spot_img
19 C
Dhaka

৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২২শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

শিয়ের একনায়কতন্ত্রের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চীনকে

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: প্রাচীন চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস বলেছিলেন, “তিনটি পদ্ধতিতে আমরা জ্ঞান শিখতে পারি: প্রথমত, প্রতিফলনের মাধ্যমে, যা সবচেয়ে মহৎ। দ্বিতীয়ত, অনুকরণের মাধ্যমে, যা সবচেয়ে সহজ। এবং তৃতীয়টি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, যা সবচেয়ে তিক্ত।” কোভিড-১৯ পরিস্থিতির সময়, অন্যান্যদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা লাভে অস্বীকৃতি জানায় চীন,আর তাই এখন সমগ্র দেশটি তিক্ততায় ভুগছে।

চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং নিজেকে সবার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান বলে মনে করেছিলেন এবং ভেবেছিলেন তিনি যে সিদ্ধান্তই নিবেন সেটাই সর্বোত্তম। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেখা যায়, শি জিনপিংয়ের অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি চীনের ধ্বংস ডেকে এনেছে।

করোনা ভাইরাসকে পরাস্ত করতে যেখানে অন্যরা ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে শি ভেবেছিলেন তিনি তার প্রজ্ঞার দ্বারা এ ভাইরাসকে পরাস্ত করতে সক্ষম হবেন। দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর শূন্য কোভিড নীতি পুরো চীনকে শুধু স্থবিরতাই প্রদান করেছে।

চীনা শূন্য কোভিড নীতি গ্রহণ এবং হুট করেই এ নীতির বর্জন সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে এদেশের কর্মসংস্থান খাতে। এর ফলে অনেক শ্রমিককে হতে হয়েছে কর্মচ্যুত।

চীনা নাগরিকদের কোন কথা না শুনেই সিসিপি জনগণদের উপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিয়ে ভেবেছিল কোভিডের বিরুদ্ধে তারা একাই সফলতা অর্জন করতে পারবে।

চীনের জনগণ সুদীর্ঘ বছর জুড়ে কঠোর সম্রাট ও প্রভুদেরকে সহ্য করে এসেছে। দুর্ভাগ্যবশত, সিসিপি তার পূর্বপুরুষদের চেয়ে কম সহানুভূতিশীল, এবং জনগণকেই আবারও এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

ইতিমধ্যেই করোনায় অনেক নাগরিকদের মৃত্যু ঘটেছে চীনে। কিন্তু চীন এসব তথ্য গোপন রাখছে। তবুও সত্যকে আড়াল করা যায় না। জানুয়ারির শুরুতে, চাইনিজ একাডেমি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং তার ওয়েবসাইটে বলে যে ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ থেকে ২০২৩ এর ৪ জানুয়ারির মধ্যে ২০ জন মারা গিয়েছে করোনায়।

গত ১৩ ডিসেম্বর, ভাইস প্রিমিয়ার সান চুনলান দাবি করেন যে, বেইজিংয়ে শুধুমাত্র ৫০ জন রোগী করোনা আক্রান্ত এবং আরো যারা হাসপাতালে রয়েছেন তারা আগে থেকেই সেখানে ভর্তি ছিলেন।

ওষুধ মজুদের পরিবর্তে শি বিনিয়োগ করেছিলেন, গণপরীক্ষা এবং কোয়ারেন্টাইন ক্যাম্পের মতো অক্ষম খাতে। সেই সাথে পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে ভ্যাকসিন আমদানি করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি।

গত অক্টোবরে, ২০তম জাতীয় কংগ্রেস যেখানে শিয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, সেখানে করোনাকালীন তার পদক্ষেপগুলো তার ক্ষমতায় কালিমা লেপন করেছে।

দুর্ভাগ্যবশত এই একজন ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে দেশের ১৪ কোটি মানুষের ভাগ্যে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তার ক্ষমতার কাছে চীনা নাগরিকেরা অসহায়। এমনকি সরকারি কর্মকর্তারাও তার সিদ্ধান্তের কোনরূপ বিরোধিতা করেন না, বরং নির্দ্বিধায় মেনে নেন তার সব অন্যায় আবদার।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লি কুয়ান ইউ স্কুল অফ পাবলিক পলিসির ভিজিটিং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড্রু থম্পসন বলেন, পলিট ব্যুরোর সদস্যরা শিয়ের প্রতি তাদের আনুগত্যের কারণেই মূলত নির্বাচিত হয়েছেন। শিয়ের প্রতি আনুগত্যই এখানে মানুষের মেধার মাপকাঠি।

চীনা সমাজ, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে শির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কেউ কোনও প্রশ্ন তুলতে পারেনা। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেই কোনও স্বচ্ছতা।

হুট করে কোভিড নীতি তুলে নেওয়ার ক্ষমতাও ছিল একমাত্র শিয়ের হাতেই। আর তাই স্বাস্থ্য বিভাগ এ সম্পর্কে কোনও ধরনের ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে পারেনি।

এমনকি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও শিয়ের দিকে আঙ্গুল তুলছে না। দেশের এই করুণ পরিস্থিতি তারা ব্যস্ত ছিল পুরনো অতীত ঘাটতে, নানজিং গণহত্যার ৪৫তম বার্ষিকী নিয়ে কথা বলতে৷

চীনের এই পরিস্থিতিতে শি-ও নীরবতা পালন করছেন। আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর শির প্রথম বিদেশ সফর ছিল ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কাজাখস্তান এবং উজবেকিস্তানে। সেখানে তিনি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য যান। তারপরে, তিনি নভেম্বরে জি-২০ সম্মেলনের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় ছিলেন। এপেকের জন্য তিনি থাইল্যান্ড সফর করেন। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে চীন-আরব রাষ্ট্র সম্মেলন এবং চীন-জিসিসি শীর্ষ সম্মেলনের জন্য সৌদি আরব যান।

বিশ্বের দরবারে চীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা শি বিশ্বের মানুষের কাছে একজন দেশপ্রেমিক। যদিও শিয়ের কারণেই হয়তো বিশ্বের দরবারে চীনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। নিজের একগুঁয়ে স্বভাবের জন্য দেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে আসা শি এখনো নিজের দোষ স্বীকার করার পরিবর্তে পশ্চিমা বিশ্বকেই দোষারোপ করে যাচ্ছেন।

চীনের জনপ্রিয়তা হ্রাসের অন্যতম কারণ হল ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি শির নিঃশর্ত সমর্থন। পুতিনের সাথে শির একটি সখ্যতা রয়েছে, যা এখন কারোরই অজানা নয়।

অর্থনৈতিক দিক দিয়েও চীনের অবস্থান নিম্নগামী। যদিও অর্থনীতির উর্ধ্বগতির যে সামান্য তথ্যও চীন প্রদান করে সেগুলোও মানতে নারাজ বিশ্ববাসী। চীনের প্রতি তাদের বিশ্বাস উঠে গিয়েছে বহু আগেই৷ এক দশক আগে শি যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো বার্ষিক ৮০ হাজারেরও বেশি অর্থনৈতিক সূচক জারি করেছিল। ২০২০ সাল নাগাদ এ সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজারেরও নিচে।

দুঃখজনকভাবে, চীনা নাগরিকেরা শি-এর একনায়কতন্ত্রকে নীরবে মেনে নিয়ে নিজেদেরই বিপদ ডেকে আনছে।

আই. কে. জে/

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ