spot_img
28 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

২রা অক্টোবর, ২০২২ইং, ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

শিশুদের দেরীতে কথা বলা, সমস্যা ও সমাধান

- Advertisement -

মৃত্তিকা শাশ্বতী অরনি, সুখবর বাংলাঃ দিন দিন আমাদের মোবাইল বা টিভির প্রতি ঝোঁক বাড়ছে, যেটাকে অন-স্ক্রিন অ্যাডিকশান বলা হয়। তবে আমাদের পাশাপাশি, মানে বড়দের সাথে সাথে ছোটরাও এই অ্যাডিকশানে বা নেশায় মত্ত হয়ে পড়ছে।

একদম ছোট বাচ্চাদের ভাত খাওয়ানোর জন্যে বা এমনি ব্যস্ত রাখতে অনেকেই বাচ্চার হাতে মোবাইল বা এমন কোন যন্ত্র ধরিয়ে দেন,যেখানে কোন কার্টুন বা ছড়াগান চলতে থাকে। আপাতদৃষ্টিতে সেগুলো বাচ্চাদের জন্যে বিনোদনমূলক বা শিক্ষণীয় মনে হলেও আদতে তা পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

অল্প বয়সী বাচ্চাদের জন্যে শুধু শারীরিক ক্ষতি নয়,বহুলাংশে মানসিক ক্ষতিও করে দিচ্ছে এই অন-স্ক্রিন অ্যাডিকশান।

ছোট বাচ্চাদের চোখ,কান ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যাঙ্গ খুবই কোমল হয়। চড়া শব্দ বা অতি উজ্জ্বল আলো বাচ্চাদের জন্যে ক্ষতিকারক হতে পারে।

সেসব ছাপিয়ে এখন বাচ্চাদের মাঝে চলে আসছে মানসিক কিছু সমস্যা,যা তাদের বিকাশের পথে বাঁধা তৈরি করছে ভয়াবহভাবে।

ওয়ান ওয়ে কমিউনিকেশন বা একমুখী যোগাযোগ। এর অর্থ হচ্ছে একজন বা একটি মাধ্যম থেকে যোগাযোগ বা কোন তথ্য দেয়া হচ্ছে,যেটা সামনের ব্যক্তি শুধু গ্রহণ করে যাবে। গ্রহণকারীর তরফ থেকে এর উত্তর দেবার সুযোগ থাকছে না।

কোন ছোট বাচ্চার সাথে যখন একমুখী যোগাযোগ করা হয়,সেটা ক্রমাগত হতেই থাকলে সেই বাচ্চার পক্ষে যোগাযোগ করতে শেখা বা উত্তর-প্রত্যুত্তর বিষয়টা ধরতে পারা কঠিন হয়ে পরে। যার ফলে অন্তর্মুখী(ইন্ট্রোভার্ট) হয়ে ওঠা, স্পিচ ডিলে বা দেরিতে কথা বলার মতো বিভিন্ন মানসিক সমস্যা বাচ্চাদের মাঝে চলে আসে।

এছাড়া এই কার্টুনগুলো ওভার স্টিমুলেটেড বা অতি উজ্জ্বল রঙের আধিক্যপূর্ণ। পুরো পর্দা জুড়ে অনেক চোখ ধাঁধানো রঙের ছড়াছড়ি।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে কার্টুনের মতো একটা নিরীহ বিষয় কীভাবে বাচ্চাদের ভেতর স্পিচ ডিলে,ওভার অ্যাক্টিভনেস বা হাইপার অ্যাক্টিভ ধরনের মানসিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

এই শিশু বিশেষজ্ঞদের ব্যাখা হচ্ছে বেশ কিছু শিশুতোষ কার্টুন সিরিজ বা চ্যানেল রয়েছে, যেগুলোতে অতিরিক্ত রঙের ব্যবহার রয়েছে যা বাচ্চাদের ওভার অ্যাক্টিভ বা হাইপারনেসের জন্যে দায়ী। এবং এইসব কার্টুনের মধ্যে একমুখী যোগাযোগ ব্যবহারের কারনে বাচ্চারা কথা না বলে বা জবাব না দিয়ে শুধু শুনতে অভ্যস্ত হয়ে পরতে থাকে।

এরকমের কার্টুনের মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে

১। কোকো মেলন।

২। চু চু টিভি

৩। সুপার সিম্পল সংস

৪। ইনফো বেল

৫। কিডস বেরি, ইত্যাদি

স্পীচ ডিলে হলে কি করণীয়ঃ

স্পীচ ডিলে হলে থেরাপিস্টের কাছে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। কেন না, স্পীচ ডিলে ঠিক হতে বেশ লম্বা সময় দরকার হয়।

কিছু পদ্ধতি এবং ব্যায়াম বাসায় নিয়মিত করতেই হবে। এতে করে বাচ্চার পক্ষেও দ্রুত স্পীচ ডিলে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

  • দেখুন, অপেক্ষা করুন, শুনুন:

বাচ্চা কি করছে, কিভাবে করছে, কি পছন্দ করে তা দেখুন।  বাচ্চা কোনো উদ্যোগ বা উত্তর দেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বাচ্চা কি বলছে তা মন দিয়ে শুনুন।

  • সময় দিন বাচ্চাকে:

বাচ্চাকে রোজ অন্তত ৩০ মিনিট করে সময় দিন। এই ৩০ মিনিট কোনোভাবেই কোন রকম স্ক্রিন বা মনিটর চালু রাখা যাবে না। যাবে না মানে একদমই না।

বাচ্চার সাথে খেলুন,ওর সাথে মেঝেতে বসুন,যেভাবে বাচ্চা খেলতে চায় বা খেলে,সেভাবেই ওর ধাপে নেমে এসে খেলুন। বাচ্চার চোখে চোখ রাখুন। ডিরেক্ট আই কন্টাক্ট করুন। বাচ্চাকে হাসানোর চেষ্টা করুন।

  • কথোপকথন:

বাচ্চার সাথে কথা বলুন। সহজ ভাষায় সহজ শব্দে। বলতে থাকুন। কথোপকথন থামাবেন না।  যেই ভাষায় আপনি চান বাচ্চা কথা বলুক, সেই ভাষাই ব্যবহার করুন।

কি করছেন, কি খেলছেন তার বর্ণনা দিন। এমন প্রশ্ন করুন যেটা তারা এক শব্দে জবাব দিতে না পারে। যেমন, ‘তুমি কি রুটি-মাখন খাবে?’ না বলে, জিজ্ঞেস করুন ‘রুটির সাথে তোমাকে কি দেবো?’ বাচ্চা যদি কোন কিছু বলে সেটার সাথে মিলিয়ে আরও কিছু শব্দ বলুন।

যেমন বাচ্চা যদি চড়ুই দেখে বলে “পাখি”, আপনি বলুন ‘এটা চড়ুই পাখি। পাখি সুন্দর করে ডাকে। উড়তে পারে ডানা মেলে।

  • পরিস্থিতি তৈরি করুন:

বাচ্চার খেলনা বা প্রয়োজনীয় জিনিস দূরে রাখুন। খুব বেশী দূরে নয়। এমনভাবে রাখুন যেন বাচ্চাকে সেটা চাইতে হয়। খাবার বা নাস্তার সময় তাকে অল্প পরিমানে খাবারটা দিন, যেন বাচ্চা বাকি খাবারটুকু আপনার কাছ থেকে চেয়ে নেয়।

গল্প পড়ে শোনানোর সময় কোন কোন সহজ লাইন অসম্পূর্ণ ভাবে ছেড়ে দিন, যেটা বাচ্চা নিজেই ধরতে বা সম্পূর্ণ করতে পারবে। যেই গল্পগুলো বাচ্চাদের জানা, সেই গল্পগুলোর কিছু কিছু লাইনে লম্বা বিরতি দিন,যেন সেই শব্দটা সে বলতে পারে।

  • আপনার ভালোবাসা:

আপনার বাচ্চার সুস্থতার জন্যে সবচেয়ে জরুরী বিষয় হচ্ছে আপনি। আপনি বাচ্চাকে সময় দিন। বাচ্চাকে আপনার সম্পূর্ণ সময় আর মনোযোগ দিন। আপনার সাহায্য সহায়তা,যত্ন,ভালোবাসা ছাড়া আপনার বাচ্চার বিকাশ অনেকাংশেই বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকবে।

স্পীচ ডিলে বা হাইপার অ্যাক্টিভনেস এখন অধিকাংশ পরিবারের দেখা যায়। তবে এটা নিয়ে চিন্তিত হবার বা ভেঙে পরার বদলে যদি একটু এই বিষয়টাকে ভালো ভাবে পড়া বা জেনে নেয়া যায়,তাহলে বাচ্চাকে সুস্থ করে তোলা বা বাচ্চার জীবনে এগিয়ে যাবার পথটুকু আর অতো বেশী কঠিন হয়ে ওঠে না।

আরো পড়ুনঃ

তরুণ বয়সেই কোমর ব্যথায় ভুগছেন

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ