spot_img
22 C
Dhaka

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

বহুমুখী প্রতিভাবান একজন শিল্পী মারজুক রাসেল

- Advertisement -

সাইদ মাহবুব, সুখবর বাংলা: জনপ্রিয় গীতিকার ও অভিনেতা মারজুক রাসেল। একজন কবি হিসেবেও সমাদৃত তিনি। তার কর্মজীবনের শুরু কবিতা ও গান রচনার মধ্য দিয়ে। তিনি টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। টেলিভিশনে তার অভিনীত প্রথম কাজ ছিল মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী পরিচালিত আয়না মহল। সেই থেকে তিনি বহু টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন এবং অসংখ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। নাটকে তাকে অগোছালো প্রেমিক, পাড়ার বড় ভাই কিংবা মাস্তান চরিত্রে দেখেই অভ্যস্ত দর্শক। কারো কাছে তিনি বখে যাওয়া একজন; হাজারো তরুণের আইডল, কারো চোখে আবার অমিত প্রতিভাবান।

মারজুক রাসেল ১৯৭৩ সালের ১৫ই আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা গোপালগঞ্জের একটি জুট মিলে কাজ করতেন। বাবার চাকরি সূত্রে তিনি বড় হয়েছেন খুলনার দৌলতপুরে। তিনি প্রথমে কৃষ্ণমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, তবে তার বাবা তাকে একটি মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করিয়ে দেন।।খুলনায় থাকাকালীন তিনি ১৯৮৪-৮৫ সালে ঢাকার সংবাদপত্রে ছাপার জন্য কবিতা লিখে পাঠাতেন। ১৯৯৩ সালে “দৈনিক বাংলার বাণীতে” তার প্রথম কবিতা ছাপা হয়। বাবার পাটকলে চাকরির সুবাদে থাকা হতো তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত কোয়ার্টারে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই সমাজের সূক্ষ্মতম একটা ব্যাধি মারজুকের কোমল অনুভূতিতে আঘাত করে। সেটি হলো শ্রেণী বৈষম্য। ক্লাসে ভালো ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর সন্তান হওয়ার ফলে সে দেখেছে প্রথম শ্রেণীর কর্মচারীদের সন্তানদের সুবিধাপ্রাপ্তিকে। আর দেখেছে নিজেকে বঞ্চিত হওয়ার পাত্র হিসেবে। আর এই “বৈষম্যই” হয়ে উঠে তাঁর প্রেরণা। শুরু হয় তাঁর সংগ্রামী জীবন। ১৯৯৩ সালে ঢাকায় আসার পর কবি শামসুর রাহমানের বাসায় গিয়ে তাঁর সান্নিধ্য পাবার পর বেরিয়ে আসেন। এরপর বিশাল আকাশের নিচে তিনি কোথায় যাবেন? কবি নজরুলের মতো রুটির দোকানে না কাজ করলেও কম কষ্ট করেননি মারজুক।

এর মাঝেও তিনি লেখা চালিয়ে গেছেন। অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তাঁর লেখা নিয়ে। সে সময় তিনি গান লিখে বিভিন্ন সুরকারকে দিতেন, কিন্তু কোনও সুরকার তার গান নেননি। দুই বছর পর তিনি এক বন্ধুর বাসায় জেমসের গাওয়া “মান্নান মিয়ার তিতাস মলম” গান শুনে জেমসের সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। লেখালেখির সূত্র ধরে সঞ্জীব চৌধুরীর সাথে পরিচয় ছিল তাঁর। সঞ্জীব চৌধুরীর পরামর্শ মতো মারজুক একদিন জেমসের সঙ্গে দেখা করতে যান হাতিরপুলে তার স্টুডিও সাউন্ড গার্ডেনে। জেমস তার গানগুলো দেখেন অনেক সময় নিয়ে। তারপর জেমস তার নিজস্ব ভঙ্গিতে বলে ওঠেন, ‘হবে, তোর হবে। তোর মধ্যে আগুন আছে’।

জেমস প্রথম দিনেই মারজুককে আট-নয় ঘণ্টা তার সঙ্গে রাখেন। ‘লেইস ফিতা লেইস’ এ্যালবামের কাজ চলছে তখন। জেমসের সঙ্গে দিন রাত কাজ করতে করতে তার কাজকে বুঝতে থাকেন মারজুক। ইতোমধ্যে বন্ধুরা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিভাগীয় সম্পাদক কিংবা স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় মারজুকের কবিতা ছাপা হতে থাকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। গান লিখতে থাকেন জেমসের জন্য। সে সময় তার কয়েকটি গান বেশ হিট ছিলো। যার মধ্যে রয়েছে মীরা বাঈ, পত্র দিও, শরাবে শরাব, হা ডু ডু, আমি ভাসব যে জলে তোমায় ভাসাবো সেই জলে। ব্যাচেলরের গান আমি তো প্রেমে পড়িনি, প্রেম আমার উপরে পড়েছে, ঈশান কোণের বায়ু, পাগলা ঘোড়া। পান্থ কানাইয়ের গাওয়া বিখ্যাত হওয়া গান গোল্লা। এ সময় আসিফের জন্যও কিছু গান লেখেন মারজুক। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে হিট গানটির নাম তুমি হারিয়ে যাওয়ার সময় আমায় সঙ্গে নিও। এরপর ‘ফিসফাসফুস’ এ্যালবামে তার গান মিথ, জলকন্যা, নারী শিরোনামের গানগুলো বেশ হিট করে। থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার চলচ্চিত্রে তার দ্বন্দ্ব শিরোনামের ভেতর বলে দূরে থাকুক, বাহির বলে আসুক না গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

মারজুক কেবল গান কবিতাই লেখেননি বিজ্ঞাপনচিত্রের জিঙ্গেলও লিখেছেন তিনি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, তিব্বতের বিজ্ঞাপন ‘সুন্দরীতমা’, জুঁইয়ের বিজ্ঞাপন ‘সূর্য বলে আমার রোদে চুল শুকাতে আসো না’, মেরিল বিউটি সোপের ‘ভেজা হাওয়াই ভিজে যাওয়া’, প্রিমিয়ার সিমেন্টের ‘সামনে পিছনে যারা তাদেরও স্বপ্ন আছে’। এছাড়া অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন।

মারজুক রাসেল একজন কবি, গীতিকার, মডেল এবং অভিনেতা। তার কর্মজীবনের শুরু কবিতা ও গীত রচনার মধ্য দিয়ে। তিনি টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, টেলিভিশনে তার অভিনীত প্রথম কাজ ছিল মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী পরিচালিত “আয়না মহল।” সেই থেকে তিনি বহু টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন এবং অসংখ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। তিনি ২০০৪ সালে ব্যাচেলর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ের সূচনা করেন এবং প্রশংসা পান। মারজুক একাধিক সঙ্গীত ভিডিওতে কাজ করেছেন, যেমন ঘুড়ি তুমি কার আকাশে উড়ো (২০১২), স্মৃতি কথা (২০১৭)। অনেক চলচ্চিত্রেও তিনি কাজ করেছেন। তাঁর অনেক বই প্রকাশ পেয়েছে। বই মেলাতে তাঁর বই সর্বোচ্চ বিক্রিও হয়েছে।

তিনি এখনও আরো নাটক, কবিতা, চলচ্চিত্র, অভিনয় নিয়ে কাজ করছেন।

আরো পড়ুন:

কবীর সুমন: গানওয়ালা এক নাগরিক কবিয়াল

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ