spot_img
28 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৩রা অক্টোবর, ২০২২ইং, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

মিলগেটে ৪৭৫০ টাকার চিনি ক্রেতারা কিনছেন ৫৬ তে

- Advertisement -

সুখবর রিপোর্ট : মিলগেটে চিনির দাম কমলেও কমেনি পাইকারি ও খুচরা বাজারে। এক মাস ব্যবধানে প্রতিকেজি চিনি কিনতে ক্রেতাদের বেশি দিতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা।

রোজায় অত্যাবশ্যকীয় এই পণ্যটি ক্রেতাদের প্রতিকেজি ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা দিয়ে নিতে হচ্ছে। অথচ মিলগেটে বিক্রি হচ্ছে ৪৭ দশমিক ৫০, আর পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০দশমিক ৫১ টাকায়।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একই দরে বিক্রি হয়ে আসছে চিনি। গত রোজায় পণ্যটির দর তেমন হেরফের হয়নি। পরিশোধিত চিনি রফতানিও করেছে কোম্পানিগুলো।

হঠাৎ করে গত সপ্তাহে চিনির দাম কেজিতে দুই টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন অসাধু ব্যবসাযীরা। খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা দাম বাড়িয়ে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা দরে চিনি বিক্রি করছেন।

দু’দিন আগে পাইকারিতে চিনির দাম কেজিতে দুই টাকা কমিয়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫১ টাকা। যা গত সপ্তাহে ব্র্যান্ডভেদে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছিল ৫২ থেকে ৫৩ টাকা। পাইকারি বাজারে দুই টাকা কমালেও খুচরা বাজারে কমেনি এক টাকাও।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর পাইকারি-খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে এ তথ্য উঠে আসে।

পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকারি আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বাজারে তীর ব্র্যান্ডের ৫০ কেজির বস্তা চিনি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ টাকা। যা আগের সপ্তাহে ছিল দুই হাজার ৬০০ টাকা। সে হিসেবে প্রতিকেজির দাম পড়ে ৫০ টাকা। ফলে সপ্তাহ ব্যবধানে পাইকারি বাজারে দাম কমেছে দুই টাকা।

ফ্রেস ব্র্যান্ডের ৫০ কেজির প্রতিটি বস্তা চিনি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫৫০ টাকা। যা আগের সপ্তাহে ছিল দুই হাজার ৬০০ টাকা। সে হিসেবে প্রতিকেজির দাম পড়ে ৫১ টাকা।

ফলে সপ্তাহ ব্যবধানে পাইকারি বাজারে দাম কমেছে ১ টাকা। আর দেশবন্ধু ব্র্যান্ডের ৫০ কেজির প্রতিটি বস্তা চিনি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪৯০ টাকা। যা আগের সপ্তাহে ছিল দুই হাজার ৬০০ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৪৯ দশমিক ৯০ টাকা। ফলে সপ্তাহ ব্যবধানে পাইকারি বাজারে দাম কমেছে ২ দশমিক ১০ টাকা।

আর মিলগেটে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৭ দশমিক ৫০ টাকায়। প্রতি বস্তা চিনির দাম পড়ে ২৩৭৫ টাকা। যা এক মাস আগে ছিল ২৪২৫ টাকা। সে হিসেবে কেজিতে দাম কমেছে এক টাকা।

এদিকে বর্তমানে খুচরায় প্রতিকেজি চিনি ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা।

এছাড়া প্যাকেটজাত প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। আর দেশি আখের চিনি ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা।

মৌলভীবাজারের মেসার্স নিউ ইয়াসিন অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী সেলিম শেখ বলেন, গত দু’দিনে চিনির দাম ব্র্যান্ডভেদে বস্তায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমেছে। দাম উঠা-নামার পেছনে আমাদের কারো হাত নেই। দাম বাড়ে কমে মিলগেটে। সেখান থেকে সাপ্লাই দিতে দেরি করলে বাজারে সংকটসহ পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। আমরা পণ্যের দামও বাড়িয়ে দেই। এজন্য সাপ্লাই চেইন ভালো থাকলে দামও স্থিতিশীল থাকে। গত দু’দিন আগে সিটিগ্রুপ বাজারে চিনি ছেড়েছে তাই দামও কমেছে।

সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, চিনির দাম এখন কিছুটা কমানো হয়েছে। আমরা এক মাস আগে চিনির দাম সমন্বয় করছি। বর্তমানে মিলগেটে প্রতিকেজি চিনি ৪৭ দশমিক ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এ দাম ছিল ৪৮ দশমিক ৫০ টাকা। সে হিসাবে আমরা এক টাকা দাম কমিয়েছি।

আর এটা পাইকারি ব্যবসায়ীরা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ৪৮ টাকা বিক্রি করবে এটাই নিয়ম। যদি তারা এর থেকে বেশি দামে বিক্রি করে তাহলে তারা ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রোজাকে সামনে রেখে ছয় পণ্য আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোজায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় এমন ছয়টি পণ্য হচ্ছে- ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুর।

রোজায় এসব পণ্যসামগ্রীর কোনো সঙ্কট তৈরি না হয়, সেলক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের আমদানি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি নিয়মিত বাজার তদারকি করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ