন। চাইলে নৌকায় করে পানিতে ভেসেও এই ব্রিজ দেখে নিতে পারেন।

>> ঝরনা- কাপ্তাই লেকে অনেক পাহাড়ি ঝরনা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শুভলং ঝরনা।

>> কায়াকিং- লেকের ধারে কর্ণফুলী নদীতে রয়েছে কায়াকিং এর ব্যবস্থা। আপনি চাইলে দলবল নিয়ে এই অভিজ্ঞতা নিয়ে নিতে পারেন।

** কীভাবে যাবেন-

ঢাকা থেকে কাপ্তাই লেকে সরাসরি বাসে যেতে পারবেন। যানজট না থাকলে পৌঁছাতে পারবেন ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যেই। নন এসি বাসে ভাড়া পড়বে ৫০০-৭০০ টাকা, আর এসি বাসে ৯০০-১০০০ টাকার মধ্যেই যেতে পারবেন।

আবার ট্রেনে কাপ্তাই লেকে সরাসরি যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে ট্রেন ভ্রমণ করতে চাইলে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথে যেতে হবে। তারপর পরিবহন পরিবর্তন করে কাপ্তাই পৌঁছাতে পারবেন।

** কোথায় থাকবেন-

কাপ্তাই লেক ভ্রমণে রাত্রিযাপন করতে চাইলে সরকারি রেস্ট হাউসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগে থেকেই কথা বলে রাখবেন। এ ছাড়াও সেনাবাহিনী, পিডিবি ও বন বিভাগেরও কিছু রেস্ট হাউজেও থাকতে পারবেন। তবে সেটি অনুমতিসাপেক্ষে। কয়েকটি পিকনিক স্পট যেমন- লেকশোর, লেক প্যারাডাইস, জুম রেস্তোরাঁতেও থাকতে পারবেন। তবে অর্থ বেশি খরচ হবে।

** কোথায় খাবেন-

কাপ্তাই লেকের মধ্যে ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে। এই দ্বীপগুলোতে রয়েছে কিছু রেস্টুরেন্ট। ঘুরাঘুরির মাঝে এইসব রেস্টুরেন্টগুলোতে খেতে পারেন কিংবা খাবার সংগ্রহ করতে পারেন। তাছাড়া কাপ্তাইয়ে রয়েছে অনেক ছোট বড় রেস্টুরেন্ট। চাইলে এসব রেস্টুরেন্টে গিয়েও খেতে পারেন।

কাপ্তাই হ্রদে নৌবাহিনীর ঘাঁটি সংলগ্ন ভাসমান রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে এই রেস্টুরেন্ট। চাইলে এই রেস্টুরেন্টে গিয়েও খেতে পারেন।

এম এইচ/

আরও পড়ুন:

থানচিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ