spot_img
20 C
Dhaka

২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

র‍্যাব ও ডিবির কাছে সন্তোষজনক জবাব পেয়েছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা, কর্মসূচি স্থগিত

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন আত্মহত্যা করেছে দাবি করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া বক্তব্যের পর এসব দাবির পক্ষে র‍্যাব এবং ডিবি বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ দেখিয়েছে। এতে মোটামুটি সন্তোষজনক উত্তর পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান বুয়েট শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ফারদিনের মৃত্যু নিয়ে কর্মসূচি আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা তাদের (র‌্যাব ও ডিবি) সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় মূলত পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন তুলি। তাদের দেখানো এভিডেন্স এবং ডাটার মধ্যে আমাদের করা প্রশ্নগুলোর মোটামুটি সন্তোষজনক উত্তর পেয়েছি। তাদের তদন্ত বা যা যা ডাটা দেখিয়েছেন এতে আর সন্দেহ করার মতো তথ্য আমাদের কাছে নেই।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, ‘বুধবার যখন ডিবি বলেছিল, এটি আত্মহত্যা, তখন আমরা বলেছিলাম, এটি কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এতদিন হত্যাকাণ্ড বলে এখন আত্মহত্যা বলাটা আমাদের কাছে কোনোভাবেই যৌক্তিক মনে হচ্ছিল না। ১৪ তারিখ ডিবির মন্তব্য আসার পর, বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিদপ্তর থেকে বলা হয়, প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে যেন ডিবিকে জানানো হয়। তাদের সঙ্গে যেন বসি এবং তথ্য প্রমাণাদি দেখে নিই।

পরে ডিবির সঙ্গে বৈঠক করতে একদল শিক্ষার্থী মিন্টু রোডের ডিবি অফিসে যান। ওই সময় ডিবির কাছে পাঁচটি প্রশ্ন করেন তারা। সেগুলোর উত্তরও তারা পেয়েছেন ডিবির কাছ থেকে।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, ডিবির কাছে করা তাদের প্রথম প্রশ্ন ছিল, ময়নাতদন্তের পর ডাক্তার জানিয়েছিলেন, ফারদিনের বুকে ও মাথায় অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এখন কীভাবে আত্মহত্যার বিষয়টি আসল?

উত্তরে ডিবি তাদের জানায়, ডাক্তারের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন। ডাক্তার তাদের বলেছেন, এই আঘাতের ধরণটা অনেকটা কিল-ঘুষির মতো। এখানে কোনো কাটাছেঁড়ার বিষয় ছিল না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা ছিল রক্ত জমাট বাঁধার মতো। জামা কাপড় ছিঁড়ে যায়নি। ডাক্তার বলেন, উপর থেকে কেউ যদি নদীতে লাফ দেয়, তখন স্রোতের কারণে স্প্যানে ধাক্কা খেয়ে কিংবা পানিতে লাফ দেওয়ার কারণেও এ ধরনের আঘাতের চিহ্ন আসতে পারে। সুতরাং ওই চিহ্নের উপর ভিত্তি করে ডাক্তারও বলছেন যে, এটা যে আত্মহত্যা নয়, তা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা যায় না।

ডিবির কাছে করা তাদের দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ডিবি যে দাবি করছিল, সেই লোকটিই যে ফারদিন, এর ভিত্তি কোথায়?

জবাবে ডিবি জানায়, সর্বশেষ ফারদিনকে যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনায় উঠতে দেখা যায়। সেই লেগুনা তাকে তারাবোর দিকে অর্থাৎ সুলতানা কামাল ব্রিজের অপজিট পাশে নামিয়ে দেয়। ফারদিনের লোকেশন, ওই লেগুনা ড্রাইভারের লোকেশন—এগুলো ক্রসচেক করে ডিবি প্রমাণ পেয়েছে যে, বিষয়টি সত্য। ফারদিন যে জায়গা থেকে লাফ দেন, সেই জায়গা থেকেই তার লোকেশন ট্র্যাক করা হয়। ডিবি মনে করছে, ওই একই সময়ে, একই জায়গা থেকে অন্য একজনের লাফ দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এছাড়া, ওই সময়ের পরই ফারদিনের মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। এর  ১৫-২০ মিনিট পর ফারদিনের হাতঘড়িও বন্ধ হয়ে যায়।

ডিবির কাছে করা শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, ফারদিন যে সেদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছিলেন, তার কোনো সলিড প্রমাণ আছে কি না?

ডিবি জানায়, ওই দিন রাত ১০টা ৪৫ থেকে ১১টা ৯ মিনিট পর্যন্ত বুয়েটের একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফারদিনের কথা হয়। সেই কথোপকথনের সময় ফারদিনকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। ট্র্যাক করা তথ্য বলছে, ওই সময় ফারদিন ছিলেন জনসন রোডে। অর্থাৎ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর যে ট্র্যাকটা আমরা দেখেছি, ওই সময়টার মধ্যেই সেটি ছিল। ঘুরতে ঘুরতেই সে ফোনে কথা বলেছে এবং কথার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি। এরপর ১টা ৫৭ থেকে ১টা ৫৯ পর্যন্ত তার একজন বন্ধুর সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথা হয়। সেই বন্ধুর চ্যাট দেখে সেখানেও অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীদের চতুর্থ প্রশ্ন ছিল, লেগুনা ড্রাইভার কতদিন আগে ফারদিনকে নামিয়ে দিয়েছিল, তা সে কীভাবে মনে রেখেছে?

উত্তরে ডিবি জানায়, ওই লেগুনা ড্রাইভারকে আটকের আগে পুলিশ তাকে নজরদারির মধ্যে রেখেছিল। প্রথমত, তার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক আচরণ পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত, আটকের পর লেগুনা ড্রাইভার ঠিক কতজন নিয়ে যাত্রা করেছিল, সে ব্যাপারে হুবহু কিছু বলতে পারেনি। কারণ ঘটনা অনেকদিন আগের। তবে সে বলেছে, মোটামুটি ৫/৬ জন ছিল। তারাবোর ওইখানে, অর্থাৎ ব্রিজের ওই পাড়ে বাজারের কাছে অল্প দূরত্বের দুটো ভিন্ন স্থানে দুইজনকে নামিয়ে দেয়। ডিবির ধারণা, ওই দুইজনের একজন ফারদিন। এ কারণে লেগুনা ড্রাইভারের সাক্ষ্যকে তারা খুব বেশি একটা সন্দেহ করছে না। লেগুনা ড্রাইভারের কথার সঙ্গে টাইমিং পুরোপুরি মিলে গেছে।

ডিবির কাছে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধারের পর মাদক, চনপাড়া বস্তিসহ বিভিন্ন ঘটনা যে সামনে আসল, এগুলোর ভিত্তি কী? এমন প্রশ্নের প্রস্তুতি ছিল বুয়েট শিক্ষার্থীদের। কিন্তু বিষয়গুলো নিয়ে ডিবি থেকে আগে কিছু জানানো হয়নি। তাই প্রশ্নটি করার সুযোগ পাননি তারা। পরে একই প্রশ্ন র‍্যাবের কাছে করেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

জবাবে র‍্যাব জানায়, তারা যখন প্রথম তদন্ত করা শুরু করে, তখন ৩টি জায়গা থেকে তদন্ত শুরু করে। ১. পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না ২. দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু কি না ৩. আত্মহত্যা কি না।

তদন্ত শুরু করার পর ফারদিনের রবি সিমের নম্বর ট্র্যাক করে যে এমন একটি সেলে তার লোকেশন কানেক্ট হয়ে যায়, যা মূলত চনপাড়ার বেশিরভাগ এলাকা এবং সুলতানা কামাল ব্রিজের অংশবিশেষ কাভার করে। ওইসব ভিত্তিতে র‍্যাব চনপাড়া এলাকা টার্গেট করে। ওই সময়, চনপাড়া থেকে অনেক সন্ত্রাসীরা এসে দাবি করে, তারা ফারদিনকে হত্যা করেছে। সেই জায়গা থেকে র‍্যাব তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেক্ষেত্রে র‍্যাব তদন্ত করে কিছু না পেলে, সুলতানা কামাল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার দিকে ফোকাস করে।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আপাতত ফারদিনের মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের আর কোনো কর্মসূচি নেই। তবে ফারদিনের পরিবার যদি যৌক্তিক কোনো কিছু দাবি করেন আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব। তবে আমাদের কাছে এই বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ বা প্রশ্ন করার মতো কোনো এলিমেন্ট নেই। ভবিষ্যতে যদি নতুন করে কোনো তথ্য আসে তখন বিষয়টি নিয়ে আবার কথা বলব।

আই.কে.জে/

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ