spot_img
20.4 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

মৌলবাদ প্রচার ও সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: পাকিস্তানের আসমা জাহাঙ্গীর সম্মেলনে গত রবিবার “উগ্রবাদ : চরমপন্থীদের বৈধতা – সংখ্যালঘুদের ওপর এর প্রভাব” শীর্ষক অধিবেশনে বলা হয়, কট্টরপন্থীরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে এবং অপরদিকে সংখ্যালঘুদের ওপর সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা ক্রমাগত অত্যাচার-শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে দেশে উগ্রবাদ ও চরমপন্থার ক্রমাগত বিস্তার ঘটছে এবং দেশের সংখ্যালঘুরা আরো কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

এ অধিবেশনে প্রথমে বক্তব্য রাখেন এমপিএ তাহির খলিল সান্ধু। তিনি নাগরিকদের প্রদত্ত সাংবিধানিক অধিকারের রূপরেখা দিয়ে একটি লিখিত বক্তৃতা দেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন যে, এ অধিকারগুলোকে অনেকেই ক্রমাগত অপব্যবহার করেছে এবং সেইসাথে প্রত্যাখ্যানও করেছে।

তিনি আরো বলেন, সংখ্যালঘুদের সাথে জড়িত মামলাগুলিতে প্রায়শই ভুক্তভোগীদেরকেই অবমাননা করা হয়। পাকিস্তান যতদিন না পর্যন্ত জিন্নাহর ১১ আগস্টের ভাষণ বাস্তবায়ন করবে, ততদিন পর্যন্ত এ দেশ এগোতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, স্কুলের পাঠ্যক্রমের মাধ্যমেও শিশুদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাদের মস্তিষ্কে মৌলবাদ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে একটি উগ্রবাদকেন্দ্রিক প্রজন্ম গড়ে উঠছে। সাংবিধানিক অনুচ্ছেদগুলিতে রয়েছে যে একজন অমুসলিম কখনো রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না। তা পরিবর্তন করে বলা উচিত “কোনও খ্রিস্টান বা শিখ কখনও রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না”।

আহমদিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি কমর সুলেমান তার সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বাইরের যারা মৌলবাদী ও চরমপন্থী সংগঠনগুলিকে অর্থায়ন ও সুরক্ষা প্রদান করছে এবং তাদের প্রচারণা চালাচ্ছে তাদেরকেও খুঁজে বের করা উচিত। পাকিস্তানি তিনটি জাতীয় রাজনৈতিক দল ছোট ছোট ধর্মীয় গোষ্ঠীর সাথে মিলিত হয়েছে যার ফলে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান প্রায়শই এই দলগুলির দ্বারা নির্ধারিত শর্তেই চলছে। তবে প্রত্যেক দলেরই এক জায়গায় মিল খুঁজে পাওয়া যায়, যা হলো অমুসলিমদের উপর নিপীড়ন। মূলত টার্গেট কিলিং করার জন্যই পাকিস্তানে অমুসলিমদের রাখা হচ্ছে।

“কাদিয়ানিদের” পাকিস্তান ছেড়ে চলে যেতে হবে বলে প্রায়ই শুনা যায় কিন্তু আমরা কেন যাব পাকিস্তান ছেড়ে? দেশটি কি আমাদের নয়?”  আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের বেশ কয়েকটি উদাহরণ দেখিয়ে তিনি বলেন, তাদের কবর ভাঙচুর করা হচ্ছে। এমপিএ রমেশ সিং অরোরা বলেন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, বিকৃত পাঠ্যক্রম, ব্যক্তিগত আইনের অভাব এবং দারিদ্র্যের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ক্রমাগত দমন করা হচ্ছে।

ভীল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সারওয়ান কুমার ভীল বলেন, তফসিলি হিন্দু, জাতি রাষ্ট্র এবং সুবিধাপ্রাপ্ত, উচ্চবিত্ত হিন্দু উভয়ের দ্বারাই নিপীড়িত হচ্ছে। এমনকি এর ফলে তার সম্প্রদায়ের অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে । কোনো তফসিলি বর্ণের হিন্দু কোনো সরকারি কমিশনে বসতে পারে না বা কখনো সংরক্ষিত আসনে এমপিএ বা এমএনএ পর্যন্ত হতে পারেননি। যদিও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের কাছে ভীল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রয়েছে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলি কখনোই সংখ্যালঘুদের প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেনা।

সাবাহাত রিজভী, সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজীবী, তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ক্ষতি করার জন্য বহুত্ববাদের দমনকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলো মৌলবাদ ও চরমপন্থাকে বৈদেশিক নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ধরনের মানসিকতার প্রচার সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তিনি আরো বলেন, সংখ্যালঘুদের জন্য এমন আইন প্রণয়ন করে বস্তুত আইনসভা গর্বিত। অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ এলাহি বলেন, এখানে তৈরি হওয়া মসজিদগুলিতে লেখা থাকবে এই স্থানগুলি কাদিয়ানিদের সীমানার বাইরে।

অধিবেশনে তিনি বিপথগামী প্রজন্ম সৃষ্টি এড়াতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানান।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ