spot_img
25 C
Dhaka

২৭শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ

মুগলদের বিরুদ্ধে ঈশা খাঁর লড়াই ও মানসিংহের সাথে ঐতিহাসিক যুদ্ধ

- Advertisement -

ইব্রাহীম খলিল জুয়েল:

ঈসা খাঁর (১৫২৯-১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দ) জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে। তিনি ছিলেন সরাইলের জমিদার, ভাটি অঞ্চলের শাসক এবং বারো ভূঁইয়াদের নেতা। ঈশা খাঁ বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী বারো জন জমিদারদের অন্যতম। ঈশা খাঁ এবং বারো জন জমিদার একসাথে বাংলায় স্বাধীনভাবে জমিদারী স্থাপন করেন। ঈসা-খাঁর বাংলো বাড়ি কিশোরগঞ্জে অবস্থিত। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সেই সময়ের জমিদার কুইচ রাজাকে সিংহাসনচ্যুত করে বাংলো বাড়িটি র্নিমাণ করেন।

১৫৭৫ সালে সম্রাট আকবর বাংলা বিজয়ের পর বারো ভূঁইয়াদের ক্ষমতা কমে যায়। তখন সম্রাট আকবর বারো ভূঁইয়াদের দমন করতে অভিযান পরিচালনা করে সফল হননি। সম্রাট আকবর তখন সেনাপতিকে পাঠান ঈসা-খাঁকে হত্যার জন্য কিন্তু বীর ঈসা-খাঁর সাথে সেনাপতি যুদ্ধে পরাস্ত হন। ঈসা-খাঁর অনেক নিদর্শন কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

ফিরে দেখা

ঈসা খাঁর পিতামহ বাইশ রাজপুত সম্প্রদায়ভুক্ত ভগীরথ প্রথমে অযোধ্যা থেকে বাংলায় আসেন এবং বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ-এর অধীনে দীউয়ান হিসেবে চাকরি গ্রহণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র কালিদাস গজদানী পিতার দীউয়ান পদ লাভ করেন। পরবর্তীতে কালিদাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সোলায়মান নাম ধারণ করেন। সোলায়মান সুলতানের কন্যা সৈয়দা মোমেনা খাতুনকে বিয়ে করেন এবং সরাইলের জমিদারি লাভ করেন। এ সরাইলেই সোলায়মানের পুত্র ঈসা খাঁ জন্মগ্রহণ করেন।

সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদের মৃত্যুর পর জামাতা সোলায়মান খান নিজেকে বৈধ উত্তরাধিকারী দাবি করে নব প্রতিষ্ঠিত আফগান শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রাহ ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি প্রায় স্বাধীনভাবেই ভাটি অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন এবং তাঁর রাজ্য শাসনের কেন্দ্র বিন্দু ছিল সরাইল।

১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ইসলাম শাহ দিল্লীর সিংহাসনে আরোহন করে বাংলাকে একটি একক প্রশাসনিক শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু সোলায়মান খান ইসলাম শাহের ব্যবস্থা মেনে নিতে অস্বীকার করলে ইসলাম শাহ তাজ খান ও দরিয়া খান নামে দু’জন সেনাপতিকে তার বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। সোলায়মান খান তাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পরাজিত ও নিহত হন এবং তার দুই পুত্র ঈসা ও ইসমাইলকে বন্দি করে ইরানী বণিকদের নিকট দাসরূপে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

১৫৬৩ খ্রিস্টাব্দে তাজ খান কররানী বাংলা ও বিহারের শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করলে, ঈসা খাঁর চাচা কুতুব খাঁ তার অনুগ্রহভাজন হন এবং দরবারি কাজে নিযুক্তি লাভ করেন। এ সময়ে তিনি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র দ্বয়ের (ঈসা ও ইসমাইল) খোঁজ পেয়ে অর্থের বিনিময়ে ইরানী বণিকের কাছ থেকে তাদের মুক্ত করে আনেন।

জমিদারি লাভ

ঈসা খাঁ দেশে ফিরে এসে চাচা কুতুব খানের প্রচেষ্টায় তার পিতার সরাইলস্থ জমিদারি লাভ করেন। ১৫৬৫ সালে তাজ খান কররানীর মৃত্যুর পর ঈসা খাঁ আফগান শাসকদের মুগল আক্রমণ মোকাবিলায় সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে আসছিলেন। ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ত্রিপুরার রাজা উদয়মানিক্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম অভিযানে দাউদ খানকে সাহায্য করেন। ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি সোনারগাঁও-এর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে মুগল নৌবহরকে বিতাড়িত করতেও দাউদখানের সেনাপতিকে সাহায্য করেন।

মুগলদের বিরুদ্ধে ঈশা খাঁর লড়াই ও মানসিংহের সাথে ঐতিহাসিক যুদ্ধ
সোনারগাঁ: ঈশা খার রাজধানী। ছবি:সংগৃহীত

১৫৭৬ সালে রাজামহলের নিকটবর্তী আগমহলের যুদ্ধে দাউদ খান কররানী পরাজিত ও নিহত হলে কার্যত বাংলায় আফগান শাসনের অবসান হলেও ঈসা খাঁ এ সময়ে প্রায় স্বাধীনভাবেই তাঁর রাজ্য পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু তিনি যথার্থভাবেই অনুধাবন করেন যে, তিনি নিজের সীমিত শক্তি দিয়ে একা মুগলদের মোকাবিলা করতে পারবেন না। তাই তিনি পার্শ্ববর্তী জমিদার ও আফগান দলপতিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তাদের সঙ্গে মুগল বিরোধী রাজনৈতিক ও সামরিক মৈত্রী গঠন করেন। তিনি প্রতিবেশী ত্রিপুরা ও কামরূপ এর রাজা যথাক্রমে অমরমাণিক্য ও রঘুদেবের সঙ্গেও বন্ধুত্ব সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ ছাড়াও ঈসা খাঁ তার সামরিক শক্তির প্রধান অবলম্বন রণতরীগুলির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করেন।

মুগলদের সঙ্গে যুদ্ধ

১৫৭৮ খ্রিস্টাব্দে মুগল সুবাহদার খান জাহান ঈসা খাঁর বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়ে ভাওয়ালে সৈন্য শিবির স্থাপন করলে ঈসা খাঁ সরাইল সন্নিকটবর্তী কাস্তলে (কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত) মুগল বাহিনী মোকাবিলা করেন। যুদ্ধের প্রথম দিকে ঈসা খাঁ পরাজিত হয়ে ত্রিপুরা রাজ অমর মাণিক্যের সাহায্য প্রার্থনা করেন। ত্রিপুরার সাহায্য আসলে মুগল বাহিনী পশ্চাদপসরণ করে।

রাজমালার বর্ণনা অনুসারে আনুমানিক ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরার রাজা অমর মাণিক্যের ‘অমর সাগর দিঘি’ খননের জন্য অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন হলে তার অনুরোধে সারা দিয়ে বাংলার অন্যান্য জমিদারের সঙ্গে সরাইলের জমিদার ঈসা খাঁ এক হাজার শ্রমিক পাঠিয়ে ত্রিপুরার রাজাকে সাহায্য করেছিলেন। তা ছাড়াও, ১৫৮১ খ্রিস্টাব্দে তিনি অমর মানিক্যের নৌ-বাহিনীর অধ্যক্ষরূপে তরফের জমিদার ফতেহ খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।

সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে মুগল সেনাপতিদের বিদ্রোহের সুযোগ নিয়ে ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে ঈসা খাঁ পূর্ব বাংলায় তাঁর শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকেন। তিনি ১৫৮১-৮২ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে ভাটি অঞ্চলের অধিপতি হিসেবে ঘোষণা দেন এবং নিজেই ‘মসনদ-ঈ-আলা উপাধি’ গ্রহণ করেন।

সূত্র অনুযায়ী, এ সময় তিনি তাঁর প্রশাসনিক কেন্দ্র সরাইল থেকে সোনারগাঁও-এ স্থানান্তর করেন এবং সোনারগাঁও এর নিকটবর্তী কাত্রাবো, কলাগাছিয়া ও খিজিরপুরে দুর্গ নির্মাণ করেন।

ইতোমধ্যে সম্রাট আকবরের দুই বিদ্রোহী সেনাপতি মাসুম খান কাবুলী ও কতলু খান ঈসা খাঁর সাথে যোগ দেন। সম্রাট আকবর ১৫৮৩ খ্রিস্টাব্দে সেনাপতি আজমকে বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত করে মুগল সেনাপতিদ্বয়ের আশ্রয়দাতা ঈসা খাঁর মসনদ-ই-আলার বিরুদ্ধে অভিযানের নির্দেশ দেন। এ সময় মুগল সেনাপতি শাহবাজ খানের সাথে টোকে এবং তারসুন খানের সাথে বাজিতপুরে ঈসা খাঁর যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে মুগল বাহিনী পরাজিত হয়।

১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে মুগল সেনাপতি শাহবাজ খান পুনরায় ঈসা খাঁর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় যুদ্ধ ক্ষেত্র ঢাকা, বিক্রমপুর, সোনারগাঁও, কাত্রাবো প্রভৃতি এলাকায় বিস্তৃত ছিল। মুগলদের সাথে সংঘর্ষের এ পর্বেও ঈসা খাঁ সাফল্য লাভ করেন। এ সময়ে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ ভাটি এলাকায় নিজের কর্তৃত্ব স্থাপন করে লক্ষ্যা নদীর তীরে কাত্রাবোয় তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের পূর্বেই ঈসা খাঁ বারো ভূঁইয়ার নেতৃত্ব লাভ করেন। ১৫৮৬ খ্রিস্টাব্দে রঞ্ঝালফ ফিচ এর বর্ণনায়ও অনুরুপ তথ্য পাওয়া যায়।

১৫৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঈসা খাঁ কিশোরগঞ্জের জঙ্গলবাড়ীর সামন্তরাজা লহ্মণ হাজরাকে পরাজিত করেন। এ বছর মুগল সুবাহদার শাহবাজ খান পুনরায় ঈসা খাঁ বিরুদ্ধে ভাটিতে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু মুগলদের এ অভিযানও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল বলে মনে হয়। অত:পর প্রায় দশ বছর পর্যন্ত মুগলদের সাথে ঈসা খাঁর আর কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি।

১৫৮৮ খ্রিস্টাব্দে  চাঁদ রায় ও কেদার রায়ের সাথে ঈসা খাঁর যুদ্ধ হয়। ১৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে মানসিংহ সুবাহদার নিযুক্ত হয়ে বাংলায় আসেন এবং ঈসা খাঁর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে সচেষ্ট হন। ১৫৯৫ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে মানসিংহ রাজমহল থেকে ঈসা খাঁর বিরুদ্ধে যাত্রা করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোনো যুদ্ধ হয়নি। ১৫৯৭ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে মানসিংহ ঈসা খানের বিরুদ্ধে স্থল ও জলপথে দু’টি বাহিনী প্রেরণ করেন। মানসিংহের পুত্র দুর্জন সিংহের নেতৃত্বে মুগল বাহিনী প্রথম দিকে কিছুটা সাফল্য অর্জন করে। এমনকি তারা ঈসা খাঁর রাজধানী কাত্রাবোও আক্রমণ করে। ঈসা তার মিত্র বাহিনীসহ অনেক নৌকা নিয়ে বিক্রমপুর থেকে ছয় ক্রোশ দূরে উপস্থিত হন এবং মুগল নৌ-বাহিনীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেললে উভয়পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ হয় (সেপ্টেম্বর, ১৫৯৭)।

যুদ্ধে দুর্জন সিংহসহ মুগল বাহিনীর অনেকে নিহত হয় এবং অনেক মুগল সৈন্য ঈসা খাঁর হাতে বন্দি হয়। এরপরে মুগলবাহিনীর সাথে ঈসা খাঁর আর কোনো যুদ্ধ হয়নি।

ঈসা খানের জীবদ্দশায় মুগল সম্রাট আকবর পূর্ব বাংলার ভাটি অঞ্চলে তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। এ সময়ে ঈসা খাঁ ভাটির বিশাল অংশে তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে সে অঞ্চলকে একটি স্বাধীন রাজ্যে পরিণত করেন। সূত্র মতে, সে সময় ভাটি অঞ্চলের ২২টি পরগনা সরাসরি ঈসা খাঁর শাসনাধীন ছিল। ঈসা খাঁর মৃত্যু ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে।

এরপর অনেক বীরত্বগাথাঁ রচিত হয়। সর্বশেষ ১৫৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিক্রমপুর হতে ১২ মাইল দূরে ঈসা খাঁ, মাসুম খাঁ কাবুলীর সম্মিলিত বাহিনী দুর্জন সিংহকে (মানসিংহের ছেলে) বাধা দিলে দুর্জন সিংহ বহু মুঘল সৈন্যসহ নিহত হন। অনেকে বন্দী হন। কিন্তু সুচতুর ঈসা খাঁ মুঘলদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা উচিত বলে মনে করে আকবরের বশ্যতা স্বীকার করে নেন। তিনি বন্দীদের মুক্তি দেন এবং মানসিংহের সাথে আগ্রায় গিয়ে সম্রাট আকবরের সাথে সাক্ষাত করেন। সম্রাট এ বীর পুরুষকে দেওয়ান ও মসনদ-ই-আলা উপাধিতে ভূষিত করেন।

ইশা খাঁ-মানসিংহ যুদ্ধ

মুগল সেনাপতি মানসিংহকে লড়াইয়ে হারিয়ে ইশা খাঁ অক্ষুন্ন রেখেছিলেন বাংলার স্বাধীনতা। এই লড়াই যেখানে হয়েছিল সেটি ছিল ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের টাঙ্গাব গ্রামে। স্থানটি শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে। নদীর পূর্ব তীরে ছিল রাজা মানসিংহের রাজধানী টোক নগরী (বর্তমানে কাপাসিয়া উপজেলার উত্তর পূর্বাংশ)। মানসিংহ ১৫৯৫ সালে রাজস্থান থেকে তার রাজধানী টোক নগরীতে স্থানান্তর করে নিয়ে আসেন। ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যার সঙ্গমস্থলে ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ তীরে ছিল টাঙ্গাব গ্রাম ও টোক নগর। ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাড়ে ঈসা খাঁর বিখ্যাত দুর্গ এগারসিন্দুর। এটি পড়েছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায়।

ইতিহাসের পাতা অনুযায়ী গফরগাঁওয়ের টাঙ্গাব গ্রামে ঈশা খাঁ-মানসিংয়ের যুদ্ধ হয়েছে ৪২০ বছর আগে। এ সময়টুকুর মধ্যে রাজনৈতিক অনেক উত্থান-পতন হয়েছে। কিন্তু এ স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আজও কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি।

যুদ্ধক্ষেত্রের প্রায় ১৬ একর খাসজমির একাংশ বেদখল হয়ে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি। বাকি অংশে ফসল চাষ করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কিছু উৎসাহী যুবক ছোট্ট একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে স্মৃতির পাতায় একটু হলেও আঁচড় কাটতে সক্ষম হয়েছে।

মৃত্যু

ঈশা খাঁ কেদার রায়ের বিধবা কন্যা স্বর্ণময়ীকে অপহরণ করলে ক্রুদ্ধ কেদার রায় ঈশা খানের রাজধানী আক্রমণ করেন। কেদার রায়ের আক্রমণে ভীত ঈশা খাঁ প্রাণভয়ে মেদিনীপুরে পালিয়ে যান। কেদার রায়

ঈশা খাঁর সমাধি
ঈশা খাঁর সমাধি। ছবি:সংগৃহীত

ঈশার প্রায় সম্পূর্ণ জমিদারির দখল নিয়ে নেন । ঈসা খান অজ্ঞাত রোগে তার স্ত্রী ফাতেমা খানের বাড়ি ফুলহরি (ফুলদি) জমিদার বাড়ি ১৫৯৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মারা যান। পরবর্তীতে তার শশুর জমিদার মুন্সী মুহাম্মদ নাসির খাঁর শাষনাধীন মৌজা বক্তিয়ারপুর (বক্তারপুর) বাজারের সন্নিকটে তাকে সমাধিস্থ করাহয়।

বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত বক্তারপুর নামক গ্রামে তার সমাধি রয়েছে। সম্প্রতি ঈশা খাঁর সমাধিস্থলটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট,ঔপন্যাসিক

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ