spot_img
28.3 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে খেলা হচ্ছে না তাসকিন আহমেদের***নানা সুবিধাসহ যমুনা গ্রুপে চাকরির সুযোগ***১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘বিশেষ অভিযান’ চালাবে পুলিশ***সোহরাওয়ার্দীতে পা‌কিস্তান আত্মসমর্পণ করায় বিএনপি সেখানে সমাবেশ করতে চায় না : হাছান মাহমুদ***বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত***জিতের বাড়ির সামনে এক ভিন্নরকম জন্মদিনের চিত্র***বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলায় এক্সেল কামালের ফাঁসি কার্যকর***চেক ডিজঅনার মামলা : হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত***‘মিসেস ইউনিভার্সেস বাংলাদেশ-২০২২’ এর আয়োজক গ্রেফতার***করোনার টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শামসুর রাহমান : কবিতার বরপুত্রের জন্মদিন আজ

- Advertisement -

ডেস্ক নিউজ, সুখবর বাংলা: আধুনিক বাংলা কবিতার এক অনন্য কবি শামসুর রাহমান। কাব্য রচনায় অসাধারণ উপমা, সৃষ্টিশীলতা ও মননের দ্যুতিময় উপস্থাপনা তাঁকে দিয়েছে কবিতার বরপুত্রের উপাধি। ছন্দময় ও শিল্পিত শব্দের প্রক্ষেপণে কবিতার চরণে চরণে বলেছেন দেশ, মাটি ও মানুষের কথা। পরাধীনতার শৃঙ্খল পেরিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার কথাও বলেছেন কবিতার ভাষায়। নাগরিক এ কবি আমৃত্যু স্বদেশ ও শিকড়ের প্রতি ছিলেন দায়বদ্ধ। তাঁর কবিতার ছন্দে ফুটে উঠেছে অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত সমাজের কথা। আজ কবির জন্মদিন।

১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্ম শামসুর রাহমানের। ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট তিনি মারা যান। ৭৭ বছরের বর্ণময় জীবনের বড় অংশজুড়েই নিমগ্ন থেকেছেন সৃজনের মোহ ও অনুরাগে। পুরোনো ঢাকায় বেড়ে ওঠায় নগর জীবনের নানা অনুষঙ্গ ও প্রকরণ উদ্ভাসিত হয়েছে তাঁর কবিতায়। জীবনানন্দ-পরবর্তী বাংলা কবিতায় তিনি এক স্বতন্ত্র স্বর।

বাবা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী ও মা আমেনা বেগম। ১৩ ভাই-বোনের মধ্যে কবি ছিলেন চতুর্থ। পুরনো ঢাকার পোগোজ ইংলিশ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন ১৯৪৫ সালে। ১৯৪৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে ভর্তি হন এবং তিন বছর নিয়মিত ক্লাসও করেন সেখানে। শেষ পর্যন্ত আর মূল পরীক্ষা দেননি। পাসকোর্সে বিএ পাস করে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে এম এ (প্রিলিমিনারী) পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেও শেষ পর্বের পরীক্ষায় অংশ নেননি।

ষাটের দশকের শুরুর দিকে আত্মপ্রকাশ করেন শামসুর রাহমান। সূচনাটা অস্তিত্ববাদী ইউরোপীয় আধুনিকতায় প্রভাবিত হলেও এক সময় তিনি দেশজ সুর ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেন। পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় সমকালীন ঘটনাপ্রবাহ হয়ে ওঠে তাঁর কবিতার অন্যতম উপজীব্য। সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। মুক্তিযুদ্ধকালে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও বেশি উজ্জীবিত করেছে শামসুর রাহমানের কবিতা। এ ক্ষেত্রে তাঁর ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’। এ গ্রন্থেই তিনি প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছিলেন। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘রৌদ্র করোটিতে’, ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’, ‘নিরালোকে দিব্যরথ’, ‘আমি অনাহারী’, ‘বন্দিশিবির থেকে’, ‘দুঃসময়ে মুখোমুখি’, ‘ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা’, ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’ উল্লেখযোগ্য। তাঁর ‘বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, ‘গেরিলা’সহ নানা কবিতা মানুষের মুখে মুখে ফেরে। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে জীবন বিসর্জন দেওয়া আসাদকে নিয়ে লিখেছেন ‘আসাদের শার্ট’। গণতন্ত্রের জন্য লড়াকু সৈনিক শহীদ নূর হোসেনকে উৎসর্গ করে রচনা করেছেন ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’। এ কবিতাগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে মর্নিং নিউজে সাংবাদিকতার মাধ্যমে পেশাগত জীবনে প্রবেশ ঘটে তাঁর। এরপর ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত রেডিও পাকিস্তানের অনুষ্ঠান প্রযোজক ছিলেন। এর মাঝে আবার ফিরে আসেন পুরনো কর্মস্থল দৈনিক মর্নিং নিউজ-এ। সেখানে ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সহযোগী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৪ সালে নভেম্বর থেকে শুরু করে সরকারি দৈনিক পাকিস্তানের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে সামরিক সরকারের শাসনামলে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ সময় তিনি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা অধুনার সম্পাদকের দায়িত্ব¡ পালন করেন।

জীবদ্দশায় শামসুর রাহমানর ৬৬টি কাব্যগ্রন্থ, চারটি উপন্যাস, একটি প্রবন্ধগ্রন্থ, একটি ছড়ার বই ও ছয়টি অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তিনি অর্জন করেছেন আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক, জীবনানন্দ পুরস্কার, আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার, মিৎসুবিসি পুরস্কার (সাংবাদিকতার জন্য), স্বাধীনতা পদক, আনন্দ পুরস্কার। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে এই মহান কবিকে।

২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কবি। নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকার বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে সমাধিস্থ করা হয় তাঁকে।

এম/

আরো পড়ুন:

জীবনানন্দ দাশ: কবিতার মাধ্যমে যিনি ফিরে আসেন বারবার

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ