spot_img
27 C
Dhaka

২৯শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

বহুমুখী প্রতিভাধর শিল্পী কিশোর কুমার

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর বাংলা: কিংবদন্তী গায়ক কিশোর কুমার ভারতীয় সিনেমার উজ্বলতম নক্ষত্র। একাধারে গায়ক, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং রেকর্ড প্রযোজক হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে।

তাঁর মতো বহুমুখী প্রতিভাধর শিল্পী ভারতীয় সিনেমায় বিরল। কিশোর কুমার এমন একজন শিল্পী যিনি পর পর আটবার ফিল্মফেয়ার আ্যওর্য়াড পান। যা এখনও পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেননি।

কিশোর কুমারের জন্ম ১৯২৯ সালে মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ায়। বাবা কুঞ্জলাল গঙ্গোপাধ্যায় পেশায় ছিলেন আইনজীবী। চার ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন কিশোর কুমার। অশোক কুমার সবার বড় তারপর দিদি সতী দেবী তারপর অনুপ কুমার ও সর্বকনিষ্ঠ কিশোর কুমার। তাঁর আসল নাম ছিল আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায়।

কিশোর কুমার বলিউডে তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ‘বম্বে টকিজে’ কোরাস সিঙ্গার হিসেবে। সেই সময় বলিউড ইন্ডাস্ট্রির বড় স্টার অশোক কুমার। তাঁর ইচ্ছে ছিল ভাই তাঁর মতো অভিনেতাই হোক কিন্তু কিশোরের মন পড়েছিল গানের দিকেই।

কিশোর কুমারের অভিনেতা হিসেবে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ হয় শিকারী(১৯৪৬) ছবিতে। এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে ছিলেন অশোক কুমার। প্রসঙ্গত, ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৫ এর মধ্যে ২২টি ছবিতে কাজ করেন কিশোর কুমার। তাঁর মধ্যে ১৬টি ফ্লপ ছবি। তারপর ‘লড়কি’ ও ‘বাপ রে বাপ ‘ছবিতে সাফল্য পাওয়ার পর অভিনেতা হিসেবে তাঁকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন পরিচালক প্রযোজকরা।

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাঁর অনুগামীরা। তাঁর ভক্তের সংখ্যা অগুণতি। তবে কিশোর কুমার নিজে ছিলেন হলিউডের সংগীত শিল্পী Danny Kaye-এর ভক্ত।

রুপতেরা মাস্তানা গানের জন্য ১৯৭০ সালে প্রথম ফিল্মফেয়ার আ্যওর্য়াড পান কিশোর কুমার। প্রথমবার ভারতীয় গানে ইউডলিং-এর ব্যবহার কিশোর কুমার করেন।

বরেণ্য সংগীত পরিচালক শচীন দেব বর্মনের কথাতেই এই ইওডেলিং স্টাইলটি রপ্ত করেন কিশোর কুমার।

কিশোর কুমারের বায়োগ্রাফি থেকে জানা গিয়েছে তিনি গুরু বলে মানতেন তিনজনকে। কে এল সায়গল‚ হলিউডি গায়ক-অভিনেতা ড্যানি কে এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তাঁর বাড়িতে ঝোলানো ছিল এই তিনজনের বড় বড় ছবি। রোজ সকালে উঠে এই তিনজনকে প্রণাম করতেন কিশোর কুমার ।

কিশোর কুমার সবথেকে বেশী গলা দিয়েছেন রাজেশ খান্নার জন্য । প্রায় ২৪৫ টি গান গেয়েছেন তাঁর লিপে। তারপরই রয়েছেন দেব আনন্দ, জিতেন্দ্র ও অমিতাভ বচ্চন। পরে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে মন কষাকষি হয় কিশোর কুমারে একটি সিনেমাকে কেন্দ্র করে।

তাঁর গাওয়া ‘Aake seedhi lagi dil pe’ গানটির কথা সবার জানা। এই গানটিটে ছেলে ও মেয়ের গলায় গেয়েছেন কিশোর কুমার। তবে মেয়ের অংশটি গাওয়ার কথা ছিল লতা মঙ্গেশকরের।

একবছরের জন্য ভারতীয় রেডিও ও দূরদর্শন ব্যান করেছিল কিশোর কুমারকে। কারণ ১৯৭৫ এ জরুরি অবস্হার সময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভায় গাইতে বলা হয়েছিল তাঁকে। তবে সেই সময় চলা পরিস্হিতির কথা ভেবে সেই প্রস্তাব নাকচ করেন কিশোর কুমার। তারপরই ব্যান করা হয় তাঁকে।

তিনি তাঁর জীবনে চারবার বিয়ে করেছিলেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী রুমা গুহ ঠাকুরতা। আট বছরের দাম্পত্য জীবন তাঁদের। দ্বিতীয় স্ত্রী মধুবালা, তার সঙ্গে নয় বছর ঘর করেন। তৃতীয়বার বিয়ে করেন যোগিতা বালিকে। যিনি বর্তমানে মিঠুন চক্রবর্তীর স্ত্রী। তবে যোগিতা ও কিশোরের বিবাহিত জীবন টিকে ছিল মোটে দু-বছরের জন্যে( ১৯৭৬-১৯৭৮)। চতুর্থবার বিয়ে করেন লীনা চন্দ্রভারকরকে। আমৃত্যু তাঁর সঙ্গেই ছিলেন কিশোর কুমার।

শোনা যায় যোগিতা বালি তাঁকে ছেড়ে মিঠুন চক্রবর্তীকে বিয়ে করায় গান বন্ধ করে দেন এই কিংবদন্তী শিল্পী। তাঁর চারটি বিয়ে থেকে দুটি সন্তান রয়েছে অমিত কুমার ও সুমিত কুমার। দু’জনেই সংগীত শিল্পী।

রাজেশ খান্না ও অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ‘আনন্দ’ ছবিটি প্রথমে করার কথা ছিল কিশোর কুমার ও মেহমুদের। কিন্তু এই ছবির পরিচালক হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় যখন ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে কথা বলতে যান তাঁকে পূর্বের টাকা পয়সা সংক্রান্ত বিবাদের কারণে অপমান করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন কিশোর।

পেশাগত জীবনে তিনি টাকাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। একটাকা কম হলে তিনি সেই সিনেমায় বা শোতে গান করতে চাইতেন না। গোটা ইন্ডাস্ট্রি জানত, কিশোর কুমার টাকার বিনিময়ে কাজ করাটাই বেশি পছন্দ করতেন।

আটবার ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার ভারতবর্ষে পুরুষ প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জেতার রেকর্ড আজও রয়েছে কিশোর কুমারের দখলে। মোট আটবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। তাঁর গাওয়া গানগুলি হল- ‘রূপ তেরা মস্তানা (১৯৬৯)’‚ ‘দিল অ্যায়সা কিসি নে মেরা তোরা (১৯৭৫)’‚ ‘খাইকে পান বনারসওয়ালা (১৯৭৮)’‚ ‘হাজার রাহে মুড়কে দেখি(১৯৮০)’‚’পগ ঘুঙরু বাঁধ (১৯৮২)’‚’অগর তুম না হোতে(১৯৮৩)’‚ ‘মঞ্জিলে আপনি জগহ (১৯৮৪ )’‚ ‘সাগর কিনারে (১৯৮৫)’।

শেষ জীবনে একেবারে একাকীত্বে দিন কাটিয়েছেন তিনি, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের একাকীত্বের কথা বলেছেন তিনি। কিশোর কুমার ছিলেন বাপ্পি লাহিড়ীর মামা।

১৯৮৭ সালে ১৩ অক্টোবর মুম্বইতে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তী শিল্পী। সুখবর বাংলা পরিবার কিংবদন্তী শিল্পী কিশোর কুমারকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছে এবং তার আত্মার চির শান্তি কামনা করছে ।

এসি/

আরো পড়ুন: 

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ

 

 

 

 

 

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ