spot_img
31 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ইং, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ

বেঁচে ফেরার গল্প শোনালেন বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া সাগর

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: ছাতকে বন্যার প্রবল স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হয়েছিলেন সাগর সরকার (২৫)। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি বেঁচে ফিরে আসার করুণ কাহিনী বর্ণনা করেছেন।

সাগর ছাতক সদর ইউনিয়নের তিররাই গ্রামের ব্যবসায়ী রনজিত সরকারের পুত্র। ছাতক শহরে তার ফার্মেসির দোকান আছে।

সাগর বলেন, সেদিন ছিল (১৬ জুন) বৃহস্পতিবার। ছাতক শহর থেকে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি ও আছাদ আহমেদ নামে আরেক ব্যবসায়ী। এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হাঁটা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। শ্যামপাড়া-কান্দিগাও রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন তারা। মদুকোনী গ্রামের দক্ষিণ পাশের সড়কে একটি বিশাল ভাঙার সৃষ্টি হয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পানিতে নেমে তারা রাস্তার ভাঙা অংশটুকু পাড়ি দিতে গেলে প্রবল স্রোতে তারা ভেসে যান। রাতে তেরা বিল নামক স্থান থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আছাদ আহমেদকে। ওই স্থানে সারারাত তাকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। কিন্তু তার সন্ধান না পাওয়া যাওয়ায় চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে সাগর মারা গেছে।

সাগর আরও বলেন, পানির স্রোতে ভাসছে ভাসতে একটি বরই গাছের ডালে ধরতে সক্ষম হই। বরই গাছের ডাল পেয়ে বেঁচে যাওয়ার কিছুটা আলো দেখতে পাই। কিন্তু ঢেউ আর ঠাণ্ডা পানিতে শরীরে শক্তি বলতে কিছুই ছিল না। বরই গাছের একটি ডাল ধরে থাকলেও বাতাসে অন্য ডালগুলো তার পিঠ ও মাথায় আঘাত হানতে থাকে। শরীরে বরই গাছের কাঁটা বিধতে থাকে। এভাবে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা থাকার পর বরই গাছের কাঁটার আঘাত সহ্য হচ্ছিল না। সেখান থেকে সাঁতরিয়ে অন্য আরেক গাছের ডাল ধরে রাত পার করে দিই।

তিনি বুঝতে পারেন তাকে খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছে। তার বাবা রনজিত সরকার, সাগর-সাগর বলে চিৎকার করছেন। বাবার চিৎকার তার কানে আসছে কিন্তু সে মুখ দিয়ে কোনো কথা বলতে পারছে না। “প্রায় ১৩ ঘণ্টা পানিতে থেকে একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়ি। পরদিন সকালে গাছ-গাছালির পাশ দিয়ে একটি ছোট নৌকা নিয়ে যাচ্ছিলেন কান্দিগাও গ্রামের ২ ছেলে। এ সময় তাদেরকে ডাক দিলে তারা নৌকা নিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে। পরে তারা মুক্তিরগাও গ্রামের ভেতর একটি ব্রিজের ওপর রেখে চলে যায়। ব্রিজ থেকে মুক্তিরগাও গ্রামের রাস্তায় সাঁতার কেটে ছাতক ডিগ্রি কলেজের হিসাবরক্ষক আব্দুর রহিমের বাড়িতে উঠি। ওই বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে বাড়ির লোকজন এসে আমাকে বাড়িতে নিয়ে যায়”।

আরো পড়ুন:

বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার বদ্ধপরিকর : টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ