spot_img
25 C
Dhaka

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

ভারতের প্রথম পূর্ণ সৌরগ্রাম দরিদ্র বাসিন্দাদের জীবনকে আলোকিত করছে

- Advertisement -

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সুখবর বাংলা: কেসা ভাই প্রজাপতি এখন আনন্দের সাথেই কুমোরের চাকায় মাটির টুকরো ঢেলে জগ কিংবা ফুলদানি তৈরি করেন।

পশ্চিম ভারতের গুজরাট রাজ্যের মোধেরা গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী প্রজাপতি, কয়েক মাস আগের তুলনায় এখন দ্বিগুণ পরিমাণে মাটির জিনিস তৈরি করতে পারছেন। কারণ এগুলো তৈরি করতে এখন আর তাকে হাত দিয়ে চাকা ঘুরাতে হচ্ছেনা বরং বিদ্যুতের সাহায্যেই ঘুরছে চাকা। তার মেশিনটি এখন চলছে সৌর শক্তিতে।

এই মাসের শুরুতে প্রায় ৬৫০০ বাসিন্দার মোধেরা গ্রামকে ভারতের প্রথম গ্রাম হিসেবে সম্পূর্ণভাবে সৌর বিদ্যুতের আওতাভুক্ত করা হয়। গ্রামটিতে রয়েছে প্রধানত কুমোর, দর্জি, কৃষক এবং মুচিদের বসবাস।

প্রজাপতি জানান, “বিদ্যুৎ আমাদের সময় বাঁচাতে এবং আমরা যেন আরও পণ্য উৎপাদন করতে পারি সে ক্ষেত্রে সাহায্য করছে।”

ভারত, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনকারী দেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর এবং বায়ুর মতো পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস থেকে তার অর্ধেক শক্তির চাহিদা পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে এটি কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারত তার লক্ষ্যমাত্রার ৪০% এরও বেশি অর্জন করেছে ২০২১ সালের ডিসেম্বরেই।

মোধেরা প্রকল্প, ফেডারেল এবং প্রাদেশিক সরকারের অর্থায়নে প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি পাওয়ার প্ল্যান্টের সাথে সংযুক্ত আবাসিক এবং সরকারি ভবনগুলিতে ১৩০০ টিরও বেশি ছাদ প্যানেল স্থাপন করেছে।

বাসিন্দারা সমস্ত বিদ্যুৎ খরচ না করলে সরকার এখানে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎশক্তি বাসিন্দাদের কাছ থেকে কিনে নেয়।

এই টাকা দিয়ে, ৪৩ বছর বয়সী প্রবীণ ভাই, যিনি পেশায় একজন দর্জি, তিনি একটি গ্যাস সংযোগ এবং চুলা কেনার পরিকল্পনা করছেন। কারণ গ্রামের অনেক বাড়ির কাঠের চুলায় খাবার রান্না করতে গেলে তা সারা গ্রামকেই ধোঁয়াটে কুয়াশায় ঢেকে ফেলে।

তিনি বলেন, “আমাকে আগে রাস্তার বাতির নিচে বাচ্চাদেরকে পড়াতে হতো। এখন তারা নিজেদের ঘরের ভেতরেই লেখাপড়া করতে পারবে।”

মোধেরা গ্রামটি সূর্য দেবতাকে উৎসর্গ করা প্রাচীন সূর্য মন্দিরের জন্যেও পরিচিত। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটে অবস্থিত। এই বছরের শেষের দিকে এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মোদি বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর একটি স্বনির্ভর ভারত প্রতিষ্ঠার জন্য, আমাদের শক্তির চাহিদা সম্পর্কিত এই ধরনের প্রচেষ্টা আরো বাড়াতে হবে।”

৩৬ বছর বয়সী, গৃহিণী, রীনা বেনের, পার্টটাইম দর্জি হিসেবেও কাজ করেন। এই সৌর শক্তি তার কাজে ব্যাপকভাবে সাহায্য করছে৷

তিনি বলেন “যখন আমরা সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনুমতি পাই, তখনি আমি সেলাই মেশিনের সাথে সংযুক্ত করার জন্য ২০০০ টাকার (২৪ মার্কিন ডলারের) একটি বৈদ্যুতিক মোটর কিনি। এখন আমি প্রতিদিন আরও এক বা দুটি অতিরিক্ত কাপড় সেলাই করতে পারি।”

 

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ