spot_img
31 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৭ই অক্টোবর, ২০২২ইং, ২২শে আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ

ব্যাংক চেকের মাধ্যমে কিনতে হবে সঞ্চয়পত্র

- Advertisement -

সুখবর রিপোর্ট : এখন থেকে সঞ্চয়পত্র কিনতে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে। গ্রাহকের মূল টাকাসহ মুনাফার অর্থও যাবে ব্যাংক হিসাবে।

মূল টাকা ও মুনাফার অর্থ নগদ আকারে দেয়া হবে না। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্র কিনতে অর্থের উৎস জানাতে হবে। এ খাতে কোনো কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে না।

গ্রাহকের পরিচিতি নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। গ্রাহকের বিনিয়োগ সক্ষমতা জানতে নেয়া হবে আয়কর শনাক্তকরণ নাম্বার (টিআইএন)। সংশিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এসব বিধিবিধান সংযুক্ত করে সরকারি খাতের সঞ্চয়পত্র কেনার বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি), জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর, বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যালোচনা করে ওইসব নতুন বিধি সংযুক্ত করতে একমত হয়েছে।

এগুলোর বেশ কিছু বিধান ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত আকারে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। জুলাই থেকে এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের নীতি বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সঞ্চয়পত্র বেচাকেনার ক্ষেত্রে চালু করা হচ্ছে বেশ কিছু নতুন নিয়ম।

এগুলোর বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যে সীমিত আকারে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। সঞ্চয়পত্র বেচাকেনায় এখন এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো সমস্যা না হলে এগুলো বাধ্যতামূলক করা হবে। পর্যায়ক্রমে আরও অনেক নতুন বিধি চালু হবে।

সূত্র জানায়, আগে সঞ্চয়পত্র নগদ অর্থে কেনা যেত। এ বিধানে পরিবর্তন আসছে। এখন সব সঞ্চয়পত্র নগদ টাকায় কেনা যায় না। ব্যাংক চেকের মাধ্যমে টাকা দিতে হয়। পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পুরো টাকাই এখন ব্যাংক চেকের মাধ্যমে দিতে হয়।

পেনশনের অর্থ থেকেই সঞ্চয়পত্র কেনা হচ্ছে এটা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। কেননা এটি শুধু সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই পেনশনের টাকা দিয়ে কিনতে পারেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে যারা অন্যান্য সঞ্চয়পত্র কেনেন তাদের ১ লাখ টাকা হলেই ব্যাংক চেকের মাধ্যমে টাকা দিতে হয়। ১ লাখ টাকার কম হলে নগদ আকারে নেয়া হয়।

ব্যাংকের বাইরে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এ বিধানটি এখনও বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে গ্রাহকদের কাছে ১ লাখ টাকা হলে ব্যাংক চেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে।

ব্যাংক হিসাব একেবারে না থাকলে সেক্ষেত্রে নেয়া হচ্ছে নগদ টাকা। তবে গ্রাহককে বাধ্য করা হচ্ছে ব্যাংক হিসাব খুলতে। কেননা সঞ্চয়পত্রের মূল টাকাসহ মুনাফার টাকা নগদ আকারে দেয়া হচ্ছে না।

এসব টাকা দেয়া হচ্ছে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে। গ্রাহক ছাড়া অন্য কারও হিসাবেও দেয়া হয় না এসব টাকা।

জুলাই থেকে সব পর্যায়ে ১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে টাকা দেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে জেলা-উপজেলা পর্যায়েও অনলাইনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করতে হবে।

এর আগে এ ব্যাপারে সম্পন্ন করা হবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ। এদিকে বিভাগীয় পর্যায়ে অবকাঠামো তৈরি হওয়ায় ২ মে থেকে অনলাইনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি শুরু হয়েছে।

১ জুলাই থেকে সারা দেশে অনলাইনে সঞ্চয়পত্র বিক্রির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ইতিমধ্যে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

২ মে থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে অনলাইনে এটি বিক্রির ব্যাপারেও অপর একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। ফলে বিভাগীয় পর্যায়ে এখন আর সনদ আকারে কোনো সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে না।

১ জুলাই থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়েও এভাবে বিক্রি হবে না। এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সঞ্চয়পত্র এক ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী। অনেকে এর ওপর নির্ভর করেই চলেন। আবার নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে এটিকেই ভাবেন।

তবে ১ জুলাই থেকে অনলাইনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি শুরু হলে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার দিতে হবে। কেননা কেনার ফরমে এটি দেয়ার বিধান বাধ্যতামূলকভাবে রাখা হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে জন্ম নিবন্ধনের নাম্বার রাখা হবে কিনা সে ব্যাপারে এখন চিন্তাভাবনা চলছে।

সঞ্চয়পত্রে এখন থেকে কালো টাকা বিনিয়োগ করা যাবে না। এটি কিনতে হবে অনলাইনে। একই সঙ্গে আয়কর শনাক্তকরণ নাম্বার (টিআইএন) দিতে হবে। ইতিমধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে সঞ্চয়পত্র কিনতে ২ মে থেকে টিআইএন জমা দিতে হচ্ছে।

সব ধরনের ক্রেতার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দেয়ার সময় এর বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখার বিধান আগামীতেও বহাল রাখা হচ্ছে। তবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে এক বছরে বা পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে এর মুনাফার ওপর কোনো কর দিতে হয় না।

তবে এর বেশি বিনিয়োগ থাকলে বাড়তি অংশের ওপর আরোপিত সুদের ওপর কর দিতে হবে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৩ মে পরিবর্তন করা হয়।

ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হবে না।

ওই সময়ে ৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চপত্রের মুনাফার হার ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ করা হয়। ৫ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চপত্রের মুনাফার হার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ করা হয়।

৩ বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক মেয়াদি হিসাবের মুনাফা ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ করা হয়। ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ করা হয়।

৩ বছর মেয়াদি ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ করা হয়।

আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর শূন্য দশমিক ৭৫ থেকে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তা প্রিমিয়াম বাবদ বাড়তি মুনাফা দেয়া হতো। ২০১৫ সালের ২৩ মে থেকে এ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ