spot_img
26 C
Dhaka

১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ১৮ই মাঘ, ১৪২৯বাংলা

বাদামকে কেন শ্রেষ্ঠ খাবার বলা হয়?

- Advertisement -

লাইফস্টাইল ডেস্ক, সুখবর ডটকম: খাবারের সঙ্গে বাদাম যুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। বাদাম হচ্ছে শক্তি, প্রোটিন ও ভালো চর্বির উৎস। তাই খাদ্যতালিকায় নিয়মিত বাদাম রাখা দরকার। অনেক ধরনের বাদাম পাওয়া যায়। এর মধ্যে চিনাবাদাম, আখরোট, কাজু ও পেস্তাবাদাম খেতে পারেন। সুস্থ থাকতে খাবারের সঙ্গে নানাভাবে বাদাম যুক্ত করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা বাদাম নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা করেছেন। তাঁরা বলছেন, খাবারের সঙ্গে বাদাম মিশিয়ে খেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এড়ানো যায়। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক থেকে দূরে থাকা যায়। খাবারের পরপর রক্তে লিপিড ও ট্রাইগ্লিসারাইডসের মতো একধরনের চর্বি রক্তে বেড়ে যায়, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বাদামকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ খাবার বলা হচ্ছে। কয়েক বছর আগে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা এক হাজার পুষ্টিকর খাবার নিয়ে গবেষণা করেন। তারা এগুলোর মধ্য থেকে ১০০টি খাবারকে শ্রেষ্ঠ খাবার হিসেবে শনাক্ত করেন।

যে খাবারটিকে তারা তালিকার প্রথমে রাখেন সেটি হচ্ছে বাদাম; আরো নির্দিষ্ট করে বললে আখরোট (Walnut) এবং কাঠবাদাম (Almond) দখল করে নাম্বার ওয়ান ফুড- এর স্থান।

বাদাম কেন শ্রেষ্ঠ খাবার?

বাদামে থাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাট- এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড, যার আরেক নাম ইঞ্জিন অয়েল। যানবাহনের ইঞ্জিন যেন নির্বিঘ্নে দীর্ঘদিন চলতে পারে সেজন্যে বিশেষ লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে জনপ্রিয় লুব্রিকেন্ট হচ্ছে মোবিল। মোবিলকে বলা হয় ইঞ্জিন অয়েল।

আমাদের শরীরও একটা বাহন; যার ভেতরে রয়েছে ৭০-১০০ ট্রিলিয়ন সেল বা কোষ। প্রতিটা সেলের ভেতরে রয়েছে একাধিক ইঞ্জিন- মাইটোকন্ডিয়া, লাইসোজম ইত্যাদি। প্রতিনিয়ত এই ইঞ্জিনগুলোয় লক্ষাধিক রি-একশন হচ্ছে; যার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে হরমোন, এনজাইমসহ নানাবিধ উপকারি পদার্থ।

কাজেই দেহকোষের ইঞ্জিনগুলোর ঠিকমতো কাজ করা অত্যাবশ্যক। আর তা হবে যখন আপনি ঐ ইঞ্জিনগুলোকে তার প্রয়োজনীয় লুব্রিকেন্ট দেবেন। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড হচ্ছে সেই লুব্রিকেন্ট; যা পর্যাপ্ত থাকে বাদামে।

বাদামের আরেক নাম ‘ব্রেইন ফুড’

বাদামে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ব্রেনের সেরিব্রাল কর্টেক্সের প্রাথমিক গঠন উপাদান হিসেবে কাজ করে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত বাদাম খেলে আপনার মস্তিষ্ক চমৎকার কাজ করবে।

মস্তিষ্ক ছাড়াও শুক্রাণু, শুক্রাশয় এবং চোখের রেটিনার প্রাথমিক গঠন উপাদান হিসেবে কাজ করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড; বাড়ায় হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ ক্ষমতা।

এছাড়াও আছে কো-এনজাইম কিউ টেন

এটি একটি শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট। আমাদের হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক এবং পেশির যত কাজ আছে সেগুলোকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে কিউ ১০। এমনকি খাবার থেকে শক্তি তৈরির প্রক্রিয়াকেও সহযোগিতা করে এটি।

শুধু খাবার খেলে তো চলবে না, খাবারটা ব্যবহারও তো হতে হবে! এই ব্যবহারে সাহায্য করে কিউ ১০। যেটা পর্যাপ্ত রয়েছে বাদামে।

বাদামে থাকা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এমাইনো এসিড।

এমাইনো এসিড হচ্ছে প্রোটিন বা আমিষের ক্ষুদ্রতম অংশ। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এমাইনো এসিড হচ্ছে এলআরজিনিন। এটি থাকে বাদামে।

এমনিতে আমাদের রক্তনালী নমনীয়। কিন্তু বেশি বেশি জাঙ্কফুড ফাস্টফুড রিচফুড গ্রহণ বা অন্য কোনো কারণে যখন রক্তনালী শক্ত হয়ে যায় তখন ঘটে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো ঘটনা। এলআরজিনিন ধমনির দেয়ালকে সবল এবং নমনীয় করে হার্ট এটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়তা করে।

এছাড়াও এলআরজিনিন রক্তনালীর ভেতরে ব্লাড ক্লট বা রক্ত জমাট বাধা প্রতিরোধ করে, রক্তকে রাখে তরল। প্রকারান্তরে আপনাকে বাঁচায় হৃদরোগ থেকে।

ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন-ই এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস বাদাম

শরীরের নানাবিধ কাজের জন্যে এই ভিটামিনগুলো প্রয়োজন। গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ত্বক ও চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভিটামিন-ই।

নিয়মিত বাদাম খেলে চুলের স্বাস্থ্য ভাল থাকে; চুল পড়া বন্ধ হয়। চুল হয় ঘন ও সুন্দর।

সেই সাথে ত্বক হয় চকচকে প্রাণবন্ত। ফলে বাড়ে তারুণ্যের দীপ্তি।

মিনারেলস

যার মধ্যে আছে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, কপার, সেলেনিয়াম। দেহের নিয়মিত নানাবিধ কাজের জন্যে এই মিনারেলগুলো প্রয়োজন।

কাজেই নিয়মিত বাদাম খেলে শরীর পর্যাপ্ত মিনারেল পাবে। এতে দেহের স্বাভাবিক কাজগুলো পরিচালিত হবে সুন্দরভাবে।

দীর্ঘায়ু লাভে বাদাম

পৃথিবীতে এমন ৫টি অঞ্চল রয়েছে, যেখানে মানুষ বাঁচে গড়ে শত বছর! এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকে কর্মক্ষম। অঞ্চলগুলো হচ্ছে জাপানের ওকিনোয়া দ্বীপ, গ্রীসের ইকারিয়া দ্বীপ, ইতালির সার্জেনিয়া দ্বীপ, কোস্টারিকার নিকোলা পেনিনসুলা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লোমালিন্ডা। এদের একত্রে বলা হয় ব্লু জোনস।

এত দীর্ঘায়ু লাভের পেছনে কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে তাদের খাদ্যাভ্যাস। দেখা গেছে তাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হচ্ছে বাদাম। তাদের খাদ্যতালিকায় আর যাই থাক বা না থাক, বাদাম থাকবেই!

কাজেই আপনিও যদি দীর্ঘ কর্মময় সুস্থ জীবন চান তাহলে খাদ্যতালিকায় যুক্ত করুন বাদাম।

কতটা খাবেন, কীভাবে খাবেন?

বেশি না, প্রতিদিন মাত্র একমুঠ বাদাম খান। যার মধ্যে থাকবে কাঠ বাদাম ৫টি, আখরোট ২টি, কাজু বাদাম ৪টি, পেস্তাবাদাম ৪টি এবং চীনাবাদাম ১০-১৫টি।

রোস্টেড নাটস বা ভাজা বাদাম খেতে সুস্বাদু হলেও কাঁচা বাদাম খাওয়াই উত্তম। কারণ যখনই বাদামে লবণ যুক্ত হয় এবং তাপে ভাজা হয় তখন এর পুষ্টিগুণ কমে যায়। এজন্যে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা কাঁচা বাদাম ভিজিয়ে খেতে বলেন।

রাতে ঘুমানোর আগে বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ভেজানো পানি ফেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর ২/৩টা খেজুরসহ ভালো করে চিবিয়ে খান।

আপনার দিন শুরু হলো পৃথিবীর ১ নম্বর খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে! এভাবে প্রতিদিন খেলে অসুস্থ হওয়া কঠিন হবে আপনার জন্য। আপনি বেঁচে যাবেন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থেকে। হবেন কর্মময় দীর্ঘজীবনের অধিকারী।

সূত্র: কোয়ান্টামমেথড

এসি/ আইকেজে /

আরো পড়ুন:

ওজন কমাতে চান? নিয়মিত বাদাম খান

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ