spot_img
32 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৬ই অক্টোবর, ২০২২ইং, ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

বিশ্বকাপ ফুটবলের এমন কিছু রেকর্ড যা ভাঙা ‘অসম্ভব’

- Advertisement -

ক্রীড়া ডেস্ক, সুখবর বাংলা:  বিশ্বকাপ ফুটবলে কোনো না কোনো আসরে এমন অনেক রেকর্ডের জন্ম হয়েছে, তা ভাঙা হয়ত আসলেই অসম্ভব। অন্যান্য প্রতিযোগিতার মতো বিশ্বকাপ ফুটবলও স্বাক্ষী অজস্র রেকর্ডের। বলা হয়ে থাকে রেকর্ড গড়াই হয় সেটি ভেঙে নতুন রেকর্ডের জন্ম দেওয়ার জন্য। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপের একেকটি আসরও বিভিন্ন রেকর্ডের ভাঙ্গাগড়ার হাতছানি নিয়ে উপস্থিত হয়।

কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলে কোনো না কোনো আসরে এমন অনেক রেকর্ডের জন্ম হয়েছে, তা হয়ত আসলেই ভাঙা অসম্ভব। ফুটবলে যদিও অসম্ভব বলে কিছু নেই। তবুও ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে এমন কিছু রেকর্ড হয়েছে ভাঙা বেশ দুরূহ। চলুন তাহলে ঘুরে আসি বিশ্বকাপ ফুটবলের রেকর্ড বইয়ের এমন কিছু পাতা থেকে যেখানে পুনরায় জায়গা পাওয়া রীতিমতো আশ্চর্যের-

  • বিশ্বকাপ ইতিহাসের মূলপর্ব এবং ফাইনালে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা এবং হ্যাটট্রিক: পেলে

১৯৫৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতিয়েছিলেন পেলে। সেলেসাওদের বিশ্বকাপ জেতানোর পথে ওই আসরে মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে পেলে একই সঙ্গে এমন তিনটি রেকর্ড গড়েন, যা ৬৪ বছর পর আজও টিকে আছে। এমনকি ব্যতিক্রমী কিছু না হলে, এসব রেকর্ড আজীবন টিকে থাকবে বলেও বাজি ধরা যায়।

সুইডেনে অনুষ্ঠেয় ১৯৫৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেন পেলে। বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথমবারের মতো বল জালে জড়ানোর সময়ে তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ২৩৪ দিন। তার একমাত্র গোলেই সেমিফাইনালে পা রাখে ব্রাজিল। ওই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল ফ্রান্স। ফরাসিদের বিপক্ষে ব্রাজিলকে ৫-২ গোলে জেতানোর পথে হ্যাটট্রিক করেছিলেন পেলে। এর মাধ্যমে লেস ব্লুজদের বিপক্ষে ১৭ বছর ২৪৪ দিনে তিনবার বল জালে জড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের  সর্বকনিষ্ঠ হ্যাটট্রিকের মালিক বনে যান এই জীবন্ত কিংবদন্তি।

ফাইনালে উঠেও পেলের মধ্যে রেকর্ড গড়ার নেশা কাটেনি। স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে পাওয়া ৫-২ গোলে জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল, যেখানে পেলের অবদান ছিল জোড়া গোল। তখন ফুটবলের রাজাখ্যাত পেলের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ২৪৯ দিন। এই কীর্তি পেলের কাছ থেকে আজও কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

  • দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিতি: লুইস মন্টি

বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে টানা দুবার ফাইনাল খেলার কীর্তি বিরল কিছু নয়। আর্জেন্টিনার ডিয়েগো ম্যারাডোনা, জার্মানির লোথার ম্যাথাউস তো পরস্পরের বিপক্ষেই ১৯৮৬ এবং ১৯৯০ বিশ্বকাপেই টানা দুবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছেন। ব্রাজিলের কাফু আবার ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ বিশ্বকাপে টানা তিনবার ফাইনাল খেলেছেন।

তবে এই তালিকায় উজ্জ্বল এক ব্যতিক্রম হলেন লুইস মন্টি। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়েছিলেন এই মিডফিল্ডারই। তবে লুইস মন্টি অনন্য হয়ে আছেন ভিন্ন একটি কারণে। তিনিই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন এবং সেটিও টানা দুবার।

১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম আসরে জন্মস্থান আর্জেন্টিনার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন লুইস মন্টি। টুর্নামেন্টজুড়ে উজ্জ্বল থাকলেও ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয়েছিল তাকে। আর্জেন্টিনায় জন্ম নিলেও একই সঙ্গে ইতালিয়ান পাসপোর্টও ছিল লুইস মন্টির।

তাই আলবিসেলেস্তেদের হয়ে না, ১৯৩৪ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ইতালির জার্সিতেই বিশ্বকাপে অংশ নেন মন্টি। এবার অবশ্য আর নিরাশ হতে হয়নি, ঠিকই আজ্জুরিদের বিশ্বজয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিলেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। বর্তমানে ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার আইনের যে কড়াকড়ি, তাদের লুইস মন্টির এই কীর্তি অমরই বলা যায়।

  • এক ম্যাচে সর্বোচ্চ কার্ড: জোসেপ সিমুনিচ ( হলুদ এবং লাল কার্ড)

অনেকে হয়ত ভাবতে পারেন, এটা আবার কীভাবে সম্ভব? একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে কিভাবে কোনো ম্যাচে ৩টি হলুদ কার্ড দেখতে পারেন? দুবার হলুদ কার্ড দেখানো মাত্রই তো সেটি লাল কার্ডে পরিণত হয়ে খেলোয়াড়ের বহিষ্কৃত হয়ে যাওয়ার কথা! কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার জোসেপ সিমুনিচ এখানেই গড়েছিলেন এক অপ্রিয় অনন্য কীর্তি!

২০০৬ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচের ৬১ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন সিমুনিচ। ম্যাচের বয়স যখন ৯০ মিনিট তখন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। তবে সেই ম্যাচের রেফারি গ্রাহাম পোল কোনো এক অজানা কারণে ক্রোট ডিফেন্ডারকে লাল কার্ড দেখাননি। সিমুনিচকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর পরেও লাল কার্ড না দেখানোর প্রসঙ্গে নিজের আত্মজীবনীতে পোল বলেছিলেন, সিমুনিচের কণ্ঠে অস্ট্রেলিয়ান টান দেখে তিনি ভুলক্রমে তাকে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড় ভেবে হলুদ কার্ড দেখ্যেছিলেন। বলা বাহুল্য, জাতীয়তায় ক্রোয়েশিয়ান হলেও জোসেপ সিমুনিচের জন্মস্থান কিন্তু অস্ট্রেলিয়াই।

তবে লাল কার্ডের হাত থেকে রেহাই পাননি সিমুনিচ। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখার মিনিট দুয়েক পরই পোলের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে আবারও হলুদ এবং অবশেষে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সিমুনিচ। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নতি, ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারিহসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক নিয়মের প্রয়োগে সিমুনিচের তিন হলুদ কার্ড কীর্তি যে আজীবন টিকে থাকবে, তার ওপর কিন্তু বাজি ধরাই যায়।

  • বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতি: ব্রাজিলউরুগুয়ে (১৯৫০ বিশ্বকাপ)

১৯৫০ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিকে আজীবন মনে রাখবে ব্রাজিল। ফাইনাল না হয়েও মারাকানায় দুই লাতিন আমেরিকান দেশের ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে। আর তাতে উরুগুয়ের কাছে হেরে বেদনার কান্নায় কেঁদেছিল স্বাগতিক দর্শকরা।

তবে ম্যাচটির আগে কিন্তু পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। দেশের মাটিতেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল ব্রাজিলিয়ানরা। সেলেসাওরা সেই ম্যাচে এতটাই ফেবারিট ছিল যে তাদের শিরোপা উদযাপনের সাক্ষী হতে মারাকানায় নেমেছিল জনসমুদ্রের ঢল।

৬৫ বছর আগের সেই ফাইনালে মারাকানায় সেদিন উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা ছিল দুই লাখেরও ওপরে! যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সংখ্যাটি ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৩০ জন। তবে শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের কাছে ১-২ গোলে পরাজয়ে স্বপ্নভঙ্গের বেদনার প্রত্যক্ষদর্শী হতে হয়েছিল ব্রাজিলীয় দর্শকদের।

মারাকানাজো নামে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেওয়া ম্যাচটি ঠাই করে নিয়েছিল রেকর্ডবুকেও। এই ম্যাচেই যে হয়েছিল বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ডটি। উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং দর্শকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মাঠে দর্শক আসনের সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। কাজেই এই রেকর্ডটি অস্পর্শনীয়ই থাকবে বলে ধারণা করা যায়।

আরও পড়ুন:

চাঁদের উদ্দেশে উড়াল দিতে প্রস্তুত নাসার রকেট

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ