spot_img
27 C
Dhaka

২৭শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***জঙ্গি ছিনতাইয়ের মামলার আসামি ইদী আমিনের আত্মসমর্পণ***অনলাইন গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ কর্মশালা***নিজের জন্য পাত্র চাইলেন স্বস্তিকা***জলাশয়ের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনাই পাকিস্তানের বন্যা ও খরার মূল কারণ***ইউক্রেনের ক্ষমতা থেকে নব্য-নাৎসীবাদীদের বিতাড়িত করতে হবে : রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী***২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে বাংলাদেশ***পাকিস্তানে নির্বাহী ভাতা না পেয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিক্ষোভের ডাক***জার্সিতে সমর্থন, জার্সিতে ফ্যাশন***মেসিকে ‘উড়ন্ত চুমু’ দিয়ে যা বললেন পরীমণি***বড় ঋণখেলাপিরা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে? : দুদককে হাইকোর্ট

ব্যাথা নিরাময়ে আকুপাঙ্কচার কি আসলেই কাজ করে? বাংলাদেশে এটা কতটা জনপ্রিয়?

- Advertisement -

জ. ই. আলম:

আকুপাঙ্কচার হলো ব্যথা ও রোগ নিরাময় করার জন্য ব্যবহৃত প্রাচীন চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সরু লম্বা সুই ফুটিয়ে এই চিকিৎসা করা হয়। বহুপূর্বে চীনা চিকিৎসাবিদ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলো আকুপাঙ্কচার।

আকুপাঙ্কচার (Acupuncture) শরীরের কিছু কিছু নির্দিষ্ট বিন্দুতে সরু সুচ ঢুকিয়ে রোগ চিকিৎসার পদ্ধতি। প্রায় ২০০০ বছরের অধিককাল ধরে চীন দেশে এটি নিরাময়িক চিকিৎসা কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ল্যাটিন শব্দ ‘আকুস’ মানে সুচ, ‘পাঙ্কচার’ মানে ফোটানো। অর্থাৎ সুচ বা সুই ফুটিয়েই আকুপাঙ্কচার করা হয়। সুচ ফুটিয়ে করা হয় বলে অনেকের ধারণা আকুপাঙ্কচার খুব যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা। আকুপাঙ্কচারে সুচ এতই সরু যে ফোটাবার সময় মোটেই যন্ত্রণা হয় না।

কিভাবে কাজ করে আকুপাঙ্কচার

আকুপাঙ্কচার বিদ্যা মতে মানব শরীরে ১২টি চ্যানেল আছে। এ চ্যানেলগুলির উপরেই রয়েছে আকুপাঙ্কচার পয়েন্টগুলি। চিকিৎসার সময় কিছু ‘ডিস্টার্বড পয়েন্ট’ ও কিছু ‘লোকাল পয়েন্ট’-এর উপর সুচ ফোটানো হয়। আকুপাঙ্কচার করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে তাই ব্যথা কমে যায় বলে ধারণা করা হয়। আকুপাঙ্কচারবিদ্যার প্রাচীনশাস্ত্রে অবশ্য অন্য ব্যাখ্যা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শরীরে ‘পজিটিভ’ ও ‘নেগেটিভ’ দুরকম শক্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব হলেই ব্যাধির সৃষ্টি হয়। আকুপাঙ্কচার করে তখন এ ভারসাম্য ফেরাতে হয়। ছয় মাস থেকে নিরানববই বছর, যে কোনো বয়সের রোগীই আকুপাঙ্কচারের যোগ্য।

আকুপাঙ্কচার চিকিৎসাবিদরা বলেন, এ চিকিৎসায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এ চিকিৎসা কৌশলের প্রয়োগপদ্ধতি, অতিসামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং কম খরচের কারণে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতি (alternative medicine) হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা কতটুকু?

যদিও সাম্প্রতিককালে শুরু হয়েছে, তবু বাংলাদেশে আকুপাঙ্কচার চিকিৎসার জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে, বিশেষত কিছু ব্যতিক্রমী চিকিৎসার জন্য। বেসরকারী উদ্যোগে দেশে কয়েকটি আকুপাঙ্কচার চিকিৎসা ক্লিনিক চালু হয়েছে এবং পিঠব্যথা, কাঁধ জমে যাওয়া, ঘাড়ব্যথা ও কটিবাতের মতো পেশী-অস্থিগত রোগ, স্নায়ুঘটিত রোগ ইত্যাদি চিকিৎসার জন্য আকুপাঙ্কচার ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত

প্রথমে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে আকুপাঙ্কচার আবিষ্কৃত হলেও পরে তা বিজ্ঞানের স্বীকৃতি পায়নি। কিন্তু বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত আছে। আকুপাঙ্কচার নির্ভর কিছু সায়ন্টিফিক তথ্য আছে। আকুপাঙ্কচার এর লক্ষ্য হচ্ছে কৌশল। ক্লিনিকের নিয়মিতকরণ আর তার মৌলিক তত্ত্ব রেকর্ড করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি

এদিকে ২০০৩ সালে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আকুপাঙ্কচারকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এবং যে সব সমস্যায় আকুপাঙ্কচারের সফলতা “হু” দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, তার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

সুদীর্ঘ ইতিহাস

আকুপাঙ্কচারের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। প্রাচীন বই-পুস্তকে আকুপাংচারের যন্ত্রপাতি ছিল হাড় নির্মিত। চার থেকে আট হাজার বছর আগে এ ধরনের যন্ত্রপাতি দেখা গেছে। এটি ছিল গোত্র সমাজের শেষ ভাগের সময়ের পর্ব। প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের সময় হাড়ের সূঁচ পাওয়া গিয়েছিল। বসন্ত ও শরৎ যুগে (খ্রীঃ পূর্বঃ ৭৭০–৪৭৬) চিকিৎসাবিদ্যা মায়া বা জাদু তথা ঝাড় ফুঁক থেকে অন্যদিকে মোড় নেয়, এবং তখন কিছু ডাক্তারেরও আবির্ভাব ঘটে।

দুইন ছিউ ঝুও শি চুয়ান নামক গ্রন্থে ডাঃ ই হোয়ান আকুপাঙ্কচার আর মক্সিবাশ্চনের কথা উল্লেখ করেন, যা নৃপতি জিংয়ের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

যুদ্ধমান আর পশ্চিম হান যুগে (খ্রীঃ পূঃ ৪৭৬—খ্রীষ্টীয় ২৫), লোহা গলানোর প্রযুক্তি আবিস্কারের কল্যাণে অধিকতর সংখ্যার ধাতব সূঁচ তৈরি হয়। হাড়ের সূঁচ পৌঁছুতে পারতো না শরীরের এমন জায়গায় ধাতব সূঁচ ফুটিয়ে আকুপাঙ্কচার চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োগ আরও উন্নত হয়। তারপর পূর্ব হান আর ত্রি-রাজ্য যুগে বহু আকুপাঙ্কচার বিশারদের অভ্যূদয় ঘটে।

হোয়াং পু মি’র লেখা জেন জিও চিয়া ইচিং গ্রন্থেই প্রথম নিয়মতান্ত্রিকভাবে আকুপাঙ্কচারের বিষয়াদি আলোচিত হয়। আরও বেশি সংখ্যার আকুপাঙ্কচার বিষয়ক বই প্রকাশিত হয় চীন এবং দক্ষিণ ও উত্তর যুগে (খ্রীষ্টীয় ২৫৬–৫৮৯)। তখন কোরিয়া ও জাপানে আকুপাঙ্কচার পরিচিতি লাভ করে।

সুই আর থাং যুগে (খ্রীষ্টীয় ৫৮১–৯০৭) আকুপাঙ্কচার একটি বিশেষায়িত বিষয়ে পরিণত হয়। ষোড়শ শতাব্দীতে আকুপাঙ্কচার ইউরোপে প্রবেশ করে, তবে ছিং রাজার আমলে তার যথাযোগ্য মূল্যায়ন হয়নি বলে দুর্দিনে পতিত হয়।

১৯৪৯ সালের পর থেকে অদ্যবধি আকুপাঙ্কচারের প্রভূত উন্নতি হচ্ছে। আকুপাঙ্কচার গবেষণায় অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে তার নিয়মিত কর্মকান্ডে, ব্যথার উপশমে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নয়নে এবং মানুষের শরীরের নল-নালীতে, আকু পয়েন্টে আর অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া

তবে আকুপাঙ্কচার পদ্ধতিটি সর্ম্পকে বড় বড় চিকিৎসাবিদরা ভিন্নমত দিয়েছেন। এটি আসলেই কোনো কাজ করে কিনা, এ সর্ম্পকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ড. চ্যান বলছেন, ‘আকুপাঙ্কচার পদ্ধতি সত্যিই কাজে আসে- এমন কোনও প্রমাণ নেই। কিন্তু তাই বলে এগুলো একেবারে আশাহতও করে না। এসবের সুবিধা হচ্ছে, এ পদ্ধতির সঙ্গে উপদেশনার যোগ থাকলে তা খুব কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। আর অসুবিধা হচ্ছে, এ পদ্ধতির উপকারিতা এখনও পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি। তা ছাড়া এটি খুব ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

আরো পড়ুন:

বদনজর বা কুদৃষ্টি থেকে বাঁচার আমল

 

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ