spot_img
20 C
Dhaka

২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঔষধ এখন বাজারে, দাম ৩৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা

- Advertisement -

স্বাস্থ্য ডেস্ক, সুখবর ডটকম: বাজারে এলো ‘বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঔষধ’। আমেরিকার ঔষধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (এফডিএ) গত মঙ্গলবার হেমজেনিক্স নামের এ ঔষধটির অনুমোদন দিয়েছে। এটি ‘হিমোফিলিয়া বি’ রোগের ঔষধ। ঔষধটির একটি ডোজের দাম ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় ৩৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকারও বেশি।

পেনসিলভেনিয়াভিত্তিক প্রস্তুতকারী সংস্থা সিএসএল বেহরিংয়ের দাবি, এককালীন এই ঔষধটি জিনগতভাবে ‘হিমোফিলিয়া বি’ রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তাই ‘বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ঔষধ’ হলেও সামগ্রিকভাবে চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কমবে।

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের এক সমীক্ষা অনুসারে, এর আগে সবচেয়ে দামি ঔষধ ছিল নোভারটিস কোম্পানির জোলজেনসমা, যা স্পাইনাল মাসকুলার আত্রোফির (এসএমএ) জিন থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আর ঔষধটির দাম ছিল ২০ লাখ ডলার বা ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার কিছু বেশি। ফলে হেমজেনিক্সের দাম সহজেই তাকে ছাড়িয়ে গেছে।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ ঔষধের মতো, নতুন চিকিৎসার খরচ রোগীদের বহন করতে হবে না, বেশিরভাগ খরচ প্রদান করবে বীমাকারীরা। ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ও সরকারী প্রকল্পগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

হিমোফিলিয়া এমন একটি রোগ, যাতে রোগীর রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, দেহের কোনো স্থানে রক্তপাত শুরু হলে আর রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। মানুষের দেহে ফ্যাক্টর নাইন নামের একটি বিশেষ উপাদানের ঘাটতি হলে এমন ঘটে। এতদিন পর্যন্ত রক্তের মাধ্যমে বাইরে থেকে এই প্রোটিনটি সরবরাহ করা হয়। সেই চিকিৎসাও যথেষ্ট ব্যয়বহুল। হিমোফিলিয়া বি আরো বিরল। মোট হিমোফিলিয়া রোগীর মধ্যে ১৫ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন।

এফফিএ’র হিসাব মতে, প্রতি ৪০ হাজার জনের মধ্যে একজন এ রোগে আক্রান্ত হন। নারীদের থেকে পুরুষদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

প্রস্তুতকারী সংস্থার দাবি, নতুন এই ওষুধটি চিকিৎসাশাস্ত্রের দিক থেকে যুগান্তকারী। এই ওষুধের মাধ্যমে রোগীর লিভারে একটি বিশেষ জিন ঢুকিয়ে দেয়া হয়। আর তার পর থেকে দেহেই রক্ত জমাটকারী প্রোটিন উৎপন্ন হয়। ফলে চিকিৎসার পৌনঃপুনিক ব্যয় খুবই কমে আসে। ফলে দাম আকাশছোঁয়া হলেও ওষুধটি চিকিৎসার সামগ্রিক খরচ কমাতে এবং রোগীদের জীবন বাঁচাতে কাজে লাগাতে পারে।

এ বছরের শুরুর দিকে ইউরোপীয়ান কর্তৃপক্ষও ‘হিমোফিলিয়া এ’র জন্য এ ধরনের একটি জিন থেরাপির অনুমোদন দিয়েছে। বাইওমেরিন কোম্পানির এই ওষুধটি এখনো পর্যবেক্ষণে রেখেছে এফডিএ।

সূত্র: ব্লুমবার্গ, সিএনবিসি নিউজ, এনডিটিভি

এম এইচ/

আরও পড়ুন:

ল্যাবরেটরিতে তৈরি রক্ত দেওয়া হলো মানুষের দেহে

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ