spot_img
28.3 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ

শিশুদেরকে ঝুঁকি মোকাবেলা সম্পর্কে দক্ষ করে তুলার নানা উপায়

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: ছেলেবেলা থেকে বড় হয়ে উঠা পর্যন্ত একটি শিশুকে নানা বিপদের মুখোমুখি হতে হয়। কখনো কখনো শিশুর জন্য তার সবচেয়ে প্রিয় খেলনাই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শৈশবের প্রথম কয়েক বছর, গাড়ির ধাক্কা, সুইমিং পুল কিংবা পুকুরে পড়ে যাওয়া কিংবা কুকুরের কামড় ইত্যাদি নানা বিপদের আশংকা থাকলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিপদের ধরনে পরিবর্তন আসে।

কিশোর বয়সে এলকোহল, ড্রাগস, মানসিক অসুস্থতা ইত্যাদি বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনাসহ বায়ু দূষণের মতো অদৃশ্য বিপদ তো আছেই।

তাই আমাদের সবার উচিত নিজেদের বিপদ মূল্যায়ন করে অন্য কারো সাহায্য ছাড়াই তার মোকাবেলা করা। এর জন্যে দরকার দক্ষতা এবং ধৈর্য্য। তাড়াহুড়ো করে আমরা আদতে নিজেদের বিপদই ডেকে আনি।

শিশুরা কিভাবে নিজেদেরকে সমস্ত বিপদের হাত থেকে রক্ষা করবে? পিতামাতারাই বা কিভাবে তাদের সে বিষয়ে দক্ষ করে তুলবে??

শিশুরা কেন প্রাথমিকভাবে বিপদগুলো অনুধাবন করতে পারেনা এবং কিশোররাই বা কেন ঝুঁকের বশে বিপদের পথে পা বাড়ায় এ কারণগুলো খুঁজতে অবশেষে মনোবিজ্ঞানীরা সফল হয়েছেন।

শিশুদেরকে পরবর্তী জীবনের জন্য তৈরি করতে এবং তাদের মধ্যে “সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা” গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
তাদের মতে, এ পদ্ধতিগুলো শেখানোর মাধ্যমে শিশুদের মানসিক বিকাশ অর্জন সম্ভব।

শিশুরা সামান্য সহজাত জ্ঞান নিয়ে জন্মায়। অনেক মা বাবাই তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারবেন যে একটি হামাগুড়ি দেওয়া শিশু বারবারই বিছানার কিনারায় চলে আসে, যেখান থেকে তার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মূলত উচ্চতার ভয় আসে বয়স বাড়ার সাথে সাথে। শিশুর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার মধ্যে উচ্চতা নিয়ে আতংকের সৃষ্টি হয়।

ছোট বাচ্চারা মূলত অন্যদের মুখের অভিব্যক্তি দেখে বিপদ চিনতে শিখে। গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের ১০ বছর না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোকে, বিশেষ করে দৃষ্টি ও শ্রবণ শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখি না। যার ফলে একটি গাড়ি কত দ্রুত আসছে, কখন তা আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে সবকিছু শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুধুমাত্র একটি বিপদ শনাক্ত করা যথেষ্ট নয়।

যখন রাস্তা পার হওয়ার মতো নিরাপত্তার বিষয় আসে তখন প্রত্যেক মা বাবা-ই শিশুকে রাস্তা পারাপারের বিভিন্ন নিয়ম শেখান। যেমনঃ রাস্তা পার হওয়ার সময় প্রথমে বামে এবং তারপর ডানে দেখতে হয়। অথবা ট্রাফিক লাইটে যতক্ষণ না সবুজ চিহ্নিত এক ব্যক্তিকে দেখা না যাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ নিয়মগুলো প্রতিদিন পালন করতে করতে তা অভ্যাসে পরিণত হয়। পরবর্তীতে রাস্তা পারাপারের সময় শিশুকে আর মা বাবার নির্দেশনা মনে রাখতে হয় না কারণ ততদিনে তা তার অভ্যাসেই পরিণত হয়ে গিয়েছে।

বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর কিশোরীদের আরেকটু বেশি যত্নের প্রয়োজন হয়। তখন তাদেরকে বুঝাতে হয় যেন তারা তাদের অসুবিধাগুলোকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। এ সময়টাতে কিশোর মস্তিষ্কে ঘটা বিরাট পরিবর্তন তাদেরকে শিশুদের তুলনায় অধিক আবেগপ্রবণ করে তোলে।

এ সময়টাতে তারা নিষিদ্ধ কাজের দিকেই সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয়। তাই এ সময়টাতে তাদের উপর বেশি মনোযোগ দিতে হয় এবং তাদেরকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে যেন তারা বুঝতে পারে এসব কাজ আদতে তাদের বিপদই বাড়ায়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এ সময় তাদের মন মস্তিষ্ক এমন পর্যায়ে থাকে যে তারা চলমান নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পিছ পা হয় না। এ বয়সেই অধিকাংশ কিশোর কিশোরীদের আইন বিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এ বয়স যে প্রলোভনগুলো সাথে করে নিয়ে আসে তা প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন।

যখন কিশোর বয়সে সদ্য পাওয়া স্বাধীনতায় তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠে, তখন আমাদেরকেও এটা মনে রাখতে হবে যে একেক বয়সে মানুষদের একেক ভাবে তাদের বিপদ সম্পর্কে বুঝাতে হয়। একটি শিশু যেসব বিপদের সম্মুখীন হয় একজন কিশোরকে তার চেয়ে ভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। তাই একটি শিশু যেভাবে তার বিপদকে চিহ্নিত করতে পারে একজন কিশোরের সে পদ্ধতি ভিন্ন হতেই পারে। এ বিষয়ে মনোবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিপদে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতার বিষয়ে শিশু-কিশোর থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক বিভিন্ন বয়সের মানুষকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করেন মনোবিজ্ঞানীরা, যার দ্বারা নির্ধারণ করা যায় বিপদে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ঠিক কতটুকু।

ডিফো এবং ওয়ালার নামক দুইজন মনোবিজ্ঞানীর গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রাক-কিশোর থেকে কিশোর – কিশোরীদেরকে তাদের জীবনের আসন্ন বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করার জন্য পিতামাতা এবং শিক্ষককে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে শৈশব থেকেই শিশুকে মানসিকভাবে শক্তিশালী তৈরি করতে পারলে সে বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিপদে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো দক্ষতা অর্জন করবে এবং কিশোর বয়সে ঝুঁকির দিকেও পা বাড়াবে না।

এ ব্যাপারে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হলো আবেগপ্রবণতাকে দূরে ঠেলে আত্মনিয়ন্ত্রণের অভ্যাস করা। মননশীলতার মতো অভ্যাসগুলো এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাচ্চাদের আত্মিক উন্নতিতে সাহায্য করার পাশাপাশি সমালোচনার মাধ্যমেও বাবা মা তাদেরকে কোন কাজ করা উচিত নয় সে সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।

তবে ওয়েলার শুধুমাত্র একটি পথ অবলম্বন না করে বহুমুখী পথ অবলম্বন করার পরামর্শ দেন। এ পথগুলোর একমাত্র লক্ষ্য হলো শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সমস্ত বিপদ সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান থেকে শুরু করে বিপদে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে উন্নত করা।

তাদেরকে ছেলেবেলা থেকেই দক্ষ করে তুলতে হবে যেন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর, তারা তাদের জীবনের সমস্ত বিপদকে সাহসের সাথে মোকাবেলা করতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ