spot_img
22 C
Dhaka

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

ভ্রমণের পর কাশ্মীর নিয়ে যা বললেন ইরানি কাউন্সেলর রব্বানি

- Advertisement -

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সুখবর বাংলা: ইরানি দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর ডক্টর মোহাম্মদ আলী রব্বানি রবিবার একটি সম্মেলনে বলেন, কাশ্মীর একটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জায়গা এবং তিনি কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসাও করেন।

জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস জাস্টিস ফ্রন্ট কর্তৃক বারামুল্লা জেলায় তহসিল পাত্তনের গুন্ড খাজা কাসিম গ্রামে ইরান ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে রাব্বানী প্রধান অতিথি ছিলেন।

রাব্বানী তার ভাষণে বলেন, ‘কাশ্মীর পরিদর্শন করার পর, আমি সত্যিই অনুভব করেছি যে এটি একটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জায়গা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসে তাদেরকে দেখে আমি খুবই আনন্দিত।’

তিনি ইরানের জনগণকে কাশ্মীরে আসার অনুরোধ করেন যাতে তারাও এখানকার আতিথেয়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।

কাশ্মীর উপত্যকা এবং ভারতের অন্যান্য পণ্ডিতেরাও এই সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেকে পিপলস জাস্টিস ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আগা সৈয়দ আব্বাস রিজভী।

সম্মেলনে, পণ্ডিতেরা ভারত ও ইরানের মধ্যে সাধারণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত সম্পর্কের উপর আলোকপাত করেন।

সম্মেলনে রাব্বানী বলেন, ‘প্রাচীনকাল থেকেই ইরান ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। দুই দেশের মধ্যে সখ্যতা ও সম্পর্কের কোনো অবনতি হবে না।’

ইরানের পরামর্শদাতা বলেন ‘ভারতে থাকার কারণে, আমি নিজে এটি অনুভব করেছি যে এখানে শিয়ারা নিরাপদ। কিছু দেশে আমরা মানবতাবিরোধী বিভিন্ন ছবি দেখতে পাই কিন্তু তার বিপরীতে, ভারতে, জনহিতকরতার স্পষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান। ভারতে হিন্দু এবং ব্রাহ্মণরাও শিয়াদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। এটি ধর্মীয় সম্প্রীতির সর্বোত্তম উদাহরণ, যা বিশ্ববাসীর কাছে দৃশ্যমান।’

কাশ্মীর সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে এই মহান সুযোগ দিয়েছেন যে আমরা কাশ্মীরে গিয়েছি এবং সেখানকার মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমাকে কাশ্মীরে আসার আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি রিজভী সাহেবের কাছে কৃতজ্ঞ।’

তার ভাষণে ডক্টর রাব্বানী বলেন, অন্যান্য দেশে মানবতা, ভাষা ও ধর্মীয় পার্থক্যের জন্য নানা সমস্যা দেখা দিলেও ভারতে তা হয় না।

তিনি বলেন, ‘আপনি নিজেই দেখতে পাচ্ছেন যে অন্যান্য দেশের একে অপরের সাথে কীভাবে সম্পর্ক রয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই, সংস্কৃতির দিক থেকেই বলুন ইরান এবং ভারতের মধ্যে যে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে, তা অতুলনীয়। আমরা এখান থেকেই শিখেছি যে শিয়া বা সুন্নির মধ্যে কোনও বৈষম্য নেই। ভারতে শিখ বা হিন্দু মানুষকেও একসাথে থাকতে শেখানো হয়। ভারত বিশ্বের কাছে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের উত্তম উদাহরণ।’

রব্বানী তার ভাষণে শিক্ষার দিক দিয়ে ভারতের একাডেমিক অর্জনের কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম শিক্ষার আগে নিশাপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা, জ্যোতিষ, দর্শন এবং অন্যান্য শিক্ষা ধারা পড়ানো হত এবং সেখানে ভারতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকতেন এবং শিক্ষা প্রদান করতেন।’

‘মানুষ তখনো শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছিল। ইসলাম শিক্ষার পরে, যে চারটি জিনিসের উপর শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে তা হল বুদ্ধি, রহস্যবাদ, আহলে বাইতের উপদেশ এবং সাহিত্য ও সম্মান। এগুলোর সম্পর্কে বিশেষ করে ভারত ও কাশ্মীরেই শিক্ষা প্রদান করা হয়,’ জানান রাব্বানী।

আগা সৈয়দ আব্বাস রিজভীও সম্মেলনে বক্তৃতা প্রদানকালে বলেন, কাশ্মীরিরা ভাগ্যবান যে তারা ভারতে বাস করছেন যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে যেখানে প্রতিবেশী দেশটিতে এই ধরণের স্বাধীনতা নেই।

তিনি ইরান ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, ভারত ও ইরানকে সব ক্ষেত্রে একে অপরের পাশে থাকা উচিত।

অ/

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ