spot_img
20 C
Dhaka

২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

মেসির আর্জেন্টিনার স্বপ্নপূরণ নাকি আবারও এমবাপ্পের ফ্রান্স

- Advertisement -

স্পোর্টস ডেস্ক, সুখবর ডটকম: গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা নামছে। রোববার (১৮ ডিসেম্বর) আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে শেষ হচ্ছে ২২তম বিশ্বকাপের আসর।

৩৪ বছর বয়সি একজন আর্জেন্টাইন লুক্রেসিয়া প্রেসডিগার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমানে আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। মন্দাভাব। মুদ্রাস্ফীতির পতন হয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে যারা বসবাস করছেন তাদের দিনটা ভালো যাচ্ছে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফুটবল খেলাটা এক সঙ্গে মেশানো যায় না। তবে সব মানুষ চায় আর্জেন্টিনা ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরুক। বিশ্বকাপ ফুটবল আর্জেন্টাইনদের মনে একটা প্রশান্তি এনে দিয়েছে। যদি চ্যাম্পিয়ন হয় তাহলে সেটা সাধারণ মানুষের মধ্যে আরো বেশি প্রভাব ফেলবে।’ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর আর্জেন্টিনার শ্রমমন্ত্রী কেলি ওমস মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বলেছেন, ‘আমরা মুদ্রাস্ফীতির ব্যাপারে কাজ করছি। এক মাসে খুব বেশি পার্থক্য ঘুচিয়ে আনা যাবে না। বিশ্বকাপ জয়ের চয়েও মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টা আমাদের কাছে কম গুরুত্ব নয়। এটাও ঠিক আমরা বিশ্বকাপ জয় করতে চাই।’ এই নারী মন্ত্রী মন্তব্য করেছেন সব আর্জেন্টাইন চায় চ্যাম্পিয়ন হতে। এটা সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করবে।

এর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ফাইনালের ওঠার আনন্দ কতোটা উজ্জীবিত করেছে আর্জেন্টিনার মানুষদের, সেই ছবিটা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলেছে। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের অবিলেস্কে লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হয়েছিল। এই মানুষগুলো একটা ট্রফির জন্য মুখিয়ে রয়েছে। সেই ভাবনায় রাতে ঘুম নেই মেসিদের।

টেনশন রয়েছে কীভাবে একটা ট্রফি এনে দিতে পারেন না! কথা উঠছে বিশ্বকাপের পর আর বিশ্বকাপে খেলবেন না মেসি। আজই হতে পারে মেসির জন্য শেষ বিশ্বকাপ। ৩৫ বছর বয়সি এই সুপার স্টারের বয়স ৩৯ হয়ে যাবে আগামী বিশ্বকাপে। এখনই জার্সি খুলে দিতে চান। মেসির জন্য শেষ বিশ্বকাপ হলেও আর্জেন্টিনা শিবিরে ভাবনা, তাদের দেশের সাধারণ মানুষদের নিয়ে।

আর্জেন্টিনা ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ষষ্ঠ ফাইনাল খেলছে। কোচ লিওনলে স্কালিনো দায়িত্ব নিয়েছেন গত বিশ্বকাপে এই ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেওয়ার পর। তার ওপর আস্থা ছিল না আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের। অস্থায়ী দায়িত্ব ছিল। ভালো করার কারণে তাকে স্থায়ী করা হয়। আর্জেন্টিনার অতীতের কোচদের চেয়েও নাকি স্কালিনো ভালো করছেন। তার অবশ্য কারণও রয়েছে। স্কালোনি অনেক দিন জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে ছিলেন। তার জানা হয়ে গেছে দলের সমস্যা কি। আর্জেন্টিনার মূল শক্তি এবার তাদের ঘরে কোন্দল ছিল না। রাশিয়া বিশ্বকাপে মেসির সঙ্গে কোচের ঝামেলার কথা সবারই জানা। তবে এবার মেসির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কোচের। স্কালোনি মেসির প্রতিভাকে কাজে লাগিয়েছেন। এনে দিয়েছেন কোপা, এখন তুলেছেন বিশ্বকাপের ফাইনালে।

এদিকে ফ্রান্সের শক্তির খবর সবারই জানা। এই দলটা রাশিয়া বিশ্বকাপের চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। মিডফিল্ডার কন্তে, পল পগবা নেই, নেই সদ্য ব্যালন ডি’অর জয়ী বেনজামাও। এই দুই জন ছাড়া ফ্রান্সের শক্তি যেন নিভু নিভু আলো, এমনটা যারা মনে করেছিলেন তারা দেখেছেন বেনজামা, কন্তে, পল পগবা ছাড়া কীভাবে ফ্রান্স ফাইনালে উঠে এসেছে। এসবেরই পেছনের কারিগর কোচ দিদিয়ের দেশম। যিনি নিজে খেলে দেশকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আবার কোচ হয়েও দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। এখন আবার ফাইনালের মঞ্চে তুলে এনেছেন। এর আগে পর পর দুই বার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা আর ইতালির। কীভাবে আর্জেন্টিনাকে থামাতে হবে, তার কাছে নাকি সেই ম্যাজিক রয়েছে। কথাটা বিশ্বাস করেন লাখ লাখ ফরাসি নাগরিক। ফরাসিদের মাথায় আছে মাঠের নায়ক যদি হয় এমবাপ্পে তবে মাঠের বাইরের নায়ক হচ্ছেন কোচ দেশম। গ্রিজম্যান, হার্নান্দেজ, কোনো মুয়ানি, জিরুদরা রয়েছেন। বেনজামা ফিরলেও তাকে একাদশে নামিয়ে উইনিং কম্বিনেশন ভাঙবেন কি না সেটা নিয়ে ভাবনা রয়েছে। সুপারসাব হিসেবেও তাকে মাঠে দেখা যেতে পারে।

দেশমের ভাবনা ট্রফি ঘরে তুলতে হবে। আর যদি সেটা করতে পারেন তাহলে গত ৬০ বছরের ফুটবলে ফ্রান্স হবে প্রথম দল পর পর দুই বিশ্বকাপের আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড হবে। যেটি করেছিল ব্রাজিল, ৫৮ ও ৬২ বিশ্বকাপের আসরে।

চার বছর আগে মেসি খেলেছিলেন সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে। এবার মেসি খেলছেন স্ট্রাইকারের একটু পেছনে। আর তাতেই গোল করছেন গোল করাচ্ছেন মেসি। এটাই এখন ফ্রান্স শিবিরে বড় ভাবনা।

ফ্রান্স কোচ দেশম এবং আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি এমবাপ্পেকে নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি করছেন না সংবাদমাধ্যমের কাছে। তবে এই দুই জনই যে এমবাপ্পে এবং মেসিকে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন সেটা সহজেই বুঝা যায়। ফুটবল দুনিয়ার চোখও এই দুই জনের দিকেই থাকবে। মেসির জন্য স্মরণীয় বিশ্বকাপ। আর হয়ত দেখা যাবে না। অন্যদিকে এমবাপ্পের জন্য স্মরণীয় বিশ্বকাপ। কারণ ১৯ বছরে ট্রফি ছোঁয়ার হাতটা ২৩ বছর বয়সেও বিশ্বকাপ হাতে ধরবেন এমবাপ্পে। তার জন্যও স্মরণীয় ম্যাচ। ফাইনালে কি হবে সব জল্পনা-কল্পনার হিসাব চুকে যাবে আজ কাতারের দোহায় লুসাইল স্টেডিয়ামে।

এম/

আরো পড়ুন:

ফাইনালের আগে মেসিকে তাঁর শৈশবের শিক্ষকের খোলা চিঠি

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ