spot_img
25 C
Dhaka

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

ভারতরত্ন কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকা

- Advertisement -

বিনোদন ডেস্ক, সুখবর বাংলা: “মানুষ মানুষের জন্য” মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা পদক, পদ্মভূষণ পদক ও ভারতরত্ন পদকে ভূষিত উপমহাদেশের কিংবদন্তিতুল্য সুরকার গীতিকার ও সঙ্গীতশিল্পী ড. ভূপেন হাজারিকার আজ প্রয়াণ দিবস। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ভারতের আসাম রাজ্যের শদিয়ায় ১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আর মৃত্যুবরণ করেন বোম্বে ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর।

তিনি ছিলেন একজন স্বনামধন্য কন্ঠশিল্পী ও ভারতীয় সঙ্গীত জগতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বশিল্পী। অত্যন্ত দরাজ গলার অধিকারী এই কণ্ঠশিল্পীর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, সব ধর্ম আর মানুষের এক মিলনসেতু ছিলেন তিনি ।

অসমীয়া চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে গানের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। পরবর্তীকালে বাংলা ও হিন্দি ভাষায় গান গেয়ে ভারত এবং বাংলাদেশে অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অল্প সময়ের জন্যে তিনি বিজেপি বা ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৬ সালে বিবিসি বাংলার শ্রোতা জরিপে তার “মানুষ মানুষের জন্যে” গানটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশটি বাংলা গানের তালিকায় ২য় স্থান লাভ করে।

তাঁর বাবা নীলকান্ত হাজারিকা, মা শান্তিপ্রিয়া হাজারিকা। পিতা-মাতার দশ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সকলের বড়। তাঁর অন্য ভাই-বোনেরা হলেন – অমর হাজারিকা, প্রবীণ হাজারিকা, সুদক্ষিণা শর্ম্মা, নৃপেন হাজারিকা, বলেন হাজারিকা, কবিতা বড়ুয়া, স্তুতি প্যাটেল, জয়ন্ত হাজারিকা ও সমর হাজারিকা।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ভূপেন হাজারিকা কানাডায় বসবাসরত প্রিয়ম্বদা প্যাটেলকে বিয়ে করেন। একমাত্র সন্তান তেজ হাজারিকা নিউইয়র্কে থাকেন। তিনি ১৯৪২ সালে গুয়াহাটির কটন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট আর্টস, কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে বি.এ. এবং ১৯৪৬ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ. পাস করেন।

১৯৫২ সালে নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল “প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষায় শ্রবণ-দর্শন পদ্ধতি ব্যবহার করে ভারতের মৌলিক শিক্ষাপদ্ধতি প্রস্তুতি-সংক্রান্ত প্রস্তাব”।

ড. ভূপেন হাজারিকা তাঁর ব্যারিটোন কণ্ঠস্বর ও কোমল ভঙ্গির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তাঁর রচিত গানগুলি ছিল কাব্যময়। গানের উপমাগুলো তিনি প্রণয়-সংক্রান্ত, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয় থেকে তুলে আনতেন। তিনি আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়ে লোকসঙ্গীত গাইতেন। তিনি মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই গান লিখে সুর দিতে থাকেন। আসামের চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের সূচনা হয় এক শিশুশিল্পী হিসেবে।

১৯৩৯ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি অসমীয়া ভাষায় নির্মিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা পরিচালিত ইন্দুমালতী ছবিতে “বিশ্ববিজয় নওজোয়ান” শিরোনামের একটি গান গেয়েছিলেন। পরে তিনি অসমীয়া চলচ্চিত্রের একজন নামজাদা পরিচালক হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশ, আসাম ও তার প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গে তার জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক ও বিশাল।

অসমীয়া ভাষা ছাড়াও বাংলা ও হিন্দি ভাষাতেও তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন এবং অনেক গান গেয়েছেন। অবশ্য এসব গানের অনেকগুলোই মূল অসমীয়া থেকে বাংলায় অনূদিত। তিনি গানগুলোতে মানবপ্রেম, প্রকৃতি, ভারতীয় সমাজবাদের, জীবন-ধর্মীয় বক্তব্য বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এছাড়াও, শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদী সুরও উচ্চারিত হয়েছে বহুবার।

“আজ জীবন খুঁজে পাবি,আমি এক যাযাবর,আমায় ভুল বুঝিস না,একটি রঙ্গীন চাদর,ও মালিক সারা জীবন,গঙ্গা আমার মা,প্রতিধ্বনি শুনি,বিস্তীর্ণ দুপারে মানুষ মানুষের জন্যে,সাগর সঙ্গমে,হে দোলা হে দোলা চোখ ছলছল করে”। তিনি ২৩তম জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ আঞ্চলিক চলচ্চিত্র ‘চামেলী মেমসাহেব’ ছবির সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন ।

(১৯৭৫) পদ্মশ্ৰী (১৯৭৭),”শ্রেষ্ঠ লোকসঙ্গীত শিল্পী’ হিসেবে ‘অল ইন্ডিয়া ক্রিটিক অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার’ (১৯৭৯) অসম সরকারের শঙ্করদেব পুরস্কার (১৯৮৭) দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (১৯৯২) জাপানে এশিয়া প্যাসিফিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুদালী ছবির শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার অর্জন। তিনিই প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই পুরস্কার পান। (১৯৯৩),পদ্মভূষণ (২০০১),অসম রত্ন (২০০৯),সঙ্গীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার (২০০৯) ভারতরত্ন (২০১৯) ।

সুখবর অনলাইন পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সঙ্গীতশিল্পী ড.ভূপেন হাজারিকাকে আজকের এইদিনে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে আত্মার শান্তি কামনা করছে।

এসি/

আরো পড়ুন:

৫২-তে ও কেন বিয়ে করেননি টাবু?

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ