spot_img
24 C
Dhaka

১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৮ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***মায়ানমারের প্রতি কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে চীন***ঐশ্বরিয়া, বিক্রম অভিনীত ‘পোন্নিয়িন সেলভান ২’ আসছে***ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ হাইফা বন্দর কিনে নিল আদানি গ্রুপ***নারীদের উপর বৈষম্য পাকিস্তানকে সাব-সাহারা দলভুক্ত করেছে***গোপালগঞ্জে ৫০ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পেলো স্কুল পোশাক***অনলাইন অধ্যয়নের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিয়েছে চীন***নতুন বাজেট উন্নত ভারতের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে : নরেন্দ্র মোদী***পেশোয়ারে মসজিদে বিস্ফোরণ: গোয়েন্দা প্রধানের অপসারণ দাবি পাকিস্তানিদের***২৬ জনকে চাকরি দেবে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান***ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিচ্ছে আনোয়ার গ্রুপ

যে কারণে ফোর-জি, ফাইভ-জি সম্প্রসারণ করতে পারছে না অপারেটররা

- Advertisement -

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক, সুখবর ডটকম: ডলার সংকটের কারণে সেলফোন অপারেটররা ফোরজি ও ফাইভজির কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারছে না। অন্য সব খাতের মতো সেলফোন অপারেটরদেরও আমদানি ব্যয় বেড়েছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে বেড়েছে মূলধনি ব্যয়। একই সঙ্গে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারজনিত ক্ষতি। বাড়তি এ চাপে শ্লথ হয়ে পড়েছে বিদ্যমান নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ ও ফোর-জির সম্প্রসারণ কাজ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বছর ফাইভ-জি’র বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালুর কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের সিংহভাগ এলাকাই ফোরজি সেবার আওতায় নিয়ে এসেছেন তারা। এক্ষেত্রে স্থাপিত টাওয়ারের আওতাধীন এলাকা ও জনগোষ্ঠীকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তবে মানসম্পন্ন সেবা দেয়ার প্রয়োজনে নিয়মিতভাবে নেটওয়ার্ক উন্নয়ন করতে হয় তাদের। একাধিক টাওয়ারের মধ্যবর্তী স্থানে নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনুপস্থিত থাকতে পারে (নেটওয়ার্ক পকেট), আবার জনবহুল এলাকায় নেটওয়ার্কের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এসব ক্ষেত্রে নতুন করে টাওয়ার বা ই-নোড-বি স্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। দেশের বাইরে থেকে আনতে হয় প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রাংশ।

অপারেটরদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ডলার সংকটে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারছে না তারা। আগের এলসির বিপরীতে আসা যন্ত্রাংশ সরবরাহ থাকায় এখনো নেটওয়ার্ক উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কাজ সেভাবে করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে অনেক অপারেটরই সেবার মানোন্নয়নে আমদানি নির্ভরতা কমাতে বিকল্প খুঁজছে।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে গ্রামীণফোনের লোকসান হয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে অপারেটরটি এ খাতে ৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বেশি মুনাফা করেছিল। রবি আজিয়াটা চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারজনিত কারণে ১২৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা লোকসান গুনেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

ডলার সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ফাইভ-জির বাণিজ্যিক কার্যক্রম নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ছয়টি স্থানে ফাইভ-জি সেবা চালু করে রাষ্ট্রায়ত্ত সেলফোন অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লি.। এলাকাগুলো হলো- বাংলাদেশ সচিবালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু স্মৃতিসৌধ, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল। চলতি বছরের মধ্যে টেলিটকের ২০০টি সাইটে ফাইভ-জি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোনও পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু করে। ২৬ জুলাই ঢাকা ও চট্টগ্রামে সফলভাবে ফাইভ-জি ট্রায়াল পরিচালনা করেছে অপারেটরটি।

রবি আজিয়াটা ফাইভজির ট্রায়াল পরিচালনা করেছে ২৮ সেপ্টেম্বর। ঢাকা ও রংপুরে পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে তারা। পরীক্ষামূলক ফাইভজি চালুর সময় খাতটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ফাইভজি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আর আগামী বছর ফাইভজির বাণিজ্যিক সেবা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যের কথা বলা হয়। অনুযায়ী প্রস্তুতিও চলছিল অপারেটরদের। নিলামের মাধ্যমে তরঙ্গ বরাদ্দ পায় তারা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় যথাসময়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ফোরজি নিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতার কথা জানান বেসরকারি শীর্ষ একটি অপারেটরের গ্রাহক রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘ফোরজি নেটওয়ার্ক রয়েছে, হ্যান্ডসেটে সেটির নির্দেশক চিহ্নও দেখা যায়। কিন্তু বাসার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে গেলেই তা চলে যায়। বাসায় ফোরজি নিয়ে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রায়ই। যদিও গুলশানের অফিসে এ সেবা পাওয়া যায় নিরবচ্ছিন্নভাবে।’

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মূলধনি ব্যয় বেড়েছে বেসরকারি তিন অপারেটরেরই। এ প্রান্তিকে রবি আজিয়াটার মূলধনি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫৬০ কোটি টাকা, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। বাংলালিংকের মূলধনি ব্যয় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের প্রান্তিকে এর পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে গ্রামীণফোন এ সময়ে মূলধনি ব্যয় কমিয়ে এনেছে। প্রান্তিকটিতে তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ২৮০ কোটি টাকা, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ছিল ৫৬০ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ১৯০ কোটি টাকা।

রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক হলেও বড় অংকের মূলধনি বিনিয়োগের ফলে মুনাফার হার আশানুরূপ হচ্ছে না। টেকসই মূলধনি বিনিয়োগের কারণে হাই ডেপ্রিসিয়েশন ও অ্যামোর্টাইজেশন ব্যয় মুনাফার পরিমাণ সীমিত করে দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মুনাফা অর্জন নিশ্চিত করতে এ কর্মকৌশলের কোনো বিকল্প নেই। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিনিয়োগ হয়েছে ৫৫৫ দশমিক ৫ কোটি টাকা। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ব্যয়ে দীর্ঘসূত্রতা বাড়াচ্ছে।’

নিজেদের অর্ধেকের বেশি গ্রাহককে ফোরজি সেবার আওতায় নিয়ে এসেছে রবি আজিয়াটা। প্রতিষ্ঠানটির সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে রবির গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৪৪ লাখে, যার মধ্যে ফোরজি গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৭৬ লাখ। রবির গ্রাহকদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এসব গ্রাহকের ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ফোরজি প্রযুক্তির সেবাগ্রহীতা। ১৫ হাজার ২১৯টি ফোরজি সাইটের (টাওয়ার) মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যার ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ রবির ফোরজি সেবার আওতায় এসেছে। এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে রবির প্রত্যেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী গড়ে ৫ দশমিক ৭ জিবি ডাটা ব্যবহার করেছে।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানি ব্যয় কমিয়ে আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান। তিনি বলেন, ‘নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান বৃদ্ধির জন্য আমরা বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করে যাচ্ছি। ভিওন প্রকাশিত সর্বশেষ প্রান্তিকের ফলাফল অনুযায়ী, এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও ৪৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের বিনিয়োগকে অনেকটা প্রভাবিত করছে। এমন পরিস্থিতিতে মোবাইল অপারেটরদের অ্যাকটিভ নেটওয়ার্ক শেয়ারিং একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আমদানি কমিয়ে ডলারের খরচ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এতে গ্রাহকও সারা দেশে আরো ভালো নেটওয়ার্ক কাভারেজ পাবে।’

তৃতীয় প্রান্তিক শেষে বাংলালিংকের ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে জনসংখ্যার ৭৯ দশমিক ৪ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৭৭ শতাংশ। এ প্রান্তিকে তাদের সাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬০০, যার মধ্যে ফোরজি সাইটের সংখ্যা ১৩ হাজার ৫০০। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ফোরজি সাইট বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। অপারেটরটির ৩ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ গ্রাহক ফোরজি সেবার আওতায় এসেছে। এ সময়ে বাংলালিংকের গ্রাহকপ্রতি গড় ডাটা ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ জিবি।

২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে গ্রামীণফোন লিমিটেড ২৭৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। এ সময়ে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক সাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৭১৯। এর মধ্যে ১৯ হাজার ১০০টি সাইট ফোরজির। তৃতীয় প্রান্তিক শেষে অপারেটরটির মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ১৮ লাখ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৫৫ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। এ সময়ে গ্রামীণফোনের ফোরজি গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘অপারেটরদের ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় দেশের বেশির ভাগ এলাকাই চলে এসেছে। তাদের সেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির যে প্রভাব, তার বাইরে নয় এ খাতও। এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে হবে অপারেটরদের।’

এম এইচ/ আই.কে.জে/

আরও পড়ুন:

ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড রেল বানিয়ে ৮০% মালিকানা চায় চীন

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ