spot_img
19 C
Dhaka

৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২২শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

যুক্তরাজ্য ভ্রমণে দর্শনার্থীদের অনীহা যে কারণে

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: ঐতিহাসিক বাড়ি, আরামদায়ক থাকার জায়গা, এর উপরে দক্ষিণ ইংল্যান্ডে শুরু হওয়া তুষারপাত, বড়দিনের ছুটি কাটানোর জন্য যুক্তরাজ্যের চেয়ে ভালো জায়গা আর হতেই পারে না।

যদিও ২০১৯ সালে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পরেও যুক্তরাজ্যে প্রবেশাধিকার নিয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না, তবে বর্তমান সময়ে সেখানে যাওয়া উচিত হবে কি না, সেটা ভাববার বিষয়।

রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার জেরে দেশটিতে সাত সপ্তাহে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন হয়েছে। সেইসাথে শিল্পখাতেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশটি। ডিসেম্বরের প্রথমদিকে নার্সরা ধর্মঘট ডাকে। তারপর প্রায় প্রতিদিনই এখানে ধর্মঘট হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স চালক, ডাক কর্মী, ড্রাইভিং পরীক্ষক, বাস চালক, রেলকর্মী, হাইওয়ে কর্মী, ব্যাগেজ হ্যান্ডলার এবং সীমান্ত বাহিনী- প্রায় সবাই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এসবকিছু অবশ্যই ভ্রমণকে প্রভাবিত করবে।

ভ্রমণ বিষয়ক সাইট, হেড ফর পয়েন্টস-এর বিশেষজ্ঞ, রাইস জোন্স এ পরিস্থিতিকে গুরুতর এবং বিশাল সমস্যা বলে অভিহিত করেন।

তিনি জানান, এখানকার ধর্মঘটের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এবেলিও বাস গ্রুপের কর্মীরা, যারা সারা লন্ডন শহর জুড়ে কাজ করে, তারা ১৬-১৭ ডিসেম্বর ধর্মঘট করেছিল এবং আবারো ২৪,২৭ এবং ৩১ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

হাইওয়ে কর্মীরা ১৬-১৭ ডিসেম্বর থেকে ধর্মঘট করছে। বড়দিনের ব্যস্ততম সময়েও তারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে এবং সেইসাথে ৩০,৩০ ডিসেম্বর ও ৪-৭ জানুয়ারি আবারো ধর্মঘটে বসবে তারা। এসব ধর্মঘট সড়ক ব্যবস্থাকে স্থবির করে দিয়েছে।

সারাদেশে ১৩ ডিসেম্বর থেকে ধর্মঘট শুরু করে রেলওয়ে কর্মীরা। তাদের ধর্মঘট ১৬,১৭,২৪-২৯ ডিসেম্বর এবং ৩,৪,৬,৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তারপর বর্ডারের কর্মীরা, যারা পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তারা ২৩-২৬ এবং ২৮-৩১ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

এসবকিছুর মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রবল তুষারপাতে ভুগছে। রাস্তাগুলো তুষার দ্বারা আচ্ছন্ন, বিমানবন্দরগুলো বন্ধ এবং অত্যধিক তুষারপাতের কারণে ফ্লাইটও বিলম্বিত হচ্ছে।

তবে এতকিছুর মাঝেও ভ্রমণকারীদের জন্য একটি আনন্দের খবর হল ১৬ ডিসেম্বরের আগে ব্যাগ হ্যান্ডলাররা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে।

৩৬০ প্রাইভেট ট্রাভেলের সিইও, জেমস টার্নার বলেন যে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে এখনকার পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপের দিকেই যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারীর ফলে চাকরি বাজারে সৃষ্ট ঘাটতি, বিশ্বব্যাপী জীবনযাত্রার সংকট, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং শ্রমিক-সরকার বিরোধের জেরে দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেছে।

এমন পরিস্থিতি এখানে ভ্রমণের ব্যবস্থাটা আপাতদৃষ্টিতে অনিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে।

ভোক্তা গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত উপ-সম্পাদক, জো রোডস বলেন, এমন এক পরিস্থিতি তিনি তার জীবদ্দশায় দেখেননি। এমন পরিস্থিতি ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ পরিস্থিতি যে আর কতটা খারাপ হতে পারে সে সম্পর্কে সবাই ভয়ে আছে।

তার আয়ারল্যান্ড ও বেলজিয়ামে বসবাসরত দুই বন্ধু ছুটিতে যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করতে চাইছিলো। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে তারা তাদের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

এখানে বসবাসরত মানুষদের কাছে হয়তো ধর্মঘট এতোটা প্রভাব ফেলছে না তবে যারা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এখানে আসতে চাইছেন তারা অবশ্যই সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, সুয়েলা ব্র‍্যাভারম্যান ধর্মঘটের কারণে বাইরের দেশ থেকে ভ্রমণকারীদেরকে তাদের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জরুরি অবস্থা হিসেবে সরকার ইমিগ্রেশন ডেস্কে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুতি হিসেবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিথ্রোতে সীমান্ত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, দেশের জরুরি অবস্থায় সামরিক শক্তি সরকারকে দেশের যেকোনও পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজ করতে সহযোগিতা করে। যুক্তরাজ্যের সীমান্ত রক্ষা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এক্ষেত্রে সীমান্ত বাহিনি কোনও পরিস্থিতিতেই আপোস করবে না।

তবে ভ্রমণকারীদেরকে তাদের সময় এবং আরামের ক্ষেত্রে হয়তো আপোস করতে হতে পারে।

সরকার ইতিমধ্যে এয়ারলাইন্সগুলোকে ৩০% ফ্লাইট কমানোর পরামর্শ দিয়েছে, যদিও এখনো অনেকেই এটা মানছে না। তবে এরকমটা না করলে পরিস্থিতি সত্যিই খারাপের দিকে যাবে।

শুধুমাত্র যাদের সময়ের অপচয় নিয়ে মাথাব্যথা নেই তারাই এ সময় যুক্তরাজ্যে আসতে পারেন বলে জানান রাইস জোন্স। তিনি নিজেই ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের বাইরে যাচ্ছেন।

ভ্রমণকারীদেরকে রোডস পরামর্শ দিয়েছেন, তারা যেন যানবাহনের উপর নির্ভর না করে। এমনকি তারা যদি ভেবে থাকে এ মুহূর্তে রেলওয়ে ভ্রমণ আরামদায়ক হবে, তবে তাদের এ ধারণাও ভুল। রেলওয়ে ধর্মঘটের কারণে রেলযাত্রাও বিপর্যস্ত।

রেলওয়ে বিশ্লেষক এবং ট্রেন সম্পর্কে একাধিক বইয়ের লেখক, ক্রিশ্চিয়ান ওলমার বলেন, যুক্তরাজ্যে রেল ধর্মঘট নতুন নয়, তবে এমন বিশৃঙ্খলা অবশ্যই চিন্তার বিষয়।

শুধুমাত্র ধর্মঘটই সমস্যা নয়, রেলপথের তহবিলও অপর্যাপ্ত। পরিকল্পনাগুলো এখনো কার্যকর হয় নি। তিন মাসে তিনজন পরিবহন মন্ত্রীর দেখা মিলে, কিন্তু তারা এ বিভাগের বিশেষ কোন উন্নয়ন ঘটাতে পারেননি।

ওলমার রাজনীতিবিদদের দোষারোপ করে বলেন, তারা শ্রমিকদের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। জীবনযাত্রার সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতর জন্য শ্রমিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারের গাফিলতির কারণেই ধর্মঘটের শুরু এবং এতদিন ধরে ধর্মঘট চলছে বলে তিনি অভিযোগ জানান।

তার মতে, রেলবিভাগের সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু লোকেরা রেলপথ ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে এবং এর মেরামত নিয়েও তেমন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। রেলওয়েকে অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে তিনি বলেন সরকার এমনভাবে কাজ করছে যেন রেলওয়ের কোন গুরুত্বই নেই।

ইউরোপীয় রাষ্ট্রের প্রধানরা রেলে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু যুক্তরাজ্য এদিক দিয়ে পিছিয়ে আছে। সরকার রেলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো অনিচ্ছুক।

সর্বোপরি এসবকিছুই যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ ব্যবস্থার খ্যাতিকে প্রভাবিত করবে। কোভিড বিশৃঙ্খলা এবং ব্রেক্সিট বিশৃঙ্খলা থেকে মাত্র দেশটি মুক্ত হয়েছিল।

টার্নার, যিনি সারাবিশ্বের ভ্রমণপিয়াসুদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং তাদের ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দেন তিনি জানান, তিনি লোকেদের ভ্রমণে উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। যদিও এ অবস্থার দীর্ঘস্থায়ী কোন প্রভাব থাকবে না, তবে স্বল্পমেয়াদে স্পষ্টতই একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

কেট নিকোলস জানান, ইউরোপীয় দর্শনার্থী যারা সপ্তাহান্তেই যুক্তরাজ্য বেড়াতে আসতেন, তারা আর এখানে আসতে চাইছেন না। তবে যুক্তরাজ্য এখনো ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, এটিই সুখের খবর। যদিও মহামারীর কারণে এমনিতেই ২০২১ সালে এদেশে দর্শনার্থীর সংখ্যা ৮২% কম ছিল।

আই.কে.জে/

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ