spot_img
20.4 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

ব্রিটিশ সরকারের কূট পরিকল্পনার শিকার : গিলগিট-বাল্টিস্তান

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর বাংলা: ১ নভেম্বর, ১৯৪৭ এ জম্মু ও কাশ্মিরের গিলগিট প্রদেশে রাষ্ট্রীয় পতাকা সরিয়ে নেয় পাকিস্তান। এ ঘটনার পেছনে কোনো বিদ্রোহ নেই বরং আছে গিলগিট প্রদেশের প্রাক্তন রাজনৈতিক প্রতিনিধি মেজর উইলিয়াম আলেকজান্ডার ব্রাউনের ষড়যন্ত্র।

১৯৪৭ এর আগস্টে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেই গিলগিট প্রদেশকে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া হয়। ১৯৪৭ এর জুলাইয়ে গিলগিটের প্রাক্তন রাজনৈতিক প্রতিনিধি মেজর উইলিয়াম এবং কর্নেল রজার বেকন পেশোয়ারে একটি বৈঠকে এ ষড়যন্ত্র করেন। পেশোয়ার বৈঠকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২ অক্টোবর, ১৯৪৭ এ পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মিরের উপর হামলা চালায়।

মহারাজা হরি সিং এবং লর্ড মাউন্টব্যাটেনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বিমানযোগে শ্রীনগরে পাঠানো হয়, যেন তারা দ্রুত বিদেশি ও উপজাতীয় হানাদারদের মোকাবেলা করে তাদের সে জায়গা থেকে সরিয়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে ভারতীয়দের জয় নিশ্চিত ছিল।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শ্রীনগর থেকে মাত্র ৪ মাইল দূরে ছিল। তবে ভারতীয়রা অতি দ্রুত সেখানে পৌঁছে পাকিস্তানিদের মোকাবেলা করে এবং শ্রীনগর থেকে বিতাড়িত করে দেয়।

তখনকার সময় এমন পরিস্থিতি ব্রিটিশদের কল্পনার বাইরে ছিল। ব্রিটিশরা তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের দক্ষিণ দিক এবং পূর্ব তুর্কিস্তান (বর্তমান চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ) দখল করার দিকে মনোযোগ দিতে চাচ্ছিল। এ জায়গাগুলো নিয়ে রাশিয়া, চীন এবং ব্রিটেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।

১৮৬০ থেকে ১৮৭০ দশকের ভেতর রাশিয়া এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্য উভয়েই মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলো দখলের চেষ্টা চালায়। রাশিয়া পারস্য ও ভারত মহাসাগরে তাদের কর্তৃত্ব চাইছিলো। অন্যদিকে ব্রিটেন চাইছিলো এসব অঞ্চলে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করে এ অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার প্রভাব থেকে দূরে রাখতে।

আফগান ও ব্রিটিশদের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়। অবশেষে ব্রিটিশ ভারতের সীমানা কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ডুরান্ড লাইন দ্বারা আফগানিস্তানকে উত্তর পশ্চিম সীমান্তে বিভক্ত করে দেয়। ফলে আফগানিস্তান রাশিয়া ও ব্রিটিশ ভারতের মধ্যে বাফার রাষ্ট্র হয়ে উঠে।

রাশিয়ার জন্য, গিলগিট প্রদেশ হয়ে উঠে ভারত মহাসাগরে প্রবেশের একটি চাবিকাঠি। অন্যদিকে ব্রিটিশদের জন্য এটি ছিল মধ্য এশীয় প্রজাতন্ত্রগুলিকে দখল করার একটি পথ। তাই গিলগিট প্রদেশ জোরপূর্বক দখল, জম্মু ও কাশ্মিরে আক্রমণ এবং ভারতকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে বিভক্ত করা সবই ছিল ব্রিটিশদের পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনার পেছনে ছিল দুইটি কারণ- এক, ভারত মহাসাগরে রাশিয়ার প্রবেশাধিকারের পথ বন্ধ করে দেয়া এবং দুই, মধ্য এশিয়ায় ভারতের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা।

১৯৩৫ সালে, ব্রিটিশ সরকার রাজা হরি সিংকে বাধ্য করে ৬০ বছরের জন্য উনার জায়গাটিকে তাদের ইজারা হিসেবে দিতে, যেন তারা সেখানকার বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকতে পারে। তবে ১ আগস্ট, ১৯৪৭ এ ভারত স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ সরকারের সাথে ভারতীয় ৫৬০ টি রাজ্যের সমস্ত চুক্তি প্রত্যাহার করা হলে রাজা হরি সিং-এর দেওয়া এই ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

ভারতীয় সৈন্যরা পাকিস্তানের দখলে থাকা অঞ্চলগুলোকে মুক্ত করতে শুরু করলে, গিলগিট প্রদেশের দায়িত্বে থাকা মেজর উইলিয়াম ব্রাউন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৯৪৭ এর ৩১ অক্টোবর মধ্যরাতে (১ নভেম্বর প্রথম প্রহরে) গভর্নর ব্রিগেডিয়ার ঘানসারা সিংকে গ্রেফতার করেন।

এসময় আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার অঞ্চলের রাজনৈতিক দূত হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন কর্নেল রজার বেকন। ১৯৪৭ এর ২২ অক্টোবর জম্মু ও কাশ্মিরে আক্রমণের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও উপজাতিদের মধ্যে হওয়া চুক্তিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সে সময় উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের (এনডব্লিউএফপি) গভর্নর ছিলেন স্যার জর্জ কানিংহাম এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন জেনারেল স্যার ডগলাস গ্রেসি। গিলগিট প্রদেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধি এবং পাকিস্তানের সরকারের মধ্যকার যোগাযোগের মাধ্যম ছিল পেশোয়ার। মূলত পেশোয়ারে অবস্থানরত ব্রিটিশ গভর্নর এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধির মাধ্যমেই এই যোগাযোগ হতো।

গিলগিটে গণ-অভ্যুত্থান সফল হলে গিলগিট পাকিস্তানের অংশ হতে সম্মত হয়। এ সংবাদ টেলিগ্রামের মাধ্যমে পেশোয়ার থেকে তৎকালীন পাকিস্তানের রাজধানী করাচিতে পাঠানো হয়।

সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, গিলগিট প্রদেশই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই কথাটি শুনার জন্যেই আমরা এতদিন যাবত অপেক্ষা করছিলাম।

তখনকার সময়ে মহারাজা হরি সিং এবং ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী গিলগিট প্রদেশ এবং জম্মু কাশ্মির ভারতের অংশ ছিল। কিন্তু পাকিস্তান এখন সেসব নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে।

উল্লেখিত অঞ্চলগুলো এখন “বিতর্কিত অঞ্চল” হিসেবে চিহ্নিত। তবে জাতিসংঘ এক্ষেত্রে পাকিস্তানকেই আগ্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

পাকিস্তানের দখলে থাকা জম্মু ও কাশ্মির এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের উপর যে অন্যায় অত্যাচার করেছিল এবং যে কূট পরিকল্পনা করেছিল ভারতীয়দের বিরুদ্ধে তার যোগ্য জবাব দেয়া হবে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ