spot_img
20.4 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

শি-বাইডেনের আসন্ন বৈঠকের আলোচনার শীর্ষে তাইওয়ান

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট: জো বাইডেনের ক্ষমতায় আসার পর, আগামী সপ্তাহে, চীনা নেতা শি জিনপিং এবং বাইডেনের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈঠক হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বৈঠকের আলোচিত বিষয়বস্তুর মধ্যে তাইওয়ানের বিষয় থাকবে সবার শীর্ষে।

চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র- এ দুই পরাশক্তির সম্পর্ক যখন খারাপের দিকে যাচ্ছে তখন এই বৈঠকটি হয়তো এদের সম্পর্কে নতুন সমীকরণ যোগ করতে পারে।

স্বশাসিত তাইওয়ানের উপর চীনের দাবি এবং এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান দাপট- এ বৈঠকের অন্যতম কারণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কম্পিউটার চিপ প্রযুক্তিতে বাঁধা সৃষ্টি করে এর যোগ্য জবাব দিয়েছে। এর ফলে চীন ফোন থেকে গাড়ি পর্যন্ত রপ্তানিমুখী বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং উত্তপ্ত বক্তব্যের পর, এ বৈঠক আসলে কেমন হবে এবং এর ফলাফল আদতে কি হবে তা জানার জন্য সমগ্র বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়ান বন্ধুদেশ- ভারত ও জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া উৎসুক হয়ে আছে। উল্লেখ্য, জি-২০ সম্মেলনের আগে আগামী সোমবার, বালিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

মহামারীর বেশিরভাগ সময়টাতেই শি চীনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবার বিদেশ ভ্রমণ শুরু করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার, এই বৈঠকটির সত্যতার কথা জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন বলেন, “আমরা অবশ্যই এই বৈঠকে তাইওয়ানকে নিয়ে আলোচনা করব। এ ব্যাপারে তারা আসলে কি করতে চায় এবং আমরা কি করতে পারি সে ব্যাপারেও আলোচনা হবে। তারা যদি আমাদের সাথে বিরোধে জড়াতে চায়, তাহলে তার মোকাবেলা কিভাবে করা যায় সেটা আমরা দেখব। সর্বোপরি আমরা সবকিছুরই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করব।”

তবে তিনি এটা স্পষ্ট করেন যে, তাইওয়ানের বিষয়ে মার্কিন নীতি সম্পর্কে কোন মৌলিক ছাড় দিতে তিনি রাজি নন।

উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ান নামক দ্বীপটিকে নিজস্ব অঞ্চল হিসেবে দাবি করে, যেখানে তাইওয়ান নিজেদেরকে স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে দেখে।

পূর্ববর্তী মার্কিন রাষ্ট্রপতিরা তাইওয়ানের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করলেও বাইডেন তাদেরকে অনুসরণ না করে জানিয়েছেন চীনের আক্রমণের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময় তাইওয়ানকে রক্ষা করবে।

অন্যদিকে শি পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) কে যুদ্ধের প্রস্তুতি এমনভাবে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন যেন জয় তাদেরই হয়।

শি সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য ভালোভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত আগস্টে মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফরে আসলে, চীন এবং তাইওয়ানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আরো বেড়ে যায়। চীন রাগান্বিত হয়ে তাইওয়ানের চারপাশে বিশাল সামরিক মহড়া দিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়।

গত বৃহস্পতিবার, হোয়াইট হাউস থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে শি-বাইডেন বৈঠকে তাইওয়ানকে নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হবে। অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান জানিয়েছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে নিরাপত্তা প্রদানের চেষ্টা করবে।

অপরদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমস্ত ভুল ধারণাকে ভুলে চীনের সাথে একত্রে কাজ করা উচিত। যদিও তাইওয়ানের ব্যাপারটি তাদের স্বার্থের সাথে জড়িত, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি শান্তিপূর্ণ সম্পর্কই বজায় রাখতে চায়।

গত মাসে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেসের বৈঠকে শি জানিয়েছিলেন যে, চীন কখনোই তাইওয়ানের উপর থেকে তাদের ক্ষমতা ত্যাগ করবে না। এমনকি বাইরের কোন শক্তি যদি তাদের মধ্যে আসার চেষ্টা পর্যন্ত করে তবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা তারা নিবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনেকদিন ধরেই এ ব্যাপারে ভাবছে। তাদের চীনের সাথে সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হলো- এক চীন নীতি। অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের শুধুমাত্র এক সরকারকেই স্বীকার করে। আর তাই তাইওয়ানের সাথে এর কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই।

আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ানের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানে অস্ত্র সরবারাহ ও করে থাকে। আর তাই তাইওয়ানের সুরক্ষার ব্যাপারে এ দেশ যথাসম্ভব সাহায্য করবে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ