spot_img
25 C
Dhaka

৩১শে জানুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৭ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

বেলুচিস্তানে বিক্ষোভের কারণে পাকিস্তানে বিনিয়োগ নিয়ে চীনাদের উদ্বেগ

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: চীনা নাগরিকদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে বেলুচিস্তানে চলমান বিক্ষোভ চীনা নেতাদের অত্যন্ত উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বেলুচরা চীনাদের তাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বলেছে যা চীনারা ভালো চোখে দেখছে না। যদিও এই দাবিগুলো পাকিস্তানের গোয়াদরের চীনা প্রকল্পগুলোর সাথে সরাসরি যুক্ত নয়, তবুও বাসিন্দারা উন্নয়নগুলোকে তাদের সমস্যার অংশ বলেই মনে করছেন। তাছাড়া পাকিস্তানের মৎস্য আহরণ এবং এর ফলে জীবিকা হারাবার বিষয়টি সরাসরি চীনাদের সাথে জড়িত। উল্লেখ্য, গোয়াদর বন্দর কম্পাউন্ডে প্রায় ৫০০ চীনা নাগরিকদের বসবাস।

দুই মাস আগে শুরু হওয়া বিক্ষোভে বিরক্ত হয়ে বেলুচ সরকার গোয়াদর ও তার আশেপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পাকিস্তানের বন্দর শহর গোয়াদরে সেলুলার পরিষেবা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থগিত করা হয়েছে। শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেলুচিস্তান সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।

গোয়াদরে বেলুচিস্তান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। এ অঞ্চলে পাঁচ বা তার বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করার একটি জরুরি আইনও কার্যকর করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে শতাধিক ব্যক্তিকে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার বন্দর শহর গোয়াদরে কারফিউ জারি করে। কিন্তু হক দো তেহরিক (এইচডিটি) এর নেতৃত্বে এ অঞ্চলের জেলেদের নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ জারি রয়েছে। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ধর্মগুরু মওলানা হিদাইতুর রহমান।

চীন সম্প্রতি বেলুচিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতবিরোধ দমনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এবং বাইরে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। কয়েক বছর ধরে, সেনাবাহিনী বেলুচ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিমান এবং সশস্ত্র হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আসছে।

বেলুচিস্তানের কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তানকে ড্রোন হামলা চালাতে সাহায্য করার জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেছেন। তাদের দাবি, চীন পাকিস্তানকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে। এ দেশ পাকিস্তানকে প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। বেলুচ যোদ্ধাদের অবস্থান খুঁজে বের করার কাজেও চীন পাকিস্তানকে সহায়তা করছে। বেলুচ গণহত্যার সাথেও চীন জড়িত। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে, পাকিস্তানের মাক্রান অঞ্চলের তুরবাতের হোশাবে ড্রোন হামলায় অন্তত দশজন বেলুচ যোদ্ধা নিহত হন।

পাকিস্তান ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চীনের কাছ থেকে পাঁচটি রেনবো-৪ বা সিএইচ-৪ নামের মাল্টিরোল মিডিয়াম-অ্যাল্টিটিউড লং-এডিউরেন্স ইউএভি পেয়েছিল। গোয়াদরের পাসনিতে অবস্থিত একটি চীনা পিএলএ ডিটাচমেন্ট পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে এই সিএইচ-৪বি ড্রোনগুলি পরিচালনা করতে সাহায্য করে।

তবে পাকিস্তানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনাদেরই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ বেশি।

সিপিইসি চীনের উচ্চাভিলাষী ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এর প্রধান প্রকল্প। এ প্রকল্প চীনের জিনজিয়াং প্রদেশকে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদর বন্দরের সাথে সংযুক্ত করে। পাকিস্তান এবং চীন উভয়ই বেলুচিস্তান প্রদেশের কৌশলগত গোয়াদর বন্দরের পূর্ণ সম্ভাবনা ব্যবহার করার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যা সিপিইসি-এর অধীনে একটি বড় প্রকল্প।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানি এবং চীনা কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিপিইসি এর বিবৃতি অনুসারে, উভয় পক্ষ গোয়াদর বন্দর এবং মুক্ত অঞ্চলের সম্পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনসংখ্যা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেইসাথে গোয়াদর এবং তার আশেপাশের অঞ্চলগুলোকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করা হয়।

তবে এতসব বিক্ষোভের মধ্যে গোয়াদরের ধীরগতির অগ্রগতি নিয়ে চীনের মধ্যে হতাশা ক্রমাগত বাড়ছে। পাকিস্তান গোয়াদরে মাত্র তিনটি সিপিইসি প্রকল্প সম্পন্ন করতে পেরেছে। পানি সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সহ প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের এক ডজন প্রকল্প এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

পাকিস্তান সরকার কীভাবে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং তার সক্ষমতার উপর চীনের আস্থা ফিরিয়ে আনে সেটাই এখন দেখার বিষয়। এর ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ