spot_img
31 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ইং, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

শাহ্ আব্দুল করিম বাউল সঙ্গীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন

- Advertisement -

সংস্কৃতি প্রতিবেদকসুখবর বাংলা: উপমহাদেশের কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত শিক্ষক যিনি বাউল সঙ্গীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি আমাদের শাহ্ আব্দুল করিম । তিনি জন্মগ্রহণ করেন সুনামগঞ্জ জেলায় ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আর মৃত্যু বরণ করেন ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর।

কর্মজীবনে তিনি পাঁচশো-এর উপরে সংগীত রচনা করেছেন। বাংলা সঙ্গীতে তাঁকে “বাউল সম্রাট” হিসাবে সম্বোধন করা হয়। তিনি বাংলা সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০১ সালে একুশে পদক পুরস্কারে ভূষিত হন।

খুব ছোটবেলায় তাঁর গুরু বাউল শাহ ইব্রাহিম মাস্তান বকশ থেকে সঙ্গীতের প্রাথমিক শিক্ষা নেন। তিনি আফতাব-উন-নেসা কে বিয়ে করেন, যাকে তিনি সরলা নামে ডাকতেন। তিনি ১৯৫৭ সাল থেকে তাঁর জন্মগ্রামের পাশে উজানধল গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ,দুঃখ হাসি কান্না প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তাঁর গান কথা বলে সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধে।

তিনি তাঁর গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ এবং দুদ্দু শাহ এর দর্শন থেকে। যদিও দারিদ্র তাঁকে বাধ্য করে কৃষিকাজে তার শ্রম ব্যয় করতে কিন্তু কোন কিছু তাঁকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

তিনি বাউল গানের দীক্ষা লাভ করেছেন সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বকশ এর কাছ থেকে। তিনি শরীয়তী, মারফতি, দেহতত্ত্ব, গণসংগীতসহ বাউল গান এবং গানের অন্যান্য শাখার চর্চাও করেছেন।

স্বশিক্ষিত বাউল শাহ আব্দুল করিম এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন। বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে তাঁর ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধুমাত্র ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল।

তাঁর মৃত্যুর কয়েক বছর আগে বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। বাউলসাধক শাহ আবদুল জীবনের একটি বড় অংশ লড়াই করেছেন দরিদ্রতার সাথে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় তার সাহায্যার্থে এগিয়ে এলেও তা তিনি কখনোই গ্রহণ করেননি। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সাউন্ড মেশিন নামের একটি অডিও প্রকাশনা সংস্থা তাঁর সম্মানে জীবন্ত কিংবদন্তীঃ বাউল শাহ আবদুল করিম নামে বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া তাঁর জনপ্রিয় ১২ টি গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে।

এই অ্যালবামের বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ তাঁর বার্ধক্যজনিত রোগের চিকি‍ৎসার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়। ২০০৭ সালে বাউলের জীবদ্দশায় শাহ আবদুল করিমের জীবন ও কর্মভিত্তিক একটি বই প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়, ‘শাহ আবদুল করিম সংবর্ধন-গ্রন্থ’ (উৎস প্রকাশন) নামের এই বইটি সম্পাদনা করেন লোকসংস্কৃতি গবেষক ও প্রাবন্ধিক সুমনকুমার দাশ।

শিল্পীর চাওয়া অনুযায়ী ২০০৯ সালের ২২ মে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ও খান বাহাদুর এহিয়া ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি ড. জাফর আহমেদ খানের উদ্যোগে বাউল আব্দুল করিমের সমগ্র সৃষ্টিকর্ম নিয়ে গ্রন্থ ‘শাহ আবদুল করিম রচনাসমগ্র’ প্রকাশিত হয়।বইটির পরিবেশক বইপত্র।

শাহ আবদুল করিমের আকাশ চুম্বি জনপ্রিয় কিছু গানঃ

বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে,আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম

গাড়ি চলে না, রঙের দুনিয়া তরে চায় না

তুমি রাখ কিবা মার,

ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ুরপংখী নাও,

তোমার কি দয়া লাগেনা,আমি মিনতি করিরে,তোমারও পিরিতে বন্ধু,সাহস বিনা হয়না কভু প্রেম,মোদের কি হবেরে ,মানুষ হয়ে তালাশ করলে

আমি বাংলা মায়ের ছেলে,আমি কূলহারা কলঙ্কিনী

কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া,

কোন মেস্তরি নাও বানাইছে,কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু,মন মিলে মানুষ মিলে, সময় মিলেনা,সখী তুরা প্রেম করিওনা,,

কাছে নেওনা ,দেখা দেওনা,মন মজালে,ওরে বাউলা গান,আমার মাটির পিনজিরাই সোনার ময়নারে

নতুন প্রেমে মন মজাইয়া,বসন্ত বাতাসে সইগো

আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু,মহাজনে বানাইয়াছে ময়ুরপংখী নাও,আমি তোমার কলের গাড়ি,সখী কুঞ্জ সাজাও গো,জিজ্ঞাস করি তোমার কাছে,যে দুংখ মোর মনে,হুরু থাকতে,

আমরা কত খেইর (খেইল) খেলাইতাম,হাওয়াই উরে আমার,গান গাই আমার মনরে বুঝাই,দুনিয়া মায়ার জালে,

দয়া কর দয়াল তোমার দয়ার বলে,আগের বাহাদুরি গেল কই,মন বান‍দিব কেমনে,আমার মন উদাসি,আমি তরে চাইরে বন্ধু,কাঙ্গালে কি পাইব তোমারে,বন্ধুরে কই পাব

এখন ভাবিলে কি হবে,আসি বলে গেল বন্ধু আইলনা

আমি কি করি উপায়,প্রান বন্ধু আসিতে কত দুরে

বন্ধু ত আইলনাগু সখী,আমি গান গাইতে পারিনা

খুজিয়া পাইলাম নারে বন্ধু,ভব সাগরের নাইয়া।

এ পর্যন্ত তাঁর ৭টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে তাঁর রচনাসমগ্র (অমনিবাস)-এর মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়াও সুমনকুমার দাশ সম্পাদিত শাহ আব্দুল করিম স্মারকগ্রন্থ (অন্বেষা প্রকাশন) তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

এর আগে-পরে শাহ আবদুল করিমকে নিয়ে সুমনকুমার দাশের ‘বাংলা মায়ের ছেলে : শাহ আবদুল করিম জীবনী (অন্বেষা প্রকাশন), ‘সাক্ষাৎকথায় শাহ আবদুল করিম (অন্বেষা প্রকাশন), ‘শাহ আবদুল করিম (অন্বেষা প্রকাশন), ‘বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম (উৎস প্রকাশন), ‘গণগীতিকার শাহ আবদুল করিম’ (উৎস প্রকাশন) প্রকাশিত হয়।

সর্ব শেষ ২০১৬ সালে ঢাকার প্রখ্যাত প্রকাশনাসংস্থা প্রথমা থেকে প্রকাশিত হয় সুমন কুমার দশের ‘শাহ আবদুল করিম : জীবন ও গান বইটি। এ বইটি ইতোমধ্যেই একটি প্রামণ্য জীবনী হিসেবে বোদ্ধামহলে স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। এ বইটিতে করিমের নির্বাচিত বেশ কিছু গানও সংকলিত হয়েছে।

বাউল সম্রাট গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী শাহ আব্দুল করিমকে `সুখবর বাংলা’ গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে আত্মার শান্তি কামনা করছে।

আরো পড়ুন:

‘বাঁশরী’তে আজ গাইবেন সংগীতশিল্পী মিতালী রায় এবং অর্পিতা দে

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ