spot_img
26 C
Dhaka

২৬শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***বিজয়ের মাসে ২টি প্রদর্শনী নিয়ে আসছে বাতিঘরের নাটক ‘ঊর্ণাজাল’***মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি চুমকি, সাঃ সম্পাদক শবনম***সরকার নারীদের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে : মহিলা আ. লীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনা***তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না : কুমিল্লায় মির্জা ফখরুল***দেশে আর ইভিএমে ভোট হতে দেওয়া হবে না : রুমিন ফারহানা***রংপুর সিটি নির্বাচনে অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হবে : নির্বাচন কমিশনার***সৌদি আরবে চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মাননা পাচ্ছেন শাহরুখ খান***ভূমি অফিসে সরাসরি ঘুস গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল***আজ মাঠে নামলেই ম্যারাডোনার যে রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন মেসি***স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে শেখ রাসেল

বিদ্যুতে আশার আলো দেখাচ্ছে রূপপুর

- Advertisement -

ইব্রাহীম খলিল জুয়েল:

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার অন্তর্গত পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৪ সালের প্রথম দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর জানান, সামনের বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিটের সব কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপরই প্রথম চুল্লি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে।

গত সপ্তাহে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি (রিঅ্যাকটর প্রেশার ভেসেল) স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এই কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজ শুরু হলো।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর বা কমিশনিং প্রক্রিয়ায় এই চুল্লী স্থাপন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরমাণু বিজ্ঞানীরা রিঅ্যাকটর প্রেশার ভেসেলকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘হার্ট বা হৃৎপিণ্ড’ বলে থাকেন।

রূপপুর কেন্দ্রে দুটি ইউনিটে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে প্রাথমিকভাবে এক লক্ষ ১৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে একক প্রকল্প হিসেবে এটি সবচেয়ে বড় কোনো অবকাঠামো প্রকল্প।

কবে চালু হচ্ছে রূপপুর প্রকল্প?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান সাংবাদিকদের বলেছেন, “আগামী বছরের মধ্যেই প্রথম জ্বালানিও চলে আসবে। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা রেডি। আগামী বছরের ডিসেম্বর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট উৎপাদন শুরু করতে পারবে।”

প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর বলেছেন, ”প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালের মধ্যে আমরা রেডি থাকবো। আমাদের সমস্ত ইনফ্রাকচার যদি রেডি থাকে, তাহলে আমরা শুরু করতে পারবো।”

”আমরা আশা করছি, ২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটের কাজ শেষ হবে। এরপরে আমরা কমিশনিং শুরু করবো। এরপর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যাবে। এই কমিশনিংয়ের কাজ ২০২৩ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা।”

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রথম ইউনিটের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ হয়েছে ৪৮ শতাংশ। আর পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৫৫ শতাংশ।

সামনের বছর সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রথম চুল্লির জন্য জ্বালানি পাওয়ার আশা করছেন কর্মকর্তারা। সেই বছরের অক্টোবর থেকে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর কথা ভাবা হচ্ছে।

তবে পুরোপুরি সরবরাহ শুরু করতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি হয়ে যাবে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশন।

সঞ্চালন লাইন নিয়ে জটিলতা

তবে কর্মকর্তারা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার আশাবাদ দেখালেও তা জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ উৎপাদন করা বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নেয়ার জন্য যে সঞ্চালন লাইন দরকার, সেটা এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মোঃ ইয়াকুব ইলাহি চৌধুরী বলছেন, ”পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নেয়ার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এখানে আমাদের দুটা রিভার ক্রসিং আছে। যমুনা নদীতে দুটি আর পদ্মা নদীতে একটি। সেগুলোর ওপর দিয়ে সঞ্চালন লাইন নেয়ার জন্য কিছুদিন আগে টেন্ডার করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। এসব কাজ শেষ হতে ২০২৪ সালের অগাস্ট পর্যন্ত সময় লেগে যাবে।”

এই সময়ের আগে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হবে না।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজের জন্য বাঘাবাড়ি থেকে রূপপুর ২৩০ কেভির লাইন গত জুন মাসে সম্পন্ন করেছে পিজিসিবি।

তবে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে এই সঞ্চালন লাইনের কাজ আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ঠিকাদারের কাজ শুরুর জন্য যে প্রাথমিক টাকা দিতে হয়, ডলার সংকটের কারণে সেটাও এখনো দিতে পারেনি পিজিসিবি। ফলে কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে।

ইতিহাস

>> ১৯৬১ সালে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ১৯৬২ সালে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার পদ্মা নদীর পার্শ্ববর্তী রূপপুরকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। একাধিক সমীক্ষার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের যথার্থতা যাচাই করা হয়। এই প্রকল্পের জন্য ২৬০ একর এবং আবাসিক এলাকার জন্য ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৯৬৮ সালের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন, অফিস, রেষ্ট হাউজ, বৈদ্যুতিক উপ-কেন্দ্র ও কিছু আবাসিক ইউনিটের নির্মাণ কাজ আংশিক সম্পন্ন করা হয়।

>> ১৯৬৯ সালে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাতিল করে দেয়।

>> ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

>> ১৯৭৭-১৯৮৬ সালে “মেসার্স সোফরাটম” কর্তৃক একটি সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন চালানো হয় ও এর মাধ্যমে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন যৌক্তিক বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। পরে একনেক কর্তৃক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ১২৫ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি।

>> ১৯৮৭ সালে জার্মানী ও সুইজারল্যান্ডের দুইটি কোম্পানি কর্তৃক দ্বিতীয়বার সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন করা হয়। এ অধ্যয়নে ৩০০-৫০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

>> ২০০৯ সালের ১৩ মে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন (রোসাটোম)-এর মধ্যে ‘পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার’ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

>> ২০১০ সালের ২১ মে, বাংলাদেশ সরকার এবং রুশ ফেডারেশন সরকারের মধ্যে ‘পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার’ বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি জাতীয় কমিটি, মন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে কারিগরি কমিটি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ ও ৮টি উপগ্রুপ গঠন করা হয়।

>> ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া ফেডারেশন সফরকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রাক-প্রারম্ভিক পর্যায়ের কার্যাদি সম্পাদনের জন্য রাষ্ট্রীয় রপ্তানি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

>> স্বাক্ষরিত আন্তরাষ্ট্রীয় চুক্তি এবং রাষ্ট্রীয় রপ্তানি ঋণ চুক্তির ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন (১ম পর্যায়) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায় কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ