spot_img
23 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে রাজনৈতিক পরিবেশের ভগ্নদশা

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: সঙ্কট ও অর্থনৈতিক উদ্বেগে নিমজ্জিত জাতি মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোট দিয়ে ঐক্যের চেয়ে বিভাজনের প্রচারই যেন করলো।

পুরাতনকে ভুলে দেশকে নতুন আঙ্গিকে সাজাইতেই নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে নাগরিকেরা তাদের নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে নির্বাচিত করেন।

কিন্তু এই মধ্যপন্থার নির্বাচন যেন চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে আরো ফুটিয়ে তুলছে।

মঙ্গলবারের প্রতিনিধি নির্বাচনে রিপাবলিকানরা তাদের জয় নিয়ে আশাবাদী। যদি তারা এই নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে জো বাইডেনের সমস্ত কার্যক্রম এবং হোয়াইট হাউস নিয়ে তার তদন্তকেও তারা বন্ধ করার ক্ষমতা পাবে। অ্যারিজোনা, নেভাদা, জর্জিয়া এবং পেনসিলভানিয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যের উপরেই মূলত নির্বাচনে কে জয়ী হবে তা নির্ভর করছে।

যাই হোক, এই মধ্যপন্থার নির্বাচন দেখিয়েছে যে জনগণের কাছে অর্থনৈতিক বিষয়টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালে, বাইডেন শতাব্দীর ভয়াবহ মহামারীর পর এক স্বাভাবিক জীবনযাপন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যে প্রতিশ্রুতি তিনি এখন পর্যন্ত পূরণ করতে পারেন নি।

নির্বাচনের ঠিক আগে প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছাটাই প্রমাণ করছে জো বাইডেন দেশের অর্থনীতিকে এখন পর্যন্ত ঠিক করতে পারেন নি। বরং দেশ বেকারত্বের গ্লানি বয়ে বেড়াচ্ছে। আমেরিকানরা ইতিমধ্যেই খাবার এবং পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভুগছে। তার উপর ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির ফলে তাদেরকে ক্রেডিট কার্ড ঋণ, বাড়ি কেনা ও ভাড়ার ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের মুখোমুখি হতে হবে এবং দেশকে অর্থনৈতিক মন্দার দিকে নিয়ে যাবে।

এমন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এ নির্বাচন রাষ্ট্রপতির জন্য বিপদই ডেকে আনছে, কারণ এ নির্বাচনে তার সমালোচনা সুনিশ্চিত। আবার অন্যদিকে এ নির্বাচন রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। কয়েক যুগ ধরে নির্বাচন দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে নাগরিকদের নিজস্ব মতামত প্রকাশের একটি মাধ্যমের কাজ করছে।

ডেমোক্রেটিকেরা যদি নির্বাচনে হেরে যায় তবে তাদের এ ফলাফল গ্রহণ করে নিজেদের আবারো সুসংগঠিত করতে হবে এবং নাগরিকদের দুই বছরের ভেতর বুঝাতে হবে যে অর্থনৈতিক সংকট থেকে তাদেরকে বের করে আনার ক্ষমতা ডেমোক্রেটদের আছে। আবার রিপাবলিকানদের জয় এটা নিশ্চিত করবে যে নাগরিকেরা বাইডেনের শাসনে সন্তুষ্ট নয়।

যদিও হারজিত গণতন্ত্রেরই একটা অংশ তবে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রকাশ করে যে দেশ চালাতে নাগরিকদের ভূমিকা ঠিক কতটুকু। এই নির্বাচনের হেরে যাওয়া প্রার্থী বুঝে যায় যে দেশের শাসন ক্ষমতাতেও সে হেরে গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে, ২০২০ সালের নির্বাচনের মিথ্যাচারের পর দুর্বল শাসকের বাস্তবতা, রাজনৈতিক বিতর্কের দুষ্টতা এবং রিপাবলিকানদের দ্বারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের হুমকিকে উপেক্ষা করা অসম্ভব।

মঙ্গলবার বাইডেনের জন্য অত্যন্ত জটিল একটি সময় বলে মনে হচ্ছে। প্রচারাভিযানের শেষ সময়টুকু তিনি দুর্বল ডেমোক্র্যাটদের পেছনে ব্যয় করেন নি। বরং তিনি এ সময়টুকু নিরাপদ আশ্রয়- মেরিল্যান্ডের ঘাঁটিতে কাটান। সপ্তাহান্তে তিনি পেনসিলভানিয়াতে সিনেটের মনোনীত জন ফেটারম্যানের জন্য প্রচার করেছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচনের প্রচারের কথা ভাবছেন।

সাংবাদিকদের বাইডেন জানান, “আমি মনে করি এটা অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে। আমার ধারণা আমরা সিনেট নির্বাচনে জয়লাভ করব তবে প্রতিনিধি নির্বাচনে জয়লাভ একটু কঠিন হতে চলেছে। তবে জিওপি যদি কংগ্রেসে জয়লাভ করে তবে আমার জন্য তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।”

নির্বাচনে তিনি ব্যালটেই নেই। ট্রাম্পই এখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় রয়েছে যদিও ট্রাম্প মুখে বলছে যে তিনি কোন রিপাবলিকানকে ছাপিয়ে যেতে চান না। ওহিও তে জিওপি সিনেটের মনোনীত প্রার্থী জেডি ভ্যান্সের একটি সভায় ট্রাম্প বক্তব্য দেন যে, আমেরিকা চূড়ান্ত পতনের মধ্যে রয়েছে এবং ২০২০ সালের নির্বাচন সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন যে তিনি সর্বগ্রাসী রাষ্ট্র-শৈলীর নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

১৫ নভেম্বর, ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্টে হয়তো তিনি আমেরিকা শাসনের জন্য আরেকটি সুযোগ চাইতে পারেন বলে আশংকা করা হচ্ছে। দুইবার অভিশংসিত রাষ্ট্রপতি, যিনি রাজনৈতিক সহিংসতার জেরে অপমানিত হয়ে শাসনভার ত্যাগ করেছিলেন তার জয়ের সুযোগ যখন দেখা যায়, তখন সেটা বর্তমান সময়ের চলমান অশান্তিকে আরো উসকে দেয়।

ট্রাম্পের ক্যাপিটল বিদ্রোহের ঘোষণার ফলে সহিংসতার কালো ছায়া এখনো আমেরিকান নীতির পিছু ছাড়ছে না। একটি সাক্ষাৎকারে হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ঐ সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন যখন তিনি জানতে পারেন তার স্বামী পল কে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে তখন তিনি এক দুর্বিষহ সময় পার করছিলেন। এ ঘটনা নিয়ে রিপাবলিকানদের করা হাস্যকৌতুকের কড়া নিন্দা করেন তিনি।

তিনি রিপাবলিকানদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমাদের এই গণতান্ত্রিক সমাজে এমন একটি দল আছে যারা নির্বাচনের ফলাফলকে অস্বীকার করে। দেশে সহিংসতা ছড়ায় এবং তা নিয়ে আবার মজাও করে। এদেরকে থামানো দরকার।”

ওহিওতে বক্তব্য প্রদানকালে ট্রাম্প পেলোসিকে জন্তু হিসেবে সম্বোধন করে রাজনৈতিক ক্ষোভকে আরো উসকে দেন।

রিপাবলিকানরা হাউস সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচটি আসন জয় করতে পারলে পরবর্তী স্পিকার হতে পারেন, হাউস সংখ্যালঘু নেতা কেভিন ম্যাকার্থি। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে সীমান্ত নিরাপত্তা ও তদন্তকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রে সহিংসতাকে বাড়ানোর জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেন। তার দলের অধিকাংশ নেতারা যে বাইডেনের অভিশংসন চাচ্ছেন এ বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন নি।

তিনি বলেন, “আমরা কখনোই নিজস্ব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিতার্থের জন্য অন্যের অভিশংসন চাইবো না। কিন্তু পরিস্থিতির প্রয়োজনে অন্যের অভিশংসনের দাবি উঠতেই পারে।”

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সময় এই প্রচার প্রচারণায় দুই দলের যে ভিন্ন ভিন্ন মতভেদ উঠে আসে তা সত্যিই অদ্ভুত। তবে দিনশেষে প্রত্যেকটি দলকে জনগণের সিদ্ধান্তকেই মেনে নিতে হয়।

যদিও মঙ্গলবারের নির্বাচনে কি হতে চলেছে তার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে এখন থেকেই।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ