spot_img
32 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

১৭ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

২রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লকডাউনে স্বাভাবিক জন্ম হচ্ছে শিশুর, আগে লাগতো সিজার

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশুর জন্ম মানেই ‘সিজার’। এমনই পর্যায়ে চলে গেছে বিষয়টি। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে শিশুর জন্মের কথা বর্তমান সময়ে কদাচিৎ শোনা যায়। হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা প্রসবে নানা জটিলতার কথা বলে সিজারের পরামর্শ দেন। অনাগত শিশুটির বাবা-মাও সংবেদনশীল এই সময়টিতে কোনোরকম ঝুঁকি নিতে চান না। তাই টাকা যাই খরচ হোক না কেন সিজারের দিকেই হাঁটেন উভয় পক্ষ।

কিন্তু চলমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের মাঝে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। বাংলাদেশে সিজারের সংখ্যা কমে গেছে। কিন্তু প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর হার বাড়েনি। এ থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

করোনা পরিস্থিতির আগে স্বাভাবিক সময়ে দেখা গেছে, দেশে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিশুর জন্ম হতো সিজারে। আর ক্লিনিকগুলোতে ৯৫ শতাংশ ইনকাম ছিল সিজার থেকে।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলছিলেন, বিদেশে চার শতাংশ শিশুর জন্ম হয় সিজারে। আর বাংলাদেশে সিজারে জন্ম হয় ৯৬ শতাংশ শিশুর। নরমাল ডেলিভারি হয় চার শতাংশ। অথচ লকডাউনে ৯৬ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে নরমাল ডেলিভারিতে।

সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এক অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, করোনার সময় লকডাউনে দেশে এক লাখ ৭৫ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র চার শতাংশ শিশুর জন্ম সিজার বা অপারেশনে হয়েছে। আর বাকি ৯৬ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে নরমালে।

তিনি আরও বলেন, যখন লকডাউন ছিল না তখন ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিশুর জন্ম হতো সিজারে। প্রসূতি নারীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার এমনভাবে বোঝাতেন সিজার না করলে বাচ্চা বা মাকে বাঁচানো সম্ভব না। করোনাভাইরাস আমাদেরকে কতকিছু শেখাচ্ছে?

প্রসূতির ‘অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে’ হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলেন ব্যারিস্টার সুমন। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন হাইকোর্ট একটি রুল দিয়েছিল অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে সরকার কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না। এখন আমি জানি না সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু দেখুন, প্রকৃতি এমন ব্যবস্থা নিয়েছে যে ক্লিনিকগুলো খোলাই রাখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ক্লিনিকগুলো যেভাবে ব্যবসা করত এখন সেগুলো বন্ধ রয়েছে। এখন আর ব্যবসা করার সুযোগ নেই। দেশে শিশুর জন্ম কিন্তু বন্ধ থাকছে না লকডাউনে। নির্দিষ্ট তারিখে শিশু জন্ম নিচ্ছে। সিজার না হওয়ার একমাত্র কারণ এখন ক্লিনিকগুলো বন্ধ। আপনারা জানেন কি-না আমি তখন (রিট আবেদনে) বলেছিলাম যে, ক্লিনিকগুলোর ৯৫ শতাংশ ইনকাম হয় এই অপ্রয়োজনীয় সিজার থেকে।

“ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকার কারণে এবং আজকের দুঃসময় আসার কারণে আপনারা কী দেখলেন? স্বার্থপরতা দেখলেন। ক্লিনিক বন্ধ থাকার কারণে অপ্রয়োজনীয় সিজারও বন্ধ হয়ে গেছে। আমি জানি না, কোভিড নাইনটিন-পরবর্তীতে আমরা বাঁচব কি না। তবে যারা বাঁচবে তাদের জন্যেই এই ভিডিও বার্তাটি রেখে যেতে চাই” -যোগ করেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, সিজার বন্ধ হওয়ার কারণে যে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে তাও কিন্তু না। এর মানে হচ্ছে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে, বাড়িঘরে থাকলে, আমাদের মা বোনদের নরমাল ডেলিভারি সম্ভব।

“আপনারা এমন একটা বাস্তবতা দেখবেন যে ডাক্তাররা একটা কমন কথা বলেই, আমার বাচ্চার জন্মের সময় ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর একই কথা শুনেছিলাম ডাক্তারের কাছ থেকে। তারা বলেন, গর্ভের শিশু শুকনাতে পড়ে গেছে, পানি ভেঙে গেছে। এই দু-একটা কথা বললেই যারা নতুন বাবা হন তাদের মাথা ঠিক থাকে না, তাদের হুঁশ নষ্ট হয়ে যায়। এই অবস্থায় বলেন, যা ইচ্ছা করেন কিন্তু আমার বাচ্চাটাকে বাঁচিয়ে রাখেন।”

তিনি বলেন, এই সুযোগ নিয়ে কিছু কিছু গাইনি ডাক্তার, সুস্থ প্রসূতির সিজার করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। আমি এই ভিডিওটা রেখে যাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। আপনারা এটা থেকে যদি কিছু শিক্ষা দিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চার শতাংশ সিজার প্রয়োজন হয়, বাকি ৯৬ শতাংশ সিজার প্রয়োজন পড়ে না।

“প্রকৃতির বিচারেই আমরা এখন কিছুটা মানুষ হতে শিখছি। করোনাভাইরাস হয়তো থাকবে না, আমরাই মানুষ হওয়াটা যেন জারি রাখি। আপনারা ভবিষ্যতে যারা বাবা এবং মা হবেন তাদেরকে আহ্বান জানিয়ে বলছি, আপনারা এসব অনৈতিক সিজার থেকে দূরে থাকবেন। এই ক্লিনিকগুলো থেকে দূরে থাকবেন। সাথে সাথে সরকারকেও বলছি, এটা (করোনার সময়) থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেন, করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশে যেন সিজারে কম শিশু জন্ম নেয়।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ