spot_img
26 C
Dhaka

২৬শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***বিজয়ের মাসে ২টি প্রদর্শনী নিয়ে আসছে বাতিঘরের নাটক ‘ঊর্ণাজাল’***মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি চুমকি, সাঃ সম্পাদক শবনম***সরকার নারীদের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে : মহিলা আ. লীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনা***তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না : কুমিল্লায় মির্জা ফখরুল***দেশে আর ইভিএমে ভোট হতে দেওয়া হবে না : রুমিন ফারহানা***রংপুর সিটি নির্বাচনে অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হবে : নির্বাচন কমিশনার***সৌদি আরবে চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মাননা পাচ্ছেন শাহরুখ খান***ভূমি অফিসে সরাসরি ঘুস গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল***আজ মাঠে নামলেই ম্যারাডোনার যে রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন মেসি***স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে শেখ রাসেল

ভারতে নতুন ধারার এক সবুজ বিপ্লব

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: ভারতের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর, কোচিন বিমানবন্দর সম্পূর্ণভাবে সৌরশক্তিতে চলছে। সৌরশক্তির এ উদ্যোগের জন্য কোচিন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড (সিআইএএল), ২০১৮ সালে, উদ্যোক্তা বিভাগে, জাতিসংঘ চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ পুরস্কার জিতে নেয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এটি একটি ছোট পদক্ষেপ মাত্র। ধীরে ধীরে নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, কোম্পানিটি সম্প্রতি ২৫ কোটি ইউনিটের ক্রমবর্ধমান উৎপাদনের মাইলফলক ছুঁয়েছে, যার ফলে ১,৬০,০০০ মেট্রিক টন কার্বন নিঃসরণ বন্ধ হয়েছে। এইভাবে বিমানবন্দরের বাইরেও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম প্রসারিত হয়েছে।

বিমানবন্দরের মতো বিশাল জায়গার জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব সবুজ শক্তির ব্যবহার করে সিআইএএল পৃথিবীকে সবুজ ও মানব বসবাসযোগ্য করার লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যানবাহনের ক্ষতিকারক দূষিত পদার্থের নিঃসরণের ১১ ভাগই নিঃসরিত হয় তাদের বিমানবন্দর এলাকায়। যদিও ভারতে এ নিঃসরণের পরিমাণ এখনো একদম বন্ধ হয় নি তবে তা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। সিআইএএল এর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র এ ক্ষতিকর পদার্থের নিঃসরণ কমানোই নয় বরং পুরো বিমানবন্দর সৌরশক্তির দ্বারা চালিত করে এটি বিশ্বের কাছে প্রমাণ করে দিয়েছে যে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এ বিমানবন্দরের মতো মাঝারি আকারের যেকোন প্রতিষ্ঠানই স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে।

সিআইএএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. সুহাস বলেন যে, “সিআইএএল সবসময়ই দেখেছে কি করে কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি কিছু করা যায়। যে দেশে বছরের প্রায় ৩০০ দিনই রোদ থাকে, সে দেশে সৌরশক্তির ব্যবহার সর্বোত্তম পন্থা।

যখন আমাদের দৈনন্দিন খরচ ক্রমাগত বেড়েই যাচ্ছিল তখনই আমরা ভাবতে থাকি কি করে এ খরচ কমানো যায়। তাছাড়া একটি বিমানবন্দরের জন্য আমরা বিকল্প কোন শক্তির উপর নির্ভরশীল হতে চাইনি। তাছাড়া আমাদের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভি.জে কুরিয়ান সবসময়ই নতুন কিছু করতে চান। তাই অবশেষে আমাদের মাথায় এ সৌরশক্তির পরিকল্পনা আসে।”

২০১৩ সালে একটি ১০০ কেভি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে এ প্রকল্পের শুরু হয়। বিমানবন্দর টার্মিনালের ছাদের উপর সোলার প্যানেল বসানো হয়। সবকিছু বিচার বিবেচনা করেই সিআইএএল সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিমান বন্দর পরিচালনার ঝুঁকিটি নিয়েছিল।

“সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আমাদের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। এর পেছনে অবশ্য দুইটি কারণ ছিল। এক, সৌরবিদ্যুতের কম খরচ এবং দুই, গ্রিড পরিচালিত তাপবিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি (প্রতি ইউনিটে ৭ টাকা)। রাজ্য সরকার অবশ্য এক্ষেত্রে আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছেন। রাজ্য সরকার বেসরকারী সৌরবিদ্যুৎ জেনারেটরগুলিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাওয়ার গ্রিডের মাধ্যমে অতিরিক্ত শক্তি উৎপাদনের সুযোগ করে দেয়। যার ফলে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিমানবন্দর চালানো সহজতর হয়ে যায়।”

“প্রথম সৌরপ্ল্যান্ট স্থাপনের পর বিমানবন্দরেই আরো সৌরশক্তি উৎপাদনের চেষ্টা করে সিআইএএল। এয়ারক্রাফট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বড় দালানের ছাদের উপর এবং বিমানবন্দরের খালি জায়গাগুলোকে ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুত আরো এক মেগাওয়াট বৃদ্ধি করে সিআইএএল। ২০১৩ সালের নভেম্বরে এ কার্যক্রম শেষ হয় এবং এটিই কেরালা রাজ্যের সর্বপ্রথম মেগাওয়াট স্কেলের সৌরপ্লান্ট।

২০১৪ সালে, প্রায় ৪৮,০০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ছিল বিমানবন্দরের দৈনিক প্রয়োজন ছিল এবং বিমানবন্দরটিকে সম্পূর্ণ কার্বন নিরপেক্ষ করার জন্য বিদ্যমান ১.১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সাথে অতিরিক্ত ১২ মেগাওয়াট ক্ষমতা যুক্ত করার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৫ সালের মধ্যে এ বিমানবন্দর সম্পূর্ণভাবে সৌরশক্তি দ্বারা চালিত প্রথম বিমানবন্দর হয়ে উঠে। ২০১৯ সালে এ প্রকল্প নিজেরই ক্ষমতাকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়। এটি দৈনিক ২ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়ে উঠে যেখানে বিমানবন্দরের চাহিদা ছিল মাত্র ১.৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ।

১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সেইদিনের সেই প্রজেক্টটি এখন ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। এটি এখন রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিঘর। এই বছরেই এ প্রকল্প উত্তর কেরালার কান্নুর জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ১২ মেগাওয়াট সৌরশক্তি প্লান্ট স্থাপন হয়েছে।

সৌরবিদ্যুত উৎপাদন ছাড়াও সিআইএএল সৌর প্যানেলের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গাগুলো কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করছে। এ পর্যন্ত তারা ৯০ মেট্রিক টনেরও বেশি সম্পূর্ণ কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। সিআইএএল পরিবেশবান্ধব এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে যেখানে কোনও জটিলতর সমস্যা থাকবে না। আর যদি আমরা জটিল কোন সমস্যার মুখোমুখি হই তবে নিজেদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে আমরা তা মোকাবেলা করতে পারব বলে আশাবাদী সিআইএএল।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ